বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলছে তুমুল প্রস্তুতি। কিন্তু এখনও নব গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি এখনও নিবন্ধন পায়নি। কিন্তু এখনই দলের প্রতীক নিয়ে তাঁদের আবদার মিটছে না। এনসিপি দলীয় প্রতীক হিসেবে দাবি করেছিল শাপলার। কিন্তু বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিল তাঁদের তালিকায় শাপলা নেই, তাই এনসিপিকে ওই প্রতীক দেওয়া যাবে না। মঙ্গলবার বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এই কথা জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির শাপলা প্রতীক পাওয়ার সুযোগ নেই।
এদিকে নিজেদের পছন্দের প্রতীক না পেয়ে ফেসবুকে এক পোস্টে তুমুল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক-উত্তরাঞ্চল সারজিস আলম। সেই সঙ্গে তিনি কার্যত হুমকিও দিয়েছেন। তিনি লেখেন, যেহেতু কোনো আইনগত বাধা নেই, তাই এনসিপির মার্কা শাপলাই হতে হবে। অন্য কোনো অপশন নাই। না হলে নির্বাচন কীভাবে হয়, আর কে কীভাবে ক্ষমতায় গিয়ে মধু খাওয়ার স্বপ্ন দেখে, সেটা আমরাও দেখে নেব।’ সারজিস আলমের এই ফেসবুক পোস্ট সামনে আসতেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। যেদিন এনসিপি প্রথম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে, সেদিনই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিল এনসিপি শাপলা মার্কা চায়। তাহলে ওই তালিকায় শাপলা মার্কা যুক্ত করা কাদের কাজ ছিল। এত দিন কী তারা নির্বাচন কমিশনে বসে বসে নাটক দেখেছে? নাকি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানে বসে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান, দল বা এজেন্সির কথামতো ওঠবস করেছে?
এদিকে এদিকে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মঙ্গলবার দাবি করেছেন, আসন্ন নির্বাচনে এনসিপির ১৫০ আসনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমরা সেগুলো নিয়ে কথা বলতে সব জেলার সমন্বয়কারীদের ঢাকায় ডেকেছিলাম। আমরা তাদের মাঠে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য কথা বলেছি।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের মতে, এনসিপি কোনও অবস্থাতেই ১৫০ আসনে জেতার মতো অবস্থায় নেই। এমনকি তাঁরা ৮-১০টি আসনে জিতবে কিনা ঠিক নেই। সেই কারণেই পছন্দের প্রতীক নিয়ে সারজিসের এ হেন হুমকি। অনেকেই বলছেন, শাপলা প্রতীক না হলে সারজিস আলম এভাবে হুমকি দেয় কোন সাহসে। এনসিপির কী সেই ক্ষমতা আছে, যে তাঁরা নির্বাচন আটকে দেবে!











Discussion about this post