বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তুঙ্গে। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা যেমন ব্যস্ত ভোটকেন্দ্রে পৌঁছতে, তেমনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলি ব্যস্ত তাঁদের নিরাপত্তা বিষয়ক প্রস্তুতি চূরান্ত করতে। এরমধ্যেই দেখা গেল এক অভূতপূর্ণ দৃশ্য। বাংলাদেশের কুড়িগ্রামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডোরা হেলিকপ্টার মহড়া দিলেন। এই দৃশ্য এখন বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। এই দৃশ্য দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ভোট হবে, নাকি যুদ্ধ হতে পারে। অনেকটা আপদকালীন পরিস্থিতিতে এ ভাবে সেনাবাহিনী প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে দুর্গতদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এই ধরণের মহড়া ভোটের জন্য কেন হচ্ছে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সেনাবাহিনী আসলে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে তাঁরা তাঁদের পাশে রয়েছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, এই ধরণের মহড়া দিয়ে সেনাবাহিনী আসলে একটা ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করছে। যাতে ভোটকেন্দ্রমুখী না হয় অনেকে। দিন দুই আগেই বাংলাদেশের একটি সংবাদমাধ্যমে হানা দিয়ে ২১জন সাংবাদিককে তুলে নিয়ে গিয়েছিল সেনাবাহিনী। এতে কার লাভ? মনে হতেই পারে, আওয়ামী লীগের ভোট বয়কটের আহ্বান আরও জোরালো হবে। কিন্তু আসলে যেটা হবে সেটা হল, ভোটের শতাংশ নিয়ে ছেলাখেলা হবে। কারণ, ইতিমধ্যেই একটি সমীক্ষায় প্রকাশ পেয়েছে ত্রয়োদশ নির্বাচনে ভোটদানের হারের উপর জয়-পরাজয় অনেকটা নির্ভর করবে। ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের জনমতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬৫ থেকে ৬৮ শতাংশ ভোট পড়লে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে। অন্যদিকে যদি ৫৩ থেকে ৫৮ শতাংশ হয় শফিকুর রহমানের জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১–দলীয় ‘নির্বাচনী ঐক্যে’র সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। ওই সংস্থার সমীক্ষকদের দাবি,কট্টর ইসলামপন্থী দল জামাতের ভোটারেরা তুলনামূলক ভাবে ‘সংগঠিত’ এবং আদর্শগত আনুগত্যে অবিচল। তাঁরা যে কোনও মূল্য ভোটকেন্দ্রে যাবেন, ভোট দেবেন। ভোটদানের হার কম হওয়ার অর্থ হল, সাধারণ মানুষ ভোট কম দিচ্ছেন। ফলে ভোটদানের হার কম হলে জামাতের পাল্লা ভারি। বেশি ভোটদানের ইঙ্গিত হল, সাধারণ ভোটারদের বুথমুখী হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি। এটা হলেই জামাত পিছিয়ে পড়বে। আর সেটাই চাইছেন না বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সকলেই জানেন জেনারেল ওয়াকার জামাতপন্থী, তিনি নিজে স্বীকার না করলেও এটা এখন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তাঁর জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণের কথা স্মরণ করলেই বোঝা যাবে, সেই সময়ে তিনি জামাতের সঙ্গে কতটা সংসর্গে ছিলেন। এরপর বাংলাদেশ সেনা যখন বারেবারে পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্টতা বৃদ্ধি করছে, তখনও সেনাপ্রধান ওয়াকার চুপ করে তা দেখেছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধেও একটা অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়েছিল। যদিও সে সময় তাঁকে ভারতীয় গোয়েন্দা রিপোর্ট বাঁচিয়ে দিয়েছিল। ভারতের সেনাপ্রধানও একবার জানিয়েছিলেন তিনি এবং তাঁর বাহিনীর আধিকারিকরা বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেন। বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, এখনও সেই যোগাযোগ রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার খুব একটা খাপ খুলতে পারছেন না। জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের ভোটের আগেও জেনারেল ওয়াকারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। হয়তো এই ফোনের পর পরিস্থিতি পাল্টাতে পারে। এখন ভোটের দিন কি হয়, সেদিকেই তাঁকিয়ে সমস্ত মহল।












Discussion about this post