বাংলাদেশের অ-সরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) বৈদেশিক অনুদানের পরিমাণ সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর তথ্য অনুসারে, চলতি অর্থবছরের (২০২৪-২৫) প্রথম কয়েক মাসে অনুদানের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় প্রায় ২১ শতাংশ বেড়েছে, যা দেশের উন্নয়ন খাতে নতুন গতি সঞ্চার করেছে।
এই বৃদ্ধি মূলত দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কাজ করা প্রকল্পগুলোর কারণে ঘটেছে। এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বৈদেশিক অনুদানের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ২২০ কোটি টাকায়, যা গত ২৫ বছরের মোট অনুদানের (১ লাখ ১৯ হাজার ২২১ কোটি টাকা) একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা এবং জলবায়ু-সংবেদনশীল এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্প।
ব্যুরোর এক কর্মকর্তা জানান, “পূর্বের বছরগুলোতে কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে অনুদান ১৪ শতাংশ কমেছিল, কিন্তু এখন পোস্ট-প্যান্ডেমিক পুনরুদ্ধারে দাতা সংস্থাগুলোর আগ্রহ বেড়েছে।” দেশের শীর্ষস্থানীয় এনজিওগুলো যেমন ব্র্যাক, আশা এবং ট্রাস্টের মতো সংস্থাগুলো এই অনুদানের প্রধান পাওনাদার।
ব্র্যাকের এক কর্মকর্তা কাজী আবু মোহাম্মদ মোর্শেদ বলেন, “আমাদের সহায়তা কর্মসূচির ৮০ শতাংশ নিজস্ব আয় থেকে চলে, কিন্তু এই ২১ শতাংশ বৃদ্ধি আমাদের গ্রামীণ উন্নয়ন এবং নারী ক্ষমতায়ন প্রকল্পকে আরও শক্তিশালী করবে।” তবে, ছোট-মাঝারি এনজিওগুলোর জন্য এখনও চ্যালেঞ্জ রয়েছে, কারণ অনুদানের বড় অংশ (প্রায় ৭০-৮৪ শতাংশ) শীর্ষস্থানীয় সংস্থাগুলোর মধ্যেই বণ্টিত হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই অনুদান বৃদ্ধি দেশের দারিদ্র্যের হার কমাতে সাহায্য করবে, তবে এনজিও খাতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার প্রশ্নও উঠেছে। সরকারের পক্ষ থেকে এনজিওগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এনজিও ফাউন্ডেশনের মতো স্থানীয় সংস্থাগুলো এখন ছোট এনজিওগুলোকে ক্যাপাসিটি বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করছে।
উন্নয়ন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ২১ শতাংশ বৃদ্ধি যদি টেকসই হয়, তাহলে বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে এনজিওগুলোর ভূমিকা আরও মজবুত হবে। তবে, দাতাদের সাথে আরও ভালো সমন্বয় এবং স্থানীয় উদ্যোগ বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া দরকার। এই ইতিবাচক প্রবণতা দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য আশার আলো জ্বালিয়েছে।











Discussion about this post