বাংলদেশে বেগতিক পরিস্থিতি। ফের বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলন। সেই ছাত্র আন্দোলনকারীরা যমুনার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে খবর। যদিও পুলিশের তৎপরতায় সেটা সফল হয়নি। এরমধ্যেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন শেষ করে দেবেন। কিন্তু তারমধ্যে কি তত্ত্বাবধায়ক সরকার চলে আসবে? এমন প্রশ্ন উঠে আসছে। এই নিয়ে বহু আলোচনা চলছে রাজনৈতিক আঙিনায়। কেউ কেফ বলছেন, একদল ছাত্রদের জন্য ক্ষমতায় বসেছেন তিনি। আর অন্যদিকে আর একদল ছাত্রদের হুঁশিয়ারির মুখে জব্দ ইউনূস।
আন্দোলনরত প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের শাহবাগ অবরোধ থেকে যমুনা অভিমুখে তারা যাওয়ার চেষ্টা করলে, তাদের ওপর পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও জলকামান ব্যবহার করে। এবং লাঠিপেটার ঘটনা ঘটেছে। এদিনের ঘটনায় বহু শিক্ষার্থী আহত হন। প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের ব্যানারে বুধবার বেলা ১১টায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।
পরে দেখা যায়, তারা প্রধান প্রতিষ্ঠার বাসভবন যমুনার দিকে যাত্রা করেন। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে ছাত্রদের বাধা দেয় পুলিশ আধিকারিকরা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, পুলিশের হামলার পর বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আবারও শাহবাগে জড়ো হন তারা প্রত্যেকে। রাত সাড়ে ১০টার পর ওই আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড় ছেড়ে যেতে থাকেন। পুলিস তাদের বাধা দিলেও তারা স্লোগান দিতে থাকে। তারা স্লোগান দেয়, কোটা না মেধা, মেধা মেধা। তাদের প্রত্যেকের মুখে একই বয়ান, ডিপ্লোমা টেকনিশিয়ান। অবৈধ ডিপ্লোমা কোটা অবসান চায়। কোটার নামে অবিচার বন্ধ হোক। এমন সব স্লোগান দিতে থাকে তারা। তাদের তিন দফা দাবি ছিল। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার লিখতে না যাওয়া। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের পদোন্নতি দিয়ে নবম গ্রেডে উন্নীত না করা এবং দশম গ্রেডে চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্নাতক ইঞ্জিনিয়ারদের সুযোগ দেওয়া। এদিকে আন্দোলনরত ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ছাত্রীরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালযের তরফে তাদের দাবিদাওয়া প্রস্তাব দিলে সচিব কমিটি তাদের সমস্যার সমাধান করবে বলে জানিয়েছে। এই বিষয়ে জন প্রশাসনের মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আশ্বাস দিয়েছেন।
অনেকে বলছেন, বাংলাদেশের এই মুহূর্তে বর্তমান যা পরিস্থিতি। তাতে নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়। এবং যদি নির্বাচন হয় তবে ইনক্লুসিভ নির্বাচন হবে কিনা, তা ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শুধু তাই নয়, শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হলে ভারতের কাছে সেটা অবৈধ। বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
এমনিতেই বহু আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দিয়েছে আপিল বিভাগ। আগামী ২১ অক্টোবর এই বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেন। এদিকে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারে রয়েছে, ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করাতে হবে। এদিকে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন হলে, দেশের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হতে পারেন প্রধান উপদেষ্টা। যদি তিনি রাজি না হন, তবে তার আগে যিনি অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ছিলেন, তিনি হতে পারেন। তিনিও যদি রাজি না হন তবে রাষ্ট্রপতি হতে পারেন প্রধান উপদেষ্টা। সেই দিকেই কি এগোচ্ছে বাংলাদেশ? এটাই এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন।












Discussion about this post