আওয়ামীলীগের লকডাউন কর্মসূচি ঘিরে দেশ জুড়ে চলছে টানটান উত্তেজনা। রাজধানী ঢাকায় চলছে কড়া নিরাপত্তা। রাস্তায় রাস্তায় রয়েছে চেক পোস্ট এবং বিভিন্ন জায়গায় চলছে তল্লাশি। ১৩ ই নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা চেয়েছে আদালত। নিষিদ্ধ দল আওয়ামীলীগকে ঠেকানোর জন্য সরকার ও তাদের মিত্ররা রাস্তায় রাস্তায় মহড়া দিচ্ছেন। সরকারের তরফে জনগণকে আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাজার হাজার সদ্যসদের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে যুদ্ধের প্রস্তুতি। কিন্তু এরপরেও দেখা যাচ্ছে অস্থিরতা।
১২ ই নভেম্বর রাস্তা – ঘাট ছিল ফাঁকা, যানবাহন উল্লেখযোগ্য ভাবে কম ছিল এবং যার চিত্র সন্ধের পর আরও বদলে যায়। আওয়ামীলীগের কর্মসূচিকে ঘিরে অনলাইনে ক্লাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শহরের বহু স্কুল ও কলেজ। বেসরকারি বিশ্ব বিদ্যালয়ের তরফে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরে তারা সরকারের চাপে পড়ে তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সড়ে আসে। অনেকে আবার কৌশলগত অবস্থান নিচ্ছেন। প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও বন্ধ রাখা হবে বিশ্ব বিদ্যালয়ের বাস। রাজধানীর অনেক কর্পোরেট সেক্টর ওয়ার্ক ফ্রম হোমের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লকডাউন ঠেকাতে বদ্ধ পরিকর সরকার। আওয়ামীলীগের কার্যক্রম বন্ধ করতে সব ধরণের নজিরবিহীন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে। এত কিছুর পরেও নগরে দেখা যাচ্ছে কর্মসূচির প্রভাব। তার আগে দেখা গেছিল ঝটিকা মিছিল, পড়ে ঝটিকা মিছিল রূপ নেয় বড় মিছিলে। তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ে সরকারের গ্রেফতারি। কিন্তু এত কিছুর পরেও সরকারিভাবে নিষিদ্ধ সাবেক শাসক দল নিজেদের অস্তিত্ব প্রমান করতে পেরেছে। এ সকল কিছুতে প্রশাসন এত ভীত যে তারা মানুষের আস্থা জোগাতে পাল্টা প্রচারে নেমেছে।
এর মধ্যেই দেশের কয়েকটি জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, অগ্নিসংযোগ কড়া হয় বহু বাসে। বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রাণ হারান একজন। এ সকল ঘটনার জন্য সরকার ও তাদের মিত্রদের তরফ থেকে দায়ী কড়া হয়েছে আওয়ামীলীগকে। আওয়ামীলীগের পাল্টা দাবি, সরকার ঘনিষ্টরাই এ ধরণের নাশকতা করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সমর্থকেরা ১৫ মাস আগে নাগরিকের মোবাইল ফোন চেকের বিরুদ্ধে সরব হলেও এখন তারা নিশ্চুপ। বিভিন্ন জায়গায় মোবাইল ঘেটে দেখছে পুলিশ। এ কাজে অংশ নিয়েছে সরকারের সমর্থকেরাও। লকডাউনকে সফল করতে আওয়ামীলীগের ব্যাপক প্রচার ও সরকারের উৎকণ্ঠা এবং রাস্তায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সবমিলিয়ে সারা দেশে চলছে শঙ্কা।












Discussion about this post