পদ্মার ওপারে এতোদিন হুমকি শোনা যেত কয়েকজন উঠতি নেতাদের গলায়, যাদের গোফের রেখা গজায়নি। বিগত ১৫-১৬ মাসে তারা কত কিই না বলেছে। সেভেন সিস্টার্স কেড়ে নেওয়ার হুমকি। ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেওয়ার শাসানি। তাদেরকে ভারতের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়ার ধমকি। শিলিগুড়ি করিডোর বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার হুমকি। এমনকী বাংলাদেশের মাটিতে বসে হয়েছে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের নীল নকশা। সেই নকশা তারা কার্যকর করেছে। হাদির মৃত্যুর সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ভারতকে। দাবি করা হয়েছে, হাদিকে মারতে দিল্লি থেকে ভাড়াটে গুণ্ডাদের পাঠানো হয়েছিল। তারা তাদের অপারেশন চালিয়ে আবার দিল্লি ফিরে গিয়েছে। যদি এই দাবির সপক্ষে তারা কোনও প্রমাণ পেশ করতে পারেনি। একবার বলছে, ভাড়াটে গুণ্ডারা গুয়াহাটি চলে গিয়েছে। একবার বলছে মিজোরামে রয়েছে। ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনারকে ডেকে বেইজ্জত পর্যন্ত করা হয়েছে। দিল্লি তার প্রত্যুত্তর দিয়েছে ঠিকই। কিন্তু এবার যে প্রান্ত থেকে ভারতের জন্য হুমকি এল, তাতে সাউথব্লক রীতিমতো ভাবিত। হুমকি মৌখিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রইল না, রীতিমতো বিবৃতি জারি করা হয়েছে। ঢাকার এই হুমকি বা হুঁশিয়ারি, যাই বলা হোক না কেন, সেটা বেশ উদ্বেগের। সাম্প্রতিক অতীতে তারা ভারতকে এভাবে শাঁসিয়েছে বলে কেউ মনে করতে পারছে না। অনেকে অবশ্য বলছে, সাউথব্লক সীমান্তে যেভাবে ঘুটি সাজিয়েছে, তাতে চাপে পড়ে গিয়েছে ঢাকা। তাই, পালটা চাপ দিতে তারা এই রাস্তায় হাঁটার সিদ্ধান্ত নিল। কী হুমকি দেওয়া হয়েছে? আর দিলই বা কে? এই সাহস তারা পেলই বা কোথা থেকে।
ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। তারা তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যে একটি বিবৃতি জারি করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আগামী ২৯ এবং ৩০ ডিসেম্বর বঙ্গোপসাগরের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় ভারী গোলাবর্ষণের কার্যক্রম চলবে। এই সময় ওই অঞ্চলে সমস্ত ধরনের জলযান চালাতে অনুরোধ করা হচ্ছে। ’ এই ঘোষণার পর থেকে আন্তর্জাতিকমহলে একটা প্রশ্ন ঘুরতে শুরু করেছে? তাহলে কি বাংলাদেশ সরাসরি ভারতের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে যাওয়ার জন্য মানসিক দিক থেকে প্রস্তুতি নিতে শুরু করল।
বাংলাদেশ নৌবাহিনী কক্সবাজার এবং হাতিয়ারের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়বে। সেজন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বাংলাদেশের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরি-দফতরের (আইএসপিআর) তরফে জানানো হয়েছে, আগামী সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) এবং মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এই দুই দিন বাংলাদেশ সেনা মিসাইল ছুড়বে। ওই দু’দিন যাতে কক্সবাজার এবং হাতিয়ারের মধ্যেকার সমুদ্রে কোনওরকম নৌযান চলাচল না করে, সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সুরক্ষাজনিত কারণে ট্রলার, মাছ ধরার নৌকা-সহ সব ধরনের নৌযান চলাচলের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
কোনও কোনও প্রান্ত থেকে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের তরফে এই নির্দেশিকা আসলে হুমকির সমান। বিষয়টা অনুরোধ হলে তার বয়ান আলাদা হত। কিন্তু তাদের নৌবহাহিনী যে বয়ান জারি করেছে, সেই বয়ানে অনুরোধের লেশ মাত্র নেই। ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক কেমন, তা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। সম্পর্ক একেবারে সাপে নেউলে। পদ্মাপারে দুই সংখ্যালঘু হিন্দুকে খুন করা হয়েছে। একজনকে তো আবার পিটিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে দড়িতে ঝুলিয়ে তাকে জ্বালিয়ে দিয়েছে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে ঘটল আরও একটি অপমৃত্যু। এবার তাদের নৌবাহিনী ভারতের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে শুরু করেছে। ফলে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা কোনও মহল আন্দাজ করতে পারছে না।












Discussion about this post