দিল্লিতে কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভে যোগ দিতে একদিন আগেই রাজধানী পৌঁছান বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। বৈঠক করেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে খলিলুরের হাতে বেশ কিছু নথিপত্র তুলে দেওয়া হয়। সেই নথিতে ছিল, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি জঙ্গি শিবির রীতিমতো সক্রিয়। জঙ্গি ঘাঁটি রয়েছে বান্দারবন, ব্রাহ্মণবেরিয়া, সিলেট। সেখানে চলছে প্রশিক্ষণ। আইইডি কী করে তৈরি করতে হয়, তারও প্রশিক্ষণ সেখানে দেওয়া হচ্ছে। ডোভালের তরফে খলিলুরকে বার্তা ছিল – এত কিছু বলার পরেও, এতবার বলার পরেও কেন ওই সব জঙ্গি শিবির নিউট্রালাইজড করা হয়নি?
খলিলুর দেশে ফিরে তাঁর সরকার প্রধানকে সাউথব্লকের তরফে দেওয়া বার্তা কানে প্রবেশ করিয়েছেন। এর আগে এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে খলিলুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকলেও সেটা কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ান ইউনূস। এ ক্ষেত্রেও তিনি বাঁধা হয়ে ওঠেন। ফলে, সেনাবাহিনী সরকার না জানিয়ে ওই সব জঙ্গি শিবির নিউট্রালাইজড করতে সক্রিয় হয়। অসমর্থিত সূত্রে খবর, ডোভাল-খলিলুরের বৈঠকের পরেই বাংলাদেশ সেনা পার্বত্য চট্টগ্রামে সংক্ষিপ্ত অভিযান চালায়। অভিযানে মৃত্যু হয় বোম্ব পার্টির তিন সদস্যের।
এই অভিযানের খবর ভারতীয় সেনা যেমন পেয়েছে, পেয়েছে স্বরাষ্ট্র দফতর। যদিও সাউথব্লক থেকে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপে তাঁরা একেবারেই সন্তুষ্ট নয়। বাংলাদেশের মাটি থেকে জঙ্গি শিবির পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দিতে হবে। একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশ সেনা চাইলেও কিছু করতে পারছে না। তাদের কিছু করতে দেওয়া হচ্ছে না। বাধা আসছে তদারকি সরকার প্রধানের থেকে। আর তাঁকে বাধা দিচ্ছে এনসিপি, বিএনপি, জামাত এবং সে দেশের মৌলবাদী গোষ্ঠীরা। তারা বলছে যে কোনও মূল্যে ওয়াকার-বাহিনীর হাত বেঁধে রাখত হবে। সাউথব্লক কিন্তু খুব পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, জঙ্গি শিবির নির্মূলকরণে ঢাকা শূন্য সহনশীল নীতি গ্রহণ না করলে এবার ভারতীয় সেনা সেটাই করবে, যেটা কিছুদিন আগে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে করা হয়েছিল। আর আমাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং তো কিছুদিন আগে পাকিস্তানকে এই ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন – ‘ঘুসকে মারেঙ্গে’। বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় ভিতরে ঢুকে মারব। বিষয়টা যে মুখের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, সেটা ভারতীয় সেনার সাম্প্রতিক পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট। ঢাকা এবং উত্তরপাড়াকে দিল্লির তরফে এই ইস্যুতে সাত দিন সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। সেই সাতদিন কিন্তু অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছে। আর তার পর থেকে ভারতীয় সেনা বেশ কিছু পদক্ষেপ করেছে।
কোনও কোনও মহল থেকে বলা হচ্ছে, ঢাকাকে সামরিক দিক থেকে চাপে রাখতে কেন্দ্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও অপরপক্ষ এর সঙ্গে আরও একটি যুক্তি জুড়ে দিয়েছে। সেটা হল, জাতীয় নিরাপত্তা যখনই ঝুঁকির মুখে পড়ে যাবে, ঠিক তখন অ্যাকশনে যাওয়ার নির্দেশ আসবে। এই প্রতিবেদন যেদিন তৈরি করা হচ্ছে, অর্থাৎ সোমবার, সেদিন ভারতের একটি জাতীয় দৈনিক তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সীমান্তে সব লঞ্চ প্যাড সক্রিয়। সীমান্তের ওপারে থাকা জঙ্গিরা ভারত ভূখণ্ডে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। শীত ঘন হল, ভোরের আকাশ কুয়াশাছন্ন হলেই তারা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকে যাবে। ফলে, সীমান্তে নজরদারি আরও কঠোর করা হয়েছে।












Discussion about this post