যে কোনও মূল্যে ভারত চিকেন নেক-য়ের ওপর আগ্রাসন রুখতে বদ্ধপরিকর। পূর্ব সীমান্তে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত ও শক্তিশালী করতে ভারত তিনটি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছে। এই তিন ঘাঁটির একটি অসমের ধুবড়িতে। বাকি দুটির একটি বিহারের কিশানগঞ্জ এবং উত্তরবঙ্গের চোপড়ায়। এই তিন সেনাঘাঁটি চিকেন নেক-য়ের নিরাপত্তাকে আরও জোরদার করেছে। বলা হচ্ছে এই তিনি ঘাঁটি তৈরি ভারতের বৃহত্তম সামরিক কৌশলের অঙ্গ। এর মূল উদ্দেশ্য সীমান্তে কৌশলগত ফাঁক পূরণ নজরদারি জোরদার করা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
প্রশ্ন উঠছে সাউথব্লক বা সেনাসদনের শিলিগুড়ি করিডোর কেন আচমকা মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠল। এর মূলে রয়েছে বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সম্পর্ক। আর চিন তো রয়েছে। চিকেন নেককে অনেকে ভারতের দূর্বল অংশ মনে করলেও ভারতীয় সেনার উর্ধ্বতন কর্তারা একে দেশের সবচেয়ে দ্রুত শক্তিশালী করিডোর বলে আখ্যা দিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেনাকর্তা জানিয়েছেন, ‘শিলিগুড়ি করিডোর বহুস্তরীয় নিরাপত্তাবলয়ে সুরক্ষিত। নতুন এই তিন ঘাঁটি আমাদের দ্রুত চলাচল, লজিসটিক্স এবং রিয়েল টাইম গোয়েন্দা তথ্য সংহত করার ক্ষমতা আরও বাড়াবে। ’ ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী কিছুদিন আগে বলেছিলেন, ‘চিকেন নেক’কে আমি দূর্বল অংশ হিসেবে দেখি না। এটা আমাদের সব চেয়ে শক্তিশালী অঞ্চল। কারণ, পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম এবং উত্তরপূর্বাঞ্চলে অবস্থানরত আমাদের সব বাহিনী এখানে মোতায়েন রয়েছে।’ জানা গিয়েছে শিলিগুড়ির কাছে সুখনায় অবস্থিত ত্রি-শক্তি কর্পস এই করিডোরের প্রতিরক্ষা তদারকি করবে। ভারতের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, শিলিগুড়ি করিডোরের আকাশপথের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের হাসিমারা বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন রাফালে যুদ্ধবিমান। এ ছাড়াও রয়েছে মিগ সিরিজের বিমান এবং সুপারসনিক ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র রেজিমেন্ট। রয়েছে বিশ্বের অন্যতম আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি।
পাশাপাশি ভারত এই অঞ্চলে একটি উন্নতমানের ত্রিস্তরীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করেছে। সেখানে রয়েছে রুশ এস ৪০০ ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র, ইজরায়েল ও ডিআরডিও-র যৌথভাবে তৈরি এমআরএসএএম সিস্টেম এবং দেশীয় আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র। এই তিনটি মিলেই যৌথভাবে পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব দিক থেকে আসা বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা কভারেজ দেয়। ভারতের ওই গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, এস ৪০০ প্রযুক্তি মূলত চিন এবং অন্য শত্রুপক্ষের বিমানের অনুপ্রবেশ রোধ করার উদ্দেশ্য নিয়ে স্থাপন করা হয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে কেন এই প্রস্তুতি। এই প্রস্তুতির মূলে রয়েছে চিন ফ্যাক্টর। ডোকলামের ঘটনা নিশ্চই আমাদের সকলের মনে আছে। এই ভূখণ্ড নিয়ে সাউথব্লকের অবস্থান বেশ স্পষ্ট। ভারত-ভুটান-চিন সীমান্তের এই ‘বিতর্কিত’ অংশকে ভারত চিনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে এসেছে। সাউথব্লকের এই ভূমিকায় বেজায় চটে চিন। তবে সাউথব্লকের সঙ্গে বেজিংয়ের সম্পর্ক আগের মতো উষ্ণ না হলেও ভারত কিন্তু সীমান্তে নজরদারি ব্যাপারে গা ঢিলেমি করতে নারাজ। বিশেষ করে বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের তৈরি হওয়া সম্পর্কের নিরিখে। পাশাপাশি চিন ও পাকিস্তানের সম্পর্কের নিরিখে সাউথব্লক সব দিক থেকে নিজেদের প্রস্তুত রাখতে চায়।
ভারতের নতুন তিন সেনা ছাউনির কারণে বাংলাদেশ রীতিমতো চাপে। এর ফলে সে দেশের ওপর বাড়ছে ভূ-রাজনৈতিক চাপ। কারণ, সীমান্ত থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে এই সেনা ছাউনি। আর এই সেনা ছাউনি বাংলাদেশের বিদেশনীতির দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post