আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে যে নির্বাচন, তা বৈধ হতে পারে না”, আবারও এই দাবি করলেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অপরদিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। এমনটাই জানিয়ে দিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। সবমিলিয়ে এই লড়াইটা মূলত শেখ হাসিনা বনাম মুহাম্মদ ইউনূসের হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন হতে পারে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে। অর্থাৎ, হাতে আর মাত্র আড়াই মাসের সামান্য বেশি। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সম্প্রতি একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। এরকমই ইন্ডিয়া টুডে গ্লোবাল–কে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির কোনও এক গোপন আস্তানা থেকে প্রতিনিয়ত বিদেশী সংবাদমাধ্যমকে ইমেলে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন শেখ হাসিনা। তাতেই বাংলাদেশের বর্তমান সংকট নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন, আবার দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা, দেশে গঠিত অনির্বাচিত ও জঙ্গিগোষ্ঠী-সমর্থিত ইউনূস সরকারের উত্থান, এ সব নিয়েও নিজের মতামত দিচ্ছেন হাসিনা। আর সেটাই এখন মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর উপদেষ্টাদের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১৩ নভেম্বর ঢাকায় লকডাউনের ডাক দিয়েছিল আওয়ামী লিগ। তবে কেবল রাজধানী ঢাকা নয়, সেদিন বাস্তবে অচল ছিল গোটা বাংলাদেশই। অভাবনীয় পরিস্থিতিতে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ১২-১৩ মাসের মধ্যে শেখ হাসিনা কীভাবে তাঁর দলকে লড়াইয়ের ময়দানে ফেরালেন? এটাই এখন দেশী-বিদেশী রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে মূল চর্চার বিষয়। অনেকেই মনে করছেন, এটা হটাৎ করে হয়নি। রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া একটি দল যেভাবে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ালো, তা কার্যতই অভাবনীয়। শেখ হাসিনা, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর, ভারতের রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। কার্যত লোকচক্ষুর আড়ালে, এক নিভৃতবাস বলা চলে। জানা যায়, সেখানেই একটি কার্যালয় তৈরি করে দিয়েছে ভারত সরকার। সেই কার্যালয়ে দক্ষ এবং বিশ্বস্ত কর্মীও নিয়োগ করে দিয়েছে ভারত। আর এটাকেই কার্যত ওয়াররুমে পরিণত করেছেন বিদগ্ধ রাজনীতিবিদ শেখ হাসিনা। গত বছর থেকে তাঁরই মতো আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতা-নেত্রী এবং অন্যান্য শাখা সংগঠনের নেতৃত্ব দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। আর বাকিদের একটা বড় অংশ হয় জেলে রয়েছেন, না হয় গা ঢাকা দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে একটা রাজনৈতিক দলকে পুনরায় চাঙ্গা করা খুবই কঠিন। কিন্তু ঠান্ডা মাথায় এই কাজটাই করে গিয়েছেন হাসিনা। মূলত নীচুতলার কর্মীদের সঙ্গে তিনি প্রতিনিয়ত কথা বলে গিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ার একাধিক প্ল্যাটফর্মে।
আমরা সকলেই জানি, বাংলাদেশে এখন কি পরিস্থিতি। আওয়ামী লীগ মানেই সন্ত্রাসবাদী, এমনই প্রচার প্রকাশ্যে করছেন ইউনূসের উপদেষ্টারা। আবার, জামায়তে ইসলামী, এনসিপি ও বিএনপিও শেখ হাসিনা ও তাঁর দলকে ক্রমাগত ফ্যাসিস্ট আখ্যা দিয়ে হুমকি ধমকি দিয়ে চলেছেন। ইউনূসের প্রশাসন ও পুলিশ এমনকি সেনাবাহিনীও আওয়ামী লীগকে দেশের বাইরে বের করে দেওয়ার যাবতীয় আয়োজন করে রেখেছিল। কিন্তু এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশের মাটিতে এই মুহূর্তে টিকে থাকা আওয়ামী লীগের নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা অসীম ধৈর্য্য এবং দলের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর শপথ নিয়েছেন। তাঁরা যাবতীয় অত্যাচার সহ্য করে, গ্রেফতারি ও অন্যান্য বিচারের ভয় উপেক্ষা করে নেত্রী শেখ হাসিনার ডাকে পথে নেমে পড়েছেন। বিগত কয়েকমাসে আওয়ামী লীগের মিছিল, প্রতিবাদ সভা ও অন্যান্য কার্যাবলী বেড়েই চলেছে। এবার লকডাউনের ডাক দিয়েও চূরান্ত সফল হলেন শেখ হাসিনা। পরবর্তী লক্ষ্য গোটা বাংলাদেশ অচল করে শাটডাউন সফল করা। বিশ্লেষকরা বলছেন, শেখ হাসিনা দিনরাত এক করে নীচুতলার কর্মীদের একত্রিত করেছেন। তাঁদের উৎসাহিত করেছেন। আর এতেই এল সাফল্য। এথন দলীয় কর্মীরা সেটা ধরে রাখতে পারলেই ইউনূসের বিদায় ঘটিয়ে নেত্রী হাসিনার ফেরার রাস্তা তৈরি হয়ে যাবে। আর সেটা সম্ভব হতে পারে আসন্ন নির্বাচনের আগেই।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post