ইতিমধ্যে আমরা জেনে গিয়েছি ভারতে আসতে চলেছেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। দিল্লিতে ২০ জুন কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সপ্তম সম্মেলন শুরু হবে। সেই সম্মেলনে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা। জানা গিয়েছে, খলিলুর রহমানকে দিল্লি আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল স্বয়ং। বাংলাদেশের তরফ থেকে এখনও এই সফর নিয়ে বিবৃতি বা বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। তিনি আসছেন না আসছেন না, তা নিয়ে ইতিমধ্যে একটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কারণ, সে দেশের সেনাপ্রধান ওয়াকারের দিল্লি আসার কথা ছিল। আচমকাই তিনি দিল্লি সফর বাতিল করেন। তর্কের খাতিরে এরকম একটা চিত্রের কল্পনা করা যেতে পারে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর মুখে কোনও কথা নেই। অজিত ডোভাল চশমাটা নাকের কাছে নামিয়ে তাঁর সামনে এমন কিছু তথ্য তুলে ধরছেন, যা দেখে তিনি দরদর করে ঘামছেন।
এই কল্পচিত্র নির্মাণের কারণ রয়েছে। কারণ ভারত এবং পাকিস্তান কি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চলেছে বলে বাতাসে খবর ভাসতে শুরু করেছে। আর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আর সেই যুদ্ধে জড়িয়ে যাবে বাংলাদেশও। পাকিস্তানের চরিত্র কেমন, সেটা বুঝতে পেরেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আর সে কারণে ইসলামাবাদের সঙ্গে মস্কোর কয়েক কোটি যোজন দূরত্ব তৈরি হয়েছে। অপর দিকে, চিনের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক বেশ গলায় গলায়। তার একটি কারণ পাকিস্তানে সে দেশের বিনিয়োগ। পাশাপাশি চিনের থেকে পাকিস্তান সামরিক দিক থেকে কৌশলগত সমর্থন আদায়ের চেষ্টাও চালাবে। কিন্তু সেটা কতদূর সম্ভব হবে তা নিয়ে কিন্তু যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
বেজিংয়ের সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক কিন্তু আর আগের মতো উষ্ণ নয়। ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে ভারত রাশিয়ার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিল ঠিক। সম যত গড়িয়েছে সেই তিক্ততার অবসান ঘটেছে। মস্কো দিল্লি আরও কাছাকাছি এসেছে। তারই ফলশ্রুতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রাণঘাতী হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছেন। এই ঘটনার সঙ্গে পাকিস্তানের নামও জড়িয়ে গিয়েছে। বলা হচ্ছে, পরিকল্পনায় রীতিমতো ইন্ধন জুগিয়েছে ইসলামাবাদ। আফগানিস্তানের বিমানঘাঁটি আমেরিকা যাতে দখল করতে পারে, পাকিস্তান তারও চেষ্টা চালায়। এমনকী তারা সেখানে বিমান হামলাও চালিয়েছে।
এদিকে আবার দিল্লি-কাবুল সমীকরণও বদলে গিয়েছে। কাবুল আরও দিল্লির কাছাকাছি এসেছে। কূটনৈতিক সূত্রে খবর, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জবাবি হামলা চালাতে তারা দিল্লির থেকে পেয়েছে অক্সিজেন। নেপালের সঙ্গেও ভারতের সম্পর্ক হার্দিক। এ সবের মাঝে একা পড়ে গিয়েছে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ। তাই, তারা ভারতের বিরুদ্ধে তাদের রণকৌশল বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রশ্ন হল, এশিয়ান ইউনিয়নে পাকিস্তানকে কি কোনওদিন অন্তর্ভুক্ত করা হবে না? অবশ্যই করা হবে যদি পাকিস্তান তাদের গোঁড়ামি থেকে বেরিয়ে আসতে পারে, যদি তারা ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গিকার্যকলাপে মদত দেওয়া বন্ধ করে। বলা হচ্ছে, পাকিস্তানের লক্ষ্য হয়ে উঠেছে বাংলাদেশকে একটি জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করা। গত দুই বছরে তারা প্রচুর জঙ্গি চাষ করেছে। বাংলাদেশের জঙ্গিদের তারা নিজেদের পকেটে ঢুকিয়েছে। তাদের হাতে তুলে দিয়েছে অস্ত্র-বোমা। উদ্দেশ্য সেভেন সিস্টার্সের ওপর সাঁড়াশি আক্রমণ, আর দ্বিতীয়টি হল বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে যাওয়া। তাতে আখেরে ক্ষতি তাদের হবে। কারণ, ভারত আর হাতে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে নারাজ। পরিস্থিতি তাদের সে দিকেই নিয়ে যাচ্ছে।












Discussion about this post