ইউনূস সাহেবের কথিত সরকার এখন লাইভ সাপোর্টে। কিন্তু পরিস্কার নয় তার সাপোর্টটি কে খুলবেন, সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নাকি অন্য কেউ। কারণ মার্কিন ডিপ স্ট্রেটের কাছে ইউনূস এবং তার লোকজনদের প্রয়োজন শেষ।কারণ ডিপস্ট্রেট কখনই এমন লোককে বেশী দিন ক্ষমতায় রাখতে চায় না, যাকে দিয়ে তাদের স্বার্থ সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিফলিত না করা যায়। এখন অনেকেই বলছেন যে শুধু ডিপস্ট্রেটই নয়, বাংলাদেশ সেনা, ডিজিএফআই এবং ভারতও নাকি চেয়েছিল হাসিনা সরকারের পতন হোক। হঠাৎ কেন এমন প্রচার করা হচ্ছে, এর পিছনে কি ভারত এবং আওয়ামীলীগের মধ্যে বিভেদ ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি আওয়ামীলীগের অনেক নেতাও মনে করেন যে বহু কারণে ভারত সরকার শেখ হাসিনার উপর খুশি ছিল না। কারণ হিসাবে তারা বলছেন শেখ হাসিনা মৌলবাদী শুক্তিকে উৎসাহিত করছিলেন।এছাড়া চিনের সঙ্গে বেশী ঘনিষ্ঠতা এবং দেশের মধ্যে গনতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দমন পীড়ন।এই কারণে নাকি শেখ হাসিনা ভারতের কাছে বোঝা হয়ে গিয়েছিলেন। তাই নাকি ভারত চাইছিল যে শেখ হাসিনাকে অস্থায়ী ভাবে হলেও একটা ঝাকুনি দিতে। এসবও নাকি শেখ হাসিনার পতনের কারণ।
যেটা নাকি ভারতও চেয়েছিল বলে বলা হচ্ছে।আসলে শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সবসময় বন্ধ্যুত্বপূর্ণ হলেও কৌশলগত ভাবে ভারসাম্যপূর্ণও ছিল। শেখ হাসিনা কখনই দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব্য করেন নি। তাই যারা এরমক মনে করছেন যে ভারতও চেয়েছিল সেখ হাসিনার পতন।তাদের এই ধারণার পিছনে আদৌও কোন যুক্তি আছে কিনা। ভারত দীর্ঘদিন ধরে শেখ হাসিনার উপর নির্ভর করেছে নিরপত্তা জনিত কারণে।বিশেষ করে উত্তরপূর্ব ভারতের বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী গুলোকে আশ্রয় না দেওয়ার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা যে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছেন, তার জন্য ভারত তার কাছে কৃতজ্ঞ। শুধুমাত্র দেশের অন্দরে সরকার চালানোর ক্ষেত্রে হাসিনার কিছু ভুল পদক্ষেপের কারণে ভারত কখনই চাইবে না যে শেখ হাসিনার পতন হোক। কারণ ভারত চীনের মত দেশ নয়, চিনের কাছে আওয়ামীলীগ বা জামাত বিএনপি সবই এক। কারণ তাদের কাছে শুধু ব্যবসার মূল্য আছে, সম্পর্কের কোন মূল্য নেই।বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর যে ওদেশের মানুষজন ক্ষুব্ধ তা জানতো নয়া দিল্লি। এমন কি শেখ হাসিনাকে গদিচ্যুত হতে হবে তাও জানতো ভারত। পদ্মা পাড়ে যে বিদেশি শক্তির মদতে ক্রমশ জোরালো হচ্ছে হাসিনা বিরোধী হাওয়া, তাও খবর ছিল ভারতের গোয়েন্দাদের কাছে।
কিন্তু তা সত্ত্বেও কেন কোনও পদক্ষেপ করেনি নয়া দিল্লি? আসলে অন্য রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীন বিষয় বলে হস্তক্ষেপ করেনি ভারত। বিগত দিনে হাসিনা সরকার পতনের পর বিদেশ মন্ত্রকের অ্যাডভাইসরি কমিটির মুখোমুখি হয়ে এমনটাই জানান বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। জয়শঙ্কর পরামর্শদাতা কমিটির সদস্যদের বলেন ‘শেখ হাসিনার কোনও সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা ভারতের ছিল না। নয়া দিল্লি তাঁকে কেবল পরামর্শ দিতে পারত’। বিদেশ মন্ত্রকের পরামর্শদাতা কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের কেসি বেণুগোপাল, মণীশ তিওয়ারি, উদ্ভব সেনার প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী।
নিজের বক্তব্যের সমর্থনে জয়শঙ্কর রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিভাগের প্রধান ভলকার টার্কের কথা উল্লেখ করেছেন। রাষ্ট্রসংঘ হাসিনা বিরোধী বিক্ষোভের সময় নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি না চালাতে বাংলাদেশের সেনাকে সতর্ক করেছিল। ভলকার টার্ক জানিয়েছিলেন তাহলে রাষ্ট্রসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনী থেকে বাংলাদেশ সেনাকে বহিস্কার করা হবে। রাষ্ট্রসংঘের এই বার্তা পাওয়ার পরই বাংলাদেশ সেনা হাসিনার পাশ থেকে সরে যায়। এই প্রসঙ্গে চিন এবং পাকিস্তানকে তোপ দাগেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন ওই দুটি দেশ বাংলাদেশের এই পরিস্থিতির নেপথ্যে ছিল। এই অর্থে হাসিনা সরকার পতন চেয়েছিল ভারতও এই কথা সঠিক নয়।












Discussion about this post