সত্যজিৎ রায়ের ‘হীরক রাজার দেশে’ ছবির হীরক রাজের এই সংলাপটা মনে করে – ‘এই মূর্তি দেখে লোকে পায় যেন টের, কত শক্তি ধরে রাজা হীরকের’।
বাংলাদেশের তদারকি সরকারের কাছে ভারত আসলে হীরক রাজা। গত দেড় বছরের বেশি সময়ে সাউথব্লক তাঁর শক্তি দেখিয়েছে। সামরিক দিক থেকে, রাজনৈতিক দিক থেকে অর্থনৈতিক দিক থেকে। ঢাকা এবং উত্তরপাড়াকে সাউথব্লকের তরফে বারে বারে এই বার্তাই দেওয়া হয়েছে – সময় থাকতে থাকতে নিজেদের শুধরে নাও। সময় অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। ফুটবলে যেমন দুই অর্ধে খেলা অমীমাংসিতভাবে শেষ হলে খেলা গড়ায় একস্ট্রা টাইমে। সেখানেও না হলে ট্রাইব্রেকারে। প্রতিটি পর্যায়ে ভারত বাংলাদেশকে বলে বলে গোল দিয়েছে। এত গোল দিয়েছে, যে সেই গোল হজম করতে না পেরে তদারকি সরকার প্রধানের বদহজম হয়ে গিয়েছে। এবার সাউথব্লক বদহজমের একটা নতুন কৌশল নিল। শত হলেও ব্যাপারটা তো শরীর-স্বাস্থের সঙ্গে জড়িত। শরীর ভালো না থাকলে মেজাজ ভালো থাকে না। তাছাড়া ইউনূসের তো বয়স হয়েছে। এই বয়সে শরীর খারাপ হওয়াটা ঠিক নয়।
তাই, তাঁর শরীর, মেজাজ, মন ভালো রাখতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন বা হু) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে অনির্দিষ্টকালের ছুটি থেকে ফিরিয়ে নিয়ে স্বপদে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁকে ছুটিতে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য তদারকি সরকারের থেকে লাগাতার চাপ দেওয়া হয়েছিল। কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয় পুতুল দুর্নীতিতে জড়িত। করেছেন জালিয়াতি আর ক্ষমতার অপব্যবহার। তদারকি সরকারের মামলাটাই যে বড়ো দুর্নীতি, তা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। একই কায়দায় তো হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল। হাসিনা বর্তমানে দিল্লিতে। আর সায়না ওই দায়িত্ব পাওয়ার পর দিল্লিতেই রয়েছেন।
আর পুতুলকে তাঁর পদে ফিরিয়ে আনার কাজটি নিঃশব্দে করে গিয়েছে ভারত। সেটা এতটাই গোপনীয়তার সঙ্গে হয়েছে, যে তদারকি সরকার প্রধান এবং তাঁর নবরত্ন সভার একজন সাংসদও টের পাননি। এখন বিভিন্ন গণমাধ্যম মারফত পুতুলের প্রত্যাবর্তনের খবর শুনে তারা কপাল চাপড়াচ্ছেন। কারণ, এই ক্ষেত্রেও ভারতের কূটনৈতিক চালের কাছে কুপোকাৎ তারা।
আসলে তদারকি সরকার সব থেকে বড়ো ভুল করেছে ভারতের সঙ্গে বিরোধিতা করে। ইউনূস এবং তাঁর অদ্ভূত, কিম্ভুত, বিদঘুটে, ঘুটঘুটে পারিষদরা ভুলে গিয়েছিলেন মোদি সরকারে রয়েছে ‘পঞ্চপাণ্ডব’। আমাদের দর্শকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া যাক। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী, স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন। মাথায় রয়েছেন রাজনাথ সিং, অমিত শাহ। এই পঞ্চপাণ্ডবের সঙ্গে লডা়ই করার দুঃসাহস কেউ দেখায়নি। আগামীদিনেও কেউ দেখানোর সাহস করবে না।
জুলাইয়ে তাঁকে ছুটিতে পাঠানোর পর হু-য়ের ওয়েবসাইট থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালকের পেজটি সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে সদস্যদেশগুলির চাপের মুখে পুনরায় তা যুক্ত করা হয়। বর্তমানে ওই পেজে সায়মা ওয়াজেদের নাম ও ছবি রয়েছে। প্রসঙ্গত সায়মা ওয়াজেদ ২০২৪-য়ের ১ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের মেয়াদে আঞ্চলিক পরিচালকের দায়িত্ব পান। মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৯-য়ের শুরুতে। ভারতসহ সমর্থনকারী দেশগুলি চাইছে তিনি যেন পুরো মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post