৫ ই আগস্ট জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হল। প্রকাশ করলেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস।উপস্থিত ছাত্রনেতা, উপদেষ্টা থেকে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সমস্ত আধিকারিক। আর সেখানে দাঁড়িয়ে চট্টগ্রামে পুলিশের এসপি জুলাই ঘোষণাপত্র অনুষ্ঠানে একটি মন্তব্য করেছেন। যা ঘিরে রীতিমত আলোচনা চলছে। এমন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তিনি বলেছেন, আপা আর আসবে না। কাকা আর হাসবে না। কিন্তু হঠাৎ একজন পুলিশ কর্তা রাজনৈতিক কথাবার্তা কেন বলতে গেলেন? এই প্রশ্নে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এমনকি শেখ হাসিনা সরকারের সময় অনেকে অভিযোগ তুলেছিলেন। অনেকে বলেছিলেন, তার জমানায় সমস্ত পুলিশ আওয়ামী লীগ হয়ে গিয়েছিল। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই একই পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাহলে আর বদল ঘটলো কোথায়? তবে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতীতে বহু বিষয়ে উঠে এসেছে। যেটা ঘিরে আলোচনা চলছে রাজনৈতিক আঙিনায়।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু রাজনৈতিক বিদ্যের মতো বলেছেন, ষড়যন্ত্রকারীদের জানিয়ে দিন, আপা আর আসবে না। ৫ আগস্টের পর তাদের পরিকল্পনা থেমে নেই। তাদের হাতে প্রচুর অর্থ, তারা চেষ্টা করছে আমাদের বিভ্রান্ত করতে। তিনি না থেমে বলেন, আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স ব্যবহার করে একটি দলকে আরেক দলের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই, ভেতর থেকে ঐক্য ভেঙে দেওয়া। এটি সাইবার যুদ্ধের অংশ, যেখানে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এজন্য যারা জুলাই অভ্যুত্থানে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তারপর তিনি বলেন, আপা আর আসবে না। কাকা আর হাসবে না।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা ছাত্র নেতারা এগুলি বলতেই পারে। কিন্তু একজন পুলিশকর্তা হয়ে আদেও কি এই বক্তব্য রাখতে পারেন?
এমনকি তিনি বলেন, বিভিন্ন এআই ভিডিও করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে দ্বন্দ্ব লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এমনকি বিএনপি, এনসিপি রাজনৈতিক দলগুলির নাম করে কথা বলেন পুলিশ কর্তা। অনেকেই বলছেন, পুলিশের তো কাজ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা। তাহলে কেন এমন বক্তব্য রাখলেন তিনি? এমনকি তিনি বলেন, আপনাদের মধ্যে ঐক্য নষ্ট করা হচ্ছে। সেটা আপনারা খেয়াল করছেন না। যদি আপনারা খেয়াল না করেন, তাহলে মনে রাখবেন শত্রুরা সুযোগ পেয়ে যাবে।
এদিকে শেখ হাসিনার জমানায় যখন তিনি পুলিশ সুপার হলেন, তখন তিনি ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লেখেন, পুলিস সুপার হিসাবে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে পলায়ন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মাননীয় সিনিয়র সচিব এবং বাংলাদেশের পুলিশে আদর্শ আমার আইকন। এমনকি তিনি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
এখানেই ওয়াকিবহাল মহল বলছে, যখন শেখ হাসিনার জমানা ছিল, তখন তিনি অতিরিক্ত আওয়ামী লীগ পন্থী হওয়ার চেষ্টা করেছেন। এখন তার সরকার পতনের পর, নতুন সরকারের তাবেদারী করছেন। এটাই একজন পুলিশ কর্তার জন্য ভয়ংকর। দেশের জন্য ভয়াবহ।












Discussion about this post