টেপ রেকর্ডারের আবিষ্কার যখন হয়নি, তখন লোকে গান শুনত রেকর্ড প্লেয়ারে। তারও আগে ছিল দম দেওয়া কল। রেকর্ড চাপিয়ে দেওয়ার আগে ভালো করে স্প্রিং ঘুরিয়ে দেওয়া হত। তারপর প্লেয়ারের চাকা ঘুরতে শুরু করলে আস্তে করে পিনটাকে রেকর্ডে বসিয়ে দেওয়া হত। আর চোঙা থেকে শোনা যেত শিল্পীর কণ্ঠ। রেকর্ডের কোথাও যদি একটু দাগ থাকলে পিনটা সেখানে বসে যেত আর একই কথা বারবার শোনা যেত।
বিখ্যাত একটি আধুনিক গানের উল্লেখ করে বিষয়টা বোঝানো যেতে পারে। ‘দ্বীপ ছিল, শিখা ছিল’ গানের কথাই ধরা যাক। গানটা বাজছে, বাজছে। ‘ঝর্ণা কেমনে হয় নদী’। এই জায়গায় রেকর্ডে একটু দাগ ছিল, যাকে বলে স্ক্র্যাচ। পিন সেখানে গিয়ে পড়েছে আর বারে বারে একটাই কথা শোনা যাচ্ছে – ‘ঝর্ণা কেমনে হয় নদী’, ‘ঝর্ণা কেমনে হয় নদী’, ‘ঝর্ণা কেমনে হয় নদী’, ‘ঝর্ণা কেমনে হয় নদী’, ‘ঝর্ণা কেমনে হয় নদী’, ‘ঝর্ণা কেমনে হয় নদী’, ‘ঝর্ণা কেমনে হয় নদী’, ‘ঝর্ণা কেমনে হয় নদী’। ওই জায়গাটা থেকে আস্তে করে পিনটা সরালেই ঝামেলা মিটে যায়। কিন্তু যিনি শুনছেন, তিনি ওই কষ্টটুকু করতে নারাজ। বারে বারে তাঁর ওই লাইনটা শোনার খুব সাধ জেগেছে।
আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সরকার প্রধান হলেন সেই শ্রোতা, যিনি বাংলাদেশে কোনও কিছু ঘটলেই ভারতের বিরুদ্ধে কিছু না কিছু বলে বসবেন। সেটা না করতে পারলে, তার পেট গুড়গুড় করে। গলা দিয়ে টক জল ওঠে। থেকে থেকে হাই তোলেন। ঘুম না এলে পায়চারি করেন। হাসিনাকে নিয়ে গত দেড় বছর ধরে এক রেকর্ড বাজিয়ে এসেছেন। কিন্তু লাভ হয়নি। তাই, ওই রেকর্ডের পিনটা একটু সরিয়ে গানের পরের অংশ বাজাতে শুরু করেছেন। এবার হাদিকে নিয়ে। কে বা কারা গুলি করল, আর দোষ চাপাল ভারতের দিকে। আর এই ওসমান হাদি যখন দিনের পর দিন ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলে এসেছে, তখন কিন্তু একাবারের জন্য ইউনূস বা তাঁর সরকারের কারও মনে হয়নি যে হাদিকে বলা – এবার মুখটা বন্ধ করতেই হবে। অনেক হয়েছে। তখন কিন্তু যমুনাভবনের বাসিন্দার মনে হয়নি যে দিল্লির সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা করার দায় তাঁর।
আসলে হাদিকে গুলি করার পর তদারকি সরকারের মনে হয়েছে, এবার ভারতের বিরুদ্ধে কিছু বলতে হবে। হাসিনা ইস্যু আপতত ব্যাকসিটে। হটসিটে হাদি। হাদিকাণ্ড কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোনও কোনও প্রান্ত থেকে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন বানচাল করার একটা প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল। জামাতের তরফে বলা হয়েছে, হাদিকে যারা গুলি করেছে, তাদের আগে চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া দরকার। সেই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোট স্থগিত রাখাই বাঞ্ছনীয়। আসলে এটা মাটি আঁকড়ে বেঁচে থাকার একটা প্রয়াস।
শুরুটা হয়েছিল গত বছর থেকে। আমাদের দর্শকদের নিশ্চই মনে আছে, ত্রিপুরায় বন্যা হয়েছিল। আর এই হাদি বলেছিলেন, এটা ম্যান মেড বন্যা। ভারত ইচ্ছাকৃতভাবে ডম্বুর বাঁধের জল ছেড়ে দিয়েছে। পরবর্তীকালে ইলিশ নিয়ে রাজনীতি, সেভেন সিস্টার্স কেড়ে নেওয়ার হুমকি – গত দেড় বছরে পদ্মার ওপার থেকে একের পর এক ভারত-বিদ্বেষী কথাবার্তা শোনা যায়। আর ইউনূস সাহেব বসে বসে সে সব তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করেছেন। হাদির বক্তৃতা ছিল তার কাছে এন্টারটেন্টমেন্ট। সেই লোকটাকে এভাবে কেউ গুলি করলে কার মন ভালো থাকে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post