বাংলাদেশের বর্তমান যে পরিস্থিতি, তাতে প্রশ্ন উঠছে শাসন ব্যবস্থায় কি বড়সড় কোনও পরিবর্তন হতে চলেছে? বড়োসড়ও কি কোনও রদবদল বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থায়? রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে কি সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে? নতুন কোনও রাষ্ট্রপতি আসছে? সেই রাষ্ট্রপতি কি কোনও রাজনৈতিক দলের প্রধান? নাকি রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মহম্মদ ইউনূস? আর প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন কোনও এক দলের প্রধান? উপদেষ্টা পরিষদ থেকে নাকি অনেক উপদেষ্টা কে বাদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর সেটা হবে জুলাই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে। আর এখানে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি নির্বাচন আর হবে না? তবে কি এমন অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থা চলবে? আর যদি সেটাই হয়, তবে কি বিদেশিদের থেকে বাংলাদেশ কোনও সুযোগ পাবে? কারন অস্থায়ী সরকারের সঙ্গে কেউ কাজ করতে চায় না। অনেকে আবার এটাও বলছেন, এবার পালা হয়তো সেনাপ্রধানেরও!
সূত্রের খবর, জুলাই মাসেই জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করার জন্য তৈরি হচ্ছে ছাত্র নেতারা এবং সরকার। রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ঐক্যমত না হলেও জুলাই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে বলে জানা যাচ্ছে। আর সেখানেই রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে সরিয়ে দিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতির কথা ভাবা হচ্ছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি, উপদেষ্টা পরিষদেও যোগ্যদের রেখে অযোগ্যদের চিহ্নিত করে বহিষ্কার করা হবে বলেও খবর উঠে আসছে। এমনকি জুলাই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে সংবিধান স্থগিত করা হবে। এমনকি এই খবর চাউর হচ্ছে, মহম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে মসনদে বসবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এমনকি উপ প্রধান উপদেষ্টার পদ তৈরি করে জামাতের আমির শফিকুর রহমানকে বসানো হবে। এমন একটি আভাস তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের অন্দরে।
প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে, যে সংবিধান স্থগিত করে দেওয়া হবে বলে বলা হচ্ছে, সেই জায়গায় নতুন সংবিধান কি তৈরি করা হয়েছে? আর যদি সংবিধান তৈরি এখনও না হয়, তবে কিসের ভিত্তিতে আদালতে বিচার প্রক্রিয়া হবে? তাহলে তো আদালত পুরো স্থগিত হয়ে পড়বে? সেক্ষেত্রে একটা রূপরেখা উপরে কত প্রয়োজন। তাহলে কি সরকার তলে তলে সংবিধান তৈরি করে ফেলেছে? এই পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা কি হবে? উঠছে এমন প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন। কারন ইতিমধ্যেই খবর উঠে আসছে, নির্বাচন আরো পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। এই মুহূর্তে নির্বাচন নিয়ে কোনো রকমই আলোচনা শোনা যাচ্ছে না।
আরো একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন উঠে আসছে। সেটা হল, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপি নির্বাচন হলে নিশ্চিতভাবে জিতবে। সে ক্ষেত্রে ও গণতান্ত্রিক উপায়ে কেন খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতি হতে যাবেন? কেনই বা তারিখ রহমান প্রধান উপদেষ্টার পদে আসীন হবেন? সেক্ষেত্রে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এক্ষেত্রে যারা পদ পাবে না, তারা সেই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন তৈরি করবে। ফলে বাংলাদেশ আরও বিশৃঙ্খলা তার দিকে যাবে। এমনটাই আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে এটাও আশঙ্কা করা হচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য, এই ধরনের কিছু খবর চাউর করা হচ্ছে। কারণ, যেখানে ক্ষমতা যাওয়া একপ্রকার নিশ্চিত, সেখানে দাঁড়িয়ে অগণতান্ত্রিক উপায়ে কেন ক্ষমতা দখল করবে বিএনপি? এদিকে খবর উঠে আসছে, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরতে চলেছেন। ২৮ শে জুলাই তিনি দেশে ফিরতে চলেছেন। দেশে ফেরার জন্য এই সময়টাকে কেন বেছে নিলেন তারেক রহমান? তবে কি জুলাই ঘোষণাপত্র যোগ দেওয়ার জন্যই দেশে ফিরছেন? নাকি এই ধরনের কোন প্রক্রিয়া যাতে না হয় বাংলাদেশে, সেটা আটকানোর জন্যই তিনি দেশে ফিরছেন? বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর বিচার করে এমন প্রশ্নই উঠছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক আঙিনায়।












Discussion about this post