হাসিনা সরকারের পতনের পর কেটে গিয়েছে এক বছরের বেশি সময়। এই সরকার পতন নিয়ে এ যাবৎ আলোচনা কম হয়নি। আগামীদিনেও হবে। এমনকী আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসীন হলেও চর্চা অব্যাহত থাকবে। হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে যে সেনাপ্রধান ওয়াকার ক্রীড়ানকের ভূমিকা নিয়েছিলেন, তা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। হাসিনা সাম্প্রতিক অতীতে গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কখনও প্রকাশ্যে, কখনও বা ঘুরিয়ে বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন যে সেনাপ্রধান ওয়াকার তাঁর সঙ্গে এবং দেশবাসীর সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
সম্প্রতি একটি বই বাজারে এসেছে, যার শিরোনাম ‘ইনশআল্লাহ বাংলাদেশ : দ্য স্টোরি অফ অ্যান আনফিনিশড রেভল্যুশন’। সেই বইয়ের কিছু অংশ নিয়ে বাংলাদেশের একটি পত্রিকা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেদনের শিরোনাম – ‘গনভবন ছাড়ুন, না হয় মারা পড়বেন।’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর ৫ অগাস্ট, দেড়টা নাগাদ ভারত থেকে এক উচ্চপর্যায়ের কর্মর্তার ফোন আসে। তিনি হাসিনার পূর্ব পরিচিত। হাসিনাকে ওই ভারতীয় কর্মকর্তাটি বলেছিলেন, ইতিমধ্যে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। আপনি গণভবন না ছাড়েন, তাহলে আপনাকে খুন হতে হবে।’ প্রতিবেদনের দাবি, ওই ফোনের পর বঙ্গবন্ধু কন্যা বাংলাদেশের মায়া ত্যাগ করতে বাধ্য হন। তড়িঘড়ি সেনার চপারে করে বাংলাদেশ ছাড়েন। যে বইয়ের উল্লেখ করা হল, সেই বইতে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে ধরা হয়েছে, ৪ এবং ৫ অগাস্ট গণভবনের অভ্যন্তরে কী হয়েছিল, সেটা এই বইয়ে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। বইয়ের তিন লেখক হলেন দীপ হালদার, জয়দীপ মজুমদার এবং শাহিদুল হাসান খোকন।
বইয়ে আরও বলা হয়েছে, গণঅভ্যুত্থানের ঠিক আগের দিন গণভবনে একটি বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠক ছিল অঘোষিত। ছিলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার, বিমাবাহিনীর প্রধান এয়ারচিফ মার্শাল হাসান মামুদ, নৌপ্রধান অ্যাডমিরাল মহম্মদ নাজমুল হোসেন, পুলিশপ্রধান আব্দুল্লাহ আল মামুন। ক্যাবিনেট সচিব মোহাম্মদ মাহবুব হোসেনসহ প্রশাসনের বেশ কয়েকজন শীর্ষকর্তা। তারা সকলে হাসিনাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। সরাসরি হাসিনা সেনাপ্রধান ওয়াকারকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন তিনি তাঁর (হাসিনা) পাশে দাঁড়াবেন কি না। সেই সময় কিন্তু সেনাপ্রধান হ্যাঁ বলেছিলেন। আর যেদিন মানুষ রাস্তায় নামল, সেই ব্রাহ্মমুহূর্তে ওয়াকার খেলেন পাল্টি। গণঅভ্যুত্থানকে নিঃশব্দে এবং নির্লজ্জভাবে সমর্থন করে গেলেন। ৪ অগাস্ট বিকেল থেকে আসতে শুরু করে একের পর এক মৃত্যুর খবর। সেই খবর শুনে হাসিনা রীতিমতো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। শুধু ওই দিন ৯১ জনের মৃত্যুর খবর আসে। বলা হচ্ছে বেশিরভাগের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের গুলিতে। যদিও তথ্য বলছে, যে গুলিতে তাদের মৃত্যু হয়েছে, সেই গুলি পুলিশের কাছে ছিল না। থাকেও না। তাহলে কে চালালো গুলি?
কিন্তু কে হাসিনাকে দেশ ত্যাগের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে সক্ষম হলেন, সেই প্রশ্নের সদুত্তর কিন্তু এখনও পাওয়া যায়নি। একটি গণমাধ্যমের দাবি, দিদিকে দেশ ছাড়া পরামর্শ দিতে গণভবনে চলে যান বোন রেহানা। পরিবারের কথাতেও হাসিনা রাজি হচ্ছিলেন না। হাসিনা সাম্প্রতিক কয়েকটি সাক্ষাৎকারে বলেন, দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনও রাস্তা তাঁর সামনে ছিল না। কারণ, তিনি দেশ না ছাড়লে বোনের পরিবারকে খতম করে দেবে রাজাকারদের দল। খতম করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাবে প্রশাসনের তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের। তাই, ইচ্ছা না থাকলেও দেশ তাঁকে ছাড়তে হয়েছে। আর এই পাণ্ডুলিপি তৈরি করেছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার।












Discussion about this post