আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন হতে পারে। এমনটাই এখনও পর্যন্ত জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের নির্বাচনের আগে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে এবার ভারতও অতি মাত্রায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলেই খবর! যা নিয়ে কাতারের রাজধানী দোহায় একাধিক বৈঠকের মুখোমুখি হচ্ছেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। এমনকি এটাও জানা যাচ্ছে আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আওয়ামী লীগও অনেকটা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সবমিলিয়ে প্রবল চাপে রয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস।
এটা আগেই বোঝা যাচ্ছিল, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে তৎপরতা দেখা দিয়েছে। ঢাকা-কেন্দ্রিক রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত সক্রিয় হচ্ছে। আবার বাংলাদেশে কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে পাকিস্তানও। বাংলাদেশে সক্রিয় চিন, রাশিয়া এবং ইজরায়েলের গুপ্তচর সংস্থাগুলিও। তবে অত্যন্ত নীরবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করছে ভারত ও আমেরিকা। যা মুহাম্মদ ইউনূসের রক্তচাপ বাড়াতে যথেষ্ট। এই মুহূর্তে তিনজন বড় বড় বিশ্বনেতাকে একের পর এক স্বাগত জানানোর জন্য তৈরি হয়েছে ভারত। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এটাই হবে তার প্রথম ভারত সফর। আগামী বছরের শুরুর দিকে ভারতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের। ব্রিকস সম্মেলনের জন্যই তাঁর ভারতে আসার কথা। তারপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ভারত সফর করতে পারেন, কারণ কোয়াড সম্মেলনে যোগ দিতে পারেন তিনি।
২০১৪ সালের পর থেকে ২০২৫ সাল হল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পররাষ্ট্র নীতির জন্য সবচেয়ে কঠিন বছর। এ বছর এপ্রিল মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল। মে মাসেই ভারত ও পাকিস্তান চার দিনের যুদ্ধে হয়। দুই পারমাণবিক প্রতিবেশীর মধ্যে বহু দশকের মধ্যে এটাই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ লড়াই। কিন্তু যুদ্ধ আচমকা থেমে যাওয়া নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শতাধিক বার দাবি করেছেন যে ওই যুদ্ধ তিনি থামিয়েছেন। যদিও ভারত সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে স্বল্পকালীন এই যুদ্ধ ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ভালোই ক্ষতি করেছে। অন্যদিকে ট্যারিফ নিয়েও ভারত ও আমেরিকার দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। অন্যদিকে রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়েও মার্কিন চাপ ক্রমাগত বাড়ছে ভারতের উপর। এই আবহে রাশিয়া ও চিনের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্টতা বাড়তেই টনক নড়েছে ওয়াশিংটনের। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর গত বছর মিউনিখে বলেছিলেন, বিভিন্ন বিকল্প খোলা রাখার কারণে বিশ্বের উচিত ভারতকে ধন্যবাদ দেওয়া। ভারত কোনও একক পরাশক্তির সঙ্গে আটকে থাকেনি।
অন্যদিকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরই এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও বঙ্গোপসাগর জুড়ে প্রভাবের ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। কূটনীতিকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তর এখন ওয়াশিংটন ও দিল্লির উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে উঠে এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, বাংলাদেশ এই মুহূর্তে একাধিক বিশ্ব শক্তির গুপ্তচর সংস্থার ক্রীড়াক্ষেত্র হয়ে হয়ে উঠেছে। তবে এখানে ভারত ও রাশিয়া অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। তবে সম্প্রতি ঢাকা বিমানবন্দরে আগুনে রাশিয়ার অনেক ক্ষতি হয়েছিল, তবুও তা নিয়ে রাশিয়ার খুব বেশি চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। কারণ, ক্ষতিটা বাংলাদেশের। এই আবহেই দিল্লিতে কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের সাইডলাইনে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের বৈঠকটি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। আবার এর পরপরই কাতারে দুই পক্ষের আরেক দফা বৈঠক হয়। সূত্র বলছে, দোহা বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ওয়াশিংটনের বাড়তি আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়। আর এই বৈঠকে বড় ভূমিকা নিয়েছেন, কাতারের আমিরি দিওয়ানের প্রধান আবদুল্লাহ বিন মোহাম্মদ বিন মুবারক আল খুলাইফি। এই বৈঠকের মূল প্রতিপাদ্য ছিল আওয়ামী লীগের প্রত্যাবাসন। অর্থাৎ, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বৈঠকে এখন একটাই বিষয়, সেটা হল আওয়ামী লীগকে আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করে দেওয়া। যা পাকিস্তান, মুহাম্মদ ইউনূস এবং জামায়তে ইসলামীর কাছে সবচেয়ে বড় মাথাব্যাথার কারণ।












Discussion about this post