দক্ষিণ এশিয়াকে ঘিরে আমেরিকা এবং ভারতের মধ্যে যে খেলা চলছে, সেটা ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রবলভাবে আলোচনা চলছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইছে, ভারতকে একঘরে করে দিতে। এবং তার জন্য তিনি একটার পর একটা পরিকল্পনা করছে ভারতকে ঘিরে। এদিকে ভারতকে দেখে অনেক দেশ উৎসাহিত হচ্ছে। কারণ ভারত নিজের জায়গাতে অনড়। অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর পরও মাথানত করেনি ভারত। এরমধ্যে একটি বিষয় উঠে এসেছে। মার্কিন সেনা বাংলাদেশে, অন্যদিকে মিয়ানমারে ভারতীয় সেনা। অনেকে বলছেন, এটা কি ইউনূসের জন্য হুঁশিয়ারী? কেউ কেউ এটি ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারী হিসাবে দেখছেন।
ভারত ও মিয়ানমারে বর্ডার শেয়ার করছে বাংলাদেশ। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশে ছিল, ততদিন তেমন কোনও ঘটনা দেখা যায়নি। যখনই ইউনূস সরকার বাংলাদেশের সিংহাসনে বসল, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ হল, তখনই একের পর এক ঘটনা ঘটছে। ইন্দো প্যাসিফিকে আমেরিকা একটি জায়গা করতে চায়। কারণ আমেরিকা চায়, একযোগে ভারত ও চীনের উপর নজরদারি চালাতে। এটার জন্যই একটি বড় ইস্যু দেখা যাচ্ছে। তাই টার্গেট করেছে বাংলাদেশকে। প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র ইউনূসের দেশের উপর শুল্ক চাপালো। এরপর অনুরোধে সেটা কমিয়েও দিল। যেই শুল্ক সমাধান হল, তখনই আমেরিকার সেনা বাংলাদেশে পৌঁছয়। অনেকে বলছে, সুকৌশলে বাংলাদেশে ইউনূসকে বোকা বানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে প্রবেশ করছে, নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য। তাই নজরদারি করার জন্য সাহা আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ৯২ জন মার্কিন সেনা। তারা অবস্থান করছে চট্টগ্রামে। আরও জানা যায়, সি-১৩০জে হারকিউলিস বিমানে করে এসেছে। যে বিমান দেখা গিয়েছিল পাকিস্তানে। যদিও জানা যায়, বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর সঙ্গে তারা বিভিন্ন মহড়ায় অংশ নিচ্ছে।
আইএসপিআর বলছে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক এয়ার ফোর্সের অংশগ্রহণে সাত দিনব্যাপী যে যৌথ মহড়া চলছে, তার অংশ হিসেবেই মার্কিন সেনারা চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। চট্টগ্রামের বিমানবাহিনী ঘাঁটি জহুরুল হকে ‘অপারেশন প্যাসিফিক অ্যাঞ্জেল ২৫-৩’ নামের এই যৌথ মহড়ার উদ্বোধন করা হয় গত রবিবার। ঘাঁটি জহুরুল হকের অধিনায়ক, এয়ার ভাইস মার্শাল হায়দার আব্দুল্লাহ মহড়ার উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক এয়ার ফোর্সের সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ৮০ টি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারবেস রয়েছে। সেখান থেকে তারা বিশ্বকে নজরদারি চালাতে পারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ। আর তথ্য দেখলে দেখা যাবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ঘাঁটি গেড়েছে, সেই দেশের পরিস্থিতি একেবারে শোচনীয়।
অন্যদিকে মায়ানমারে ভারতীয় সেনা। জানা যাচ্ছে, মায়ানমারে রয়েছে রিয়েল আর্থ এলিমেন্ট। যেটার দিকে নজর গিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। কিন্তু যেহেতু সেখানে ভারত ঢুকে পড়েছে, ফলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে কিছুর করার নেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশের। কারণ মায়ানমারের সঙ্গে বেশি সখ্যতা চীনের। এদিকে চীনের সঙ্গে আমেরিকার লড়াই আন্তজার্তিক বিশ্ব বাজারে। ফলে ট্রাম্প যতই বাংলাদেশে মার্কিন সেনা পাঠাক না কেন, তাতে খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না। বলছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে আরাকান আর্মিদের অস্ত্র পাঠানোর জন্য জাতিসংঘের মাধ্যমে আমেরিকা চাইছিল বাংলাদেশকে করিডোর করতে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলি ও সেনাবাহীনির চাপে পিছিয়ে আসে ইউনূসের সরকার। ফলে সেটাও এখন বিশবাঁও জলে। ফলে আন্তজার্তিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চারিদিক থেকে চাপে পড়ে গিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ। বাংলাদেশে সেনা পাঠিয়েও কোনও সুবিধা করতে পারবে না।












Discussion about this post