বিনাযুদ্ধে একটি দেশকে কি নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া যায়?
যায় তো বটেই। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধে না গিয়েও ভারত সে দেশের আর্থিক পরিস্থিতিকে যুদ্ধোত্তর পরিস্থিতির মতো করে তুলতে চাইছে এবং অত্যন্ত সন্তর্পণে। যেটা বাংলাদেশ বুঝে পারছে না। বুঝতে পারছেন না একসময়ে ব্যাঙ্কে চাকরি করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ড. ইউনূসের মতো লোকেও। বিষয়টা পুরোপুরি অর্থনৈতিক। প্রথমত বাংলাদেশ সে দেশের সঙ্গে পণ্য আমদানি রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। ইউনূসের আমলে বাংলাদেশের বাজারে ভারতীয় পণ্যের আকাল দেখা দিয়েছে। হাসিনার সময় এই পণ্য খুব সহজলভ্য এবং সুলভমূল্যের ছিল। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভারত দুটি পথ অবলম্বন করেছে। একটি হল সামরিক দিক থেকে দেশটির ওপর চাপ তৈরি করা । আর বাংলাদেশকে অতিরিক্ত অর্থ খরচে বাধ্য করা।
বাংলাদেশের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী হল চাল। এই চাল রফতানি ভারত বন্ধ করে দিয়েছে। তাই, ভারতের চাল কিনতে এখন বাংলাদেশকে অন্য রাষ্ট্রের সাহায্য চাইতে হচ্ছে। বিশ্বের মধ্যে সব থেকে বেশি চাল উৎপাদনকারী দেশ হল ভারত। যে দামে ভারতের থেকে চাল কিনত বাংলাদেশ, এখন সেই চাল বেশি টাকা দিয়ে সিঙ্গাপুরের থেকে কিনতে হচ্ছে। বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরের একটি সংস্থার সঙ্গে এই চাল রফতানির বিষয়ে চুক্তি করে। কিন্তু যে পরিমাণ চাল ভারতে উৎপন্ন হয়, সেই পরিমাণ চাল কিন্তু সিঙ্গাপুরে উৎপন্ন হয় না। ফলে, বাংলাদেশকে চাল সরবরাহ করতে হলে সিঙ্গাপুরকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাল কিনতে হবে। আর লাভের জন্য তারা কার্যত বেশি দামে বাংলাদেশকে চাল বিক্রি করবে। বিষয়টা হল বাংলাদেশকে ভারতের চালই কিনতে হচ্ছে। কিন্তু সেটা ঘুরপথে। বাংলাদেশের গণমাধ্যমে এই নিয়ে প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়েছে। আর বাংলাদেশের মন্ত্রী এবং অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সেটা স্বীকার করেছেন।
তদারকি সরকারের সব থেকে ঝামেলা বাড়িয়েছে সে দেশের মৌলবাদী হুজুরেরা। তারা ইউনূস সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছে যাতে ভারতের চাল বয়কট করে পাকিস্তান থেকে চাল আমদানি করুক। দরকার হলে ইসলামাবাদের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করুক ঢাকা। উল্লেখ করার মতো তথ্য হল পাকিস্তান এই চাল কেনে সৌদি থেকে। সেই চাল আবার সৌদি যায় ভারত থেকে।
এদিকে, উদার পাকিস্তান বাংলাদেশবাসীর মুখে ভাত তুলে দিতে উদ্যোগী হয়েছে। ইসলামাবাদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ঢাকাকে এক লক্ষ মেট্রিটন চাল সরবরাহ করবে। তার জন্য তারা দরপত্র প্রকাশ করেছে। ইসলামাবাদের দাবি ছিল, এই চাল তাদের। ওই দাবি যে একেবারে খাঁটি নয়, সেটা তো এখন প্রমাণিত সত্য। ইউনূস সরকার চাইলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে পারতেন। যেমনটা ছিল হাসিনার আমলে। সেটা না করে তিনি এবং তাঁর নবরত্নসভার সদস্যরা ভারত-বিদ্বেষী হয়ে উঠেছেন। তাতে যে আখেরে তাদের ক্ষতি হচ্ছে, সেটা তারা বুঝতে পারছে না। অথবা বুঝেও আর কিছু করার নেই। কারণ, বন্দুক থেকে গুলি বেরিয়ে গিয়েছে।
সব থেকে বড় কথা, একটি দেশের অর্থনীতির ভিত একবার নড়ে গেলে তাঁকে বাঁচিয়ে রাখা বেশ কষ্টসাধ্য কাজ। আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডা, বিশ্বব্যাংক জানিয়ে দিয়েছে, এই সরকারকে তারা আর নতুন করে অর্থ সাহায্য করবে না। নতুন সরকার এলে সেই সরকারের সঙ্গে তারা চুক্তি করবে। একদিকে ভারত বিরোধীতা এবং আন্তর্জাতিক দুই শীর্ষব্যাংকের সিদ্ধান্তে সাঁড়াশিচাপে পড়ে গিয়েছেন ইউনূস।












Discussion about this post