খড়ের গাদায় সূঁচ খোজা বলতে ঠিক কী বোঝায়?
আওয়ী লীগের ১৩ নভেম্বরের কর্মসূচি ঘিরে তদারকি সরকার যা করছে, সেটা ওই খড়ের গাদায় সূঁচ খোঁজার নামান্তর। সেনা সরকারের পাশে নেই। পুলিশের একাংশ ইউনূসের পাশ থেকে সরে গিয়েছে। শুধু আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার ‘গুন্ডা দমন শাখার ’ লোক নামিয়েও যে আওয়ামী লীগকে ঠেকিয়ে রাখা যাবে না, সেটা লকডাউন কর্মসূচির প্রথম দিনেই টের পেয়েছে সরকার। তাই, সরকার এখন বলছে সাধারণ মানুষ যেন তাদের তথ্য দিয়ে সাহায্য করে। সেই আহ্বানে মানুষ যে সা়ড়া দেবে না, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগকে চাইছে। দেখতে চাইছে প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে হাসিনাকে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী মঙ্গলবার তিনি জরুরী বৈঠক ডাকেন। সেই বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন। এক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না।’ সন্দেহভাজন কাউকে দেখলেই পুলিশকে দ্রুত খবর দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আর্জি জানিয়েছেন। প্যাট্রোলিং বাড়ানো হয়েছে বলেও তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। এ ছাড়া যেখানে সেখানে খোলা তেল বিক্রিবন্ধ সহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
১৩ নভেম্বরের জন্য সরকারের তরফ থেকে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চাওয়া হলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘প্যাট্রোলিং বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেপিআইগুলির (কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন) নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, বাসে আগুন দেওয়ায় খোলা তেল বিক্রি আপাতত বন্ধ থাকবে। রাজধানী ঢাকাকে আটটি জোনে ভাগ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। ’
এদিকে, বাংলাদেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক ধরপাকড়। মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে ৪৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। পৃথকভাবে তল্লাশি চালায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ দমন শাখা। তারাও বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার রাতে পুলিশ একযোগে তল্লাশি চালায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, ফকিরাপুল, কাকরেল, এলিফ্যান্ট রোড। এই সব জায়গার প্রতিটি হোটেলের রেজিস্টার খতিয়ে দেখে সেখানে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। জানতে চাওয়া হয়, তারা কোথা থেকে, কী কারণে বাংলাদেশ এসেছে। কতদিন থাকবে। এমনকী তাঁদের মোবাইল ফোনও পুলিশ খতিয়ে করে। দেখার চেষ্টা করে মোবাইল ফোনে আওয়ামী লীগের কোনও নেতার ফোন নম্বর রয়েছে কি না।
রামনা ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলাম বাংলাদেশের একটি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে আমরা ঢাকার প্রতিটি হোটেল এবং মেসে তল্লাশি শুরু করেছি। মঙ্গলবার রাতে কলাবাগানের একটি মেস থেকে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমাদের কাছে খবর রয়েছে এই ১১জন নাশকতার পরিকল্পনা নিয়েছে। ’ ওই সংবাদমাধ্যমের তরফ থেকে ডিসিকে প্রশ্ন করা হয়, গ্রেফতারের ভিত্তি কী? জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির গতিবিধি সন্দেহ হলে তাকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। জিজ্ঞাসাবাদ করে যে তথ্য আমরা পাচ্ছি, সেই প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে আমাদের কাছে থাকা তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। সঙ্গতি পেলেই তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। মঙ্গলবার যে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে পাঁচজন গোপালগঞ্জের বাসিন্দা। এদের বিরুদ্ধে অতীতে অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ’
প্রশ্ন হল, এতো কিছু করেও কী আওয়ামী লীগকে ঠেকিয়ে রাখতে পারবে। সূত্র বলছে, সেটা না হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। কারণ, গোয়েন্দারা কোনও ভাবেই আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য পরিকল্পনার ব্যাপারে পুরোপুরি অন্ধকারে।












Discussion about this post