বাংলাদেশের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে শুরু করেছে। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল বলছে, দেশে চলছে একটি অনির্বাচিত সরকার। ফলে নির্বাচনের দিনক্ষণ বা ঘোষণা করা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে, এটা ভেবে অনেকে আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু সরকার বলতে শুরু করেছে, নির্বাচন করার পরিবেশ তো দেশে নেই। অনেকে আবার বলছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত, আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনা সরকারের থেকে শিক্ষা নেওয়ার। তার কারণ আওয়ামী লীগ যদি আইন থেকে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিকে উঠতে দেননি। যদি সেটি না করত, তবে হয়তো টিকে থাকত আওয়ামী লীগ। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, মহম্মদ ইউনূসের সরকার একই কাজ করছে।
অনির্বাচিত সরকারের হাতে দেশ একেবারেই সুরক্ষিত নয়। সেই কারণেই মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি দেশের টালমাটাল পরিস্থিতি। বিক্ষোভ, আন্দোলন, বিরোধিতা.. এ যেন আরও একটা অভ্যুত্থানের পথে বাংলাদেশ। পরিস্থিতি শিথিল হলেও ভিতরে ভিতরে অগ্নিগর্ভ। যে কোনও মুহূর্তে হাসিনার মত পরিণতি হতে পারে মহম্মদ ইউনূসের। শেখ হাসিনা সহ তার পারিষদ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু ইউনূস পারিষদ কোথায় আশ্রয় পাবে? প্রশ্ন তো উঠেই যায়। অনেকে বলছেন, পাকিস্তান ছাড়া আর কোনও গতি নেই ইউনূসের। অনেকে বলছেন, শেখ হাসিনা ভারতে বসে আওয়ামী লীগকে সংঘঠিত করছে। আর ইউনুস পালানোর পথ খুঁজছেন। আসলে বাংলাদেশে বড় খেলা সামনে আসতে চলেছে।
গত বছর ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হলে মনে করা হয়েছিল, দেশ আয়ত্তে আসবে। কিন্তু পরিস্থিতি উল্টে গিয়েছে। দেশ আরও ভয়ানক জায়গাতে পৌঁছেছে। তিনি বাংলাদেশের বুকে একটা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরি করতে চেয়েছিলেন। তার উপদেষ্টা এবং ছাত্রনেতাদের সঙ্গে নিয়ে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, তাদের নগ্ন রূপ বেরিয়ে আসছে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৫ জন চাঁদাবাজ গ্রেফতার হয়েছেন। এমনকি এর জেরে সারা দেশের কমিটি বাতিল করা হয়েছে। অনেকে বলছেন, যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে এনসিপির ও সারা দেশের বিভিন্ন কমিটি বাতিল করা হয়েছে। কারণ গোপালগঞ্জ থেকে কক্সবাজার এবং নেত্রকোনায় তারা যেভাবে প্রতিরোধের মুখে পড়ছে তাতে, এমন জল্পনা ছড়াচ্ছে।
এদিকে অনেকে বলছেন, বাংলাদেশের এই ছাত্রনেতাদের পাকিস্তানি যাওয়ার জন্য বিমান তৈরি রাখতে হবে। আওয়ামী লীগের তো যাওয়ার জায়গা ছিল। কিন্তু ছাত্র নেতারা পাকিস্তানে যেতে হলেও ভারতের আকাশ সীমা ব্যবহার করতে হবে। ফলে তারা এখন কোথায় যাবেন, সেটাই সবথেকে বড় প্রশ্ন। এদিকে সেনাপ্রধানও দেশের দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। এমনকি নির্বাচন দিনক্ষণের যে ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, সেটা আসলে একটি কৌশল। তারাও খুব ভালো করে জানে, দেশে নির্বাচনের পরিস্থিতি নেই। ফলে এখন দেখার, শেষমেষ কি পরিস্থিতি তৈরি হয়।












Discussion about this post