বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার নাম প্রস্তাব করলেন পিনাকী ভট্টাচার্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি-র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার হাতেই রাষ্ট্র সুরক্ষিত থাকবে বলে দাবি করেছেন প্রবাসী স্বঘোষিত এই সমাজকর্মী। তাঁর ফেসবুক পোস্ট সামনে আসতেই বাংলাদেশ জুড়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী কিভাবে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে অপসারণ করা যায়? এটা কার্যত অসম্ভব, কারণ গত বছর ৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বাংলাদেশের সংসদ ভেঙে দিয়েছিলেন। আবার কোনও কোনও মহল দাবি করছেন, মুহাম্মদ ইউনূসের বাংলাদেশে সবই সম্ভব। সেটা যাই হোক, যদি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে সরিয়ে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াকে বসানো যায়, তাহলে সেই দেশে রাজনৈতিক অঙ্ক পাল্টে যাবে।
গত সোমবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে পিনাকী ভট্টাচার্য লেখে, “নতুন বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি যার হাতে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব আর জাতীয় মর্যাদার পতাকা সব সময় সুরক্ষিত ও সমুন্নত থাকবে”। এই পোস্টটি শেয়ার করার কিছুক্ষণ আগেই পিনাকী আরেকটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, “চুপ্পু যাইতেছে, কে হইতেছে নতুন প্রেসিডেন্ট? উত্তর পাইতে একটু অপেক্ষা করেন”। সবমিলিয়ে একটা টানটান রোমহর্ষক ব্যাপার। বর্ষিয়ান বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া যদি রাষ্ট্রপতি হন বাংলাদেশের, তাহলে কার কী লাভ, আর কার কার সমস্যা হবে, সেটাই এখন মূল চর্চার বিষয় বাংলাদেশে।
পদ্মাপাড়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা অংশ বলছেন, কোনও ভাবে যদি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে সরিয়ে খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রপতি করা যায়, তাহলে তিনি হবেন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতি। এটা শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত সমাজের কাছে একটা বড় বার্তা দেওয়া যাবে। সেই সঙ্গে বিএনপিকেও হাতে রাখতে পারবেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে নির্বাচন করানোর থেকেও তাঁর ক্ষমতায় থাকাটা বেশি জরুরি। এনসিপি-র মতো কয়েকটি রাজনৈতিক দল জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় ভোট করানোর দাবি জানাচ্ছে। আবার জামায়তে ইসলামীর মতো কয়েকটি কট্টরপন্থী দল সংস্কার, সংবিধান পরিবর্তনের মতো দাবিতে গণভোট চাইছেন। খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রপতি করা গেলে সেই দাবিগুলি পরপর মেটানো সম্ভব হবে ইউনূসের। ফলে জাতীয় নির্বাচনও যেমন পিছবে, তেমনই তিনি আরও কিছু সময় ক্ষমতায় থাকতে পারবেন। খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতি হলেই বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে বরখাস্ত করা খুব সহজ হয়ে যাবে মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে। কারণ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যে দুজন এখনও বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় বসে আছেন, তাঁরা হলেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু এবং জেনারেল ওয়াকার। খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতি হলে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে পারবেন মুহাম্মদ ইউনূস। এগুলো যেমন সুবিধার দিক, তেমনই কয়েকটি অসুবিধা রয়েছে।
জামায়তে ইসলামী বাংলাদেশ যেমন নারী ক্ষমতায়নে বিশাসী নয়। ফলে জামাতের পক্ষ থেকে মৃদু প্রতিবাদ আসতে পারে। যদিও কেউ কেউ বলছেন রাষ্ট্রপতি যেহেতু সাম্মানিক ও অলঙ্করিক পদ, তাঁর কোনও নির্বাহী ক্ষমতা নেই। ফলে জামাতকে বুঝিয়ে রাজি করানো সম্ভব। অপরদিকে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, এমন একটা জুটি এই মুহূর্তে বাংলাদেশে দরকার, যারা থাকলে নির্বাচন চেয়ে ঘনঘন দরবার কেউ করবে না। অর্থাৎ বিএনপি ও তাঁদের সহযোগী দলগুলি। বর্ষীয়ান বিএনপি নেত্রী, যিনি শেখ হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশে সবচেয়ে শ্রদ্ধেয় এবং জনপ্রিয় নেত্রী তাঁকেই যদি রাষ্ট্রপতি পদে বসিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে স্থানীয় নির্বাচন ও বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজগুলি যেমন সংবিধান পরিবর্তন করা সম্ভব হয়ে যাবে মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর বাহিনীর কাছে।
কিন্তু এটা যদি সম্ভব করতে পারেন মুহাম্মদ ইউনূস, তাহলে সবচেয়ে বেশি যিনি বিপদে পড়বেন, তিনি হলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। কারণ, এই সেনাপ্রধান শেখ হাসিনার আত্মীয় এবং গত বছর ৫ আগস্ট তাঁকে বাংলাদেশ থেকে চুপিসাড়ে বের করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ। জানা যায়, বিএনপিও চায় না সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার থাকুক। কারণ তারেক রহমানের ওপর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটা গোপন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যার ফলে তারেক লন্ডন ছেড়ে ঢাকায় আসতে পারছেন না, বা ভয় পাচ্ছেন। খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতি হলেই তারেকের সেই ভয় কেটে যাবে এবং তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন বীরের বেশে। রাজনৈতিক নানান মারপ্যাচের কথা চিন্তা করেই পিনাকী ভট্টাচার্য এই মাস্টারস্ট্রোক দিলেন বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। এখন দেখার, অসুস্থ খালেদা জিয়া কি বলেন।












Discussion about this post