বাংলাদেশকে শুধু হাতে নয়, ভাতেও মারার জন্য পরিকল্পনা নিয়ে রেখেছে ভারত। সাউথব্লকের কূটনৈতিক চালে ঢাকা রীতিমতো চাপে। গুলি-বন্দুক ছাড়াও যে একটি দেশের ভিতে প্রবলভাবে আঘাত করা যায়, সেটা আরও একবার বিশ্বকে দেখিয়ে দিল। এই রকম পদক্ষেপ ভারত এর আগে করেছিল পাকিস্তান, আজারবাইজান এবং তুরস্কের বিরুদ্ধে। দিয়েছিল চরম শিক্ষা। এবার চরম শিক্ষা দিতে চলেছে বাংলাদেশকে। এর কারণও রয়েছে। প্রথমত ক্ষমতা নেওয়ার আগে ইউনূসের উস্কানিমূলক মন্তব্য। দেখে নেওয়ার হুমকি। আর ক্ষমতা দখলের পর ঢাকার ভারত-বিদ্বেষী মনোভাব। সাউথব্লক ঢাকাকে এই বার্তাই দিল – ভারত এতোদিন ধরে বন্ধুত্ব, সৌভ্রাতৃত্ব এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। পরিবর্তে জুটেছে বিশ্বাসঘাতকতা। চুপচাপ সহ্য করার দিন এবার শেষ। ঢাকার সঙ্গে আপাতত কোনও কথা নয়।
ঢাকাকে লক্ষ্য করে সাউথব্লক পঞ্চবাণ ছুঁড়েছে। সেই পঞ্চবানের একটি হল পাওয়ার স্ট্রাইক।
আদানি গোষ্ঠী জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশ তাদের বকেয়া না মেটালে তারা আর সে দেশকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে না। আদানির এই সিদ্ধান্তে ঢাকা অন্ধকারে ডুবতে চলেছে। শিল্পতালুকের লাল বাতি জ্বলে গিয়েছে। বস্ত্র শিল্প থেকে শুরু করে সব ধরনের শিল্পের চাকা ঘোরা বন্ধ। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে ঢাকা আগের মতো আর রফতানি করতে পারছে না।
দ্বিতীয় ডিজিটাল স্ট্রাইক। ইন্টারনেটের দরজা বাংলাদেশের জন্য আপাতত বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। ফলে, সেখানে অনলাইনে সব ধরনের লেনদেন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। সে দেশ থেকে যে সব ভারত বিরোধী শক্তি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানিমূলক বক্তব্য বা ভাষণ দিত, তাদের দাপাদাপিও বন্ধ। বাংলাদেশকে ডিজিটালি অন্ধ করে দিয়েছে সাউথব্লক।
তৃতীয় ব্রহ্মাস্ত্র ভারতের ফুয়েল স্ট্রাইক। ভারত বাংলাদেশে সব ধরনের জ্বালানি রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হলে একটা দেশের কী হাল হতে পারে, সেটা সহজেই অনুমান করা যেতে পারে। একটি দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার পক্ষে যদিও কোনও মোক্ষম অস্ত্র থেকে থাকে, তাহলে সেই অস্ত্র হল জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া।
বাংলাদেশের জন্য খাদ্য রফতানির সব পথ সাউথব্লক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বন্ধ চাল পাঠানো, বন্ধ খাদ্য শস্য রফতানি, শাকসবজি। ফলে, সে দেশে তৈরি হয়েছে অভাবনীয় খাদ্য সংকট। বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেকে আগেই দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে। ভারতের এই সিদ্ধান্তে গলাবুক জলে ডুবে গিয়েছে বাংলাদেশ। আর পঞ্চম এবং শেষ বাণ বা ব্রহ্মাস্ত্রিটি হল সীমান্ত ক্লোজড। সীমান্তের ৪৯৬ কিলোমিটার রাস্তা ভারত সিল করে দিয়েছে। ফলে, সীমান্তের ওপারের পণ্য নিয়ে আসা ট্রাকের লাইন পড়ে গিয়েছে। ট্রাকের মধ্যেই নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সামগ্রী। তার মধ্যে যেমন কাঁচা আনাজ রয়েছে। রয়েছে অন্যান্য পণ্য। এদেশে সেই সব পণ্য বিক্রি করে যে মোটা টাকা সংগ্রহ করার একটা রাস্তা ছিল, সেটাও বন্ধ। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্যে।
লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে পঞ্চবাণ সাউথব্লক থেকে যমুনাভবনের দিকে একযোগে ছোঁড়া হয়েছে, সেই পঞ্চবাণ বাংলাদেশের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছে। ভারত বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে, গোলা-বন্দুক, ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়াও যুদ্ধ করা যায়। একটি দেশের মেরুদণ্ডে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করলে সে দেশের পরিণতি কী হতে পারে, বাংলাদেশ তার প্রমাণ। সাধে কি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদে অজিত ডোভালকে বসিয়েছেন।












Discussion about this post