মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতের অন্যতম মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। বিগত সতেরো মাসের উপর তিনি ভারতের বিরুদ্ধে একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে চলেছেন নিজের ক্ষমতাবলে। তুমি এখন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান, যে সরকার বাংলাদেশের সাংবাদিক ব্যবস্থায় কার্যত অবৈধ। সাধারণত এ ধরনের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র নীতি সম্পর্কিত কোন ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার এক্তিয়ার থাকে না, বা তাঁরা এরকম কোনও সিদ্ধান্ত নেয় না যে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে বিপাকে পড়ে। কিন্তু ইউনূস সরকার সে সবের ধার ধরছে না। তাঁরা এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা বাংলাদেশের দীর্ঘকালীন পররাষ্ট্র নীতির পরিপন্থী। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে বৃহৎ প্রতিবেশী হিসেবে ভারত সব সময় দেশটির পাশে দাঁড়িয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার জন্য তৎকালীন ভারত সরকার ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকে। কিন্তু ইউনুস সাহেব ক্ষমতায় এসেই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশের কয়েকটি গোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এবং সেই পাকিস্তানের দিকেই তাদের পররাষ্ট্রনীতি ঝুঁকেছে, যা নিয়ে চিন্তায় নয়া দিল্লি। অনেক টালবাহনার পর অবশেষে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশের নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে। সে নির্বাচনের আর মাত্র দিন ১৫ বাকি। কিন্তু ইউনুস সাহেব শেষ মুহূর্তেও বাংলাদেশকে চরম বিপদে ফেলার কোনও কসুর ছাড়ছেন না। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত ৮৫০ একর জায়গায় একটি ভারতীয় ইকোনমিক জোন বা অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির চুক্তি হয়েছিল। ইউনুস সাহেব সেই চুক্তি বাতিল করেছেন। এই পর্যন্ত ঠিকই ছিল, কিন্তু নির্বাচনের কয়েকদিন আগে তার উপদেষ্টা মন্ডলী সিদ্ধান্ত নিল ওই জমিতে বাংলাদেশের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প অঞ্চল তৈরি হবে। অর্থাৎ, ভারতের জন্য বরাদ্দকৃত ওই জমিতে এবার অন্য কোনও দেশ চাষ করবে। তবে এ চাষ যে সে চাস নয়, একেবারে প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত সাজ সরঞ্জামের চাষ।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভারতকে প্যাঁচে ফেলতে অধ্যাপক ইউনুসের এটা নতুন কারসাজি। তাঁর ক্ষমতা আর মাত্র কয়েক দিনের জন্য। কিন্তু তিনি দমে যেতে নারাজ, তাই তড়িঘড়ি হাসিনা আমলে হওয়া সেই চুক্তি বাতিল করে নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করে দিলেন তিনি। হয়তো প্রস্তাবিত বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা হয়ে গিয়েছে তাঁর। বলাই বাহুল্য সেই দেশগুলি চিন, পাকিস্তান ও তুর্কি হতে পারে। সোমবার ঢাকার বেইলি রোডে অবস্থিত ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিক বৈঠক করেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ সংক্রান্ত বোর্ডের প্রধান আশিক চৌধুরী এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেষ সচিব শফিকুল আলম। তাঁদের দাবি, এত দিন যুদ্ধাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন দ্রব্যের উৎপাদন নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছিল। অবশেষে পাকাপাকি সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। তাঁরা আরও জানান, পৃথিবী জুড়ে সামরিক দ্রব্যের চাহিদা আছে, সে কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত।
বাইট – https://youtu.be/-fQpHEPqpxk?si=Afb7whQjqMke6XoE
ওই সাংবাদিক সম্মেলনে আরও জানানো হয়েছে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের বহু দেশের যোগাযোগ রয়েছে এবং সম্পর্ক অতি ভাল। তাদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই তা জানানো হবে। ধরেই নেওয়া যায় এই দেশগুলি তুর্কি বা চিন হতে পারে। ফলের প্রশ্ন থেকে যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি এটা মেনে নেবে?
বাংলাদেশে সামরিক ও প্রতিরক্ষাশিল্পে সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ‘ডিফেন্স ইকোনমিক জোন’ বা সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। প্রশ্ন উঠছে তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকতেই পারে, কিন্তু এটা কতটা বাস্তবসম্মত?
সংবাদ সম্মেলনে বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী দাবি করেন, সামরিকশিল্পে অস্ত্র ও অন্যান্য উপকরণ উৎপাদন নিয়ে অনেক দিন ধরে আলোচনা চলছে। এগুলোর বৈশ্বিক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের নিজেদেরও কিছু সক্ষমতা থাকা জরুরি। কিন্তু সামরিক শিল্প উৎপাদন হবে বাংলাদেশের মাটিতে এটা কি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জানে? যেটা জানা যাচ্ছে সেটা অত্যন্ত মারাত্মক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে অন্ধকারে রেখেই এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কেঊ কেঊ দাবি করছেন, জেনারেল ওয়াকার উজ জামান ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রবল অনিচ্ছা সত্ত্বেও মুহাম্মদ ইউনুসকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করতে রাজি হয়েছিলেন। আজ তিনি নিজেই নিজের পদ বাঁচাতে ব্যস্ত। তাঁকে অন্ধকারে রেখেই বাংলাদেশে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত একের পর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন ইউনূস সাহেব? এটা ভাবা অন্যায়। হয়তো বা সমঝোতা হয়ে রয়েছে দুজনের মধ্যে। তবে যেটা জানা যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটা বড় অংশকে অন্ধকারে রেখেই এই প্রতিরক্ষা শিল্প অঞ্চল তৈরি করতে চলেছেন মুহাম্মদ ইউনুস সরকার। কিন্তু মজার বিষয় হল যদি নির্বাচনে যেতে বিএনপি ক্ষমতায় আসে তাহলে তাঁদের কি হবে? চুক্তি হয়ে গেলে সেটা বাতিল করা যথেষ্ট কঠিন হবে নির্বাচিত কোনও সরকারের পক্ষে। যদিও এর আগে পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি বা বাংলাদেশের নীলফামারীতে সামরিক ড্রোন কারখানা তৈরীর প্রস্তাব নিয়ে বিএনপি আপত্তি জানিয়েছে। এখন দেখার এই প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা শিল্প অঞ্চল চুক্তি বিএনপি মেনে নেয় কিনা! ফলে ভারতকে বিপাকে ফেলতে গিয়ে নিজেই না বিপাকে পড়েন মুহাম্মদ ইউনুস। এ ক্ষেত্রে পাকিস্তান তুর্কি বা চিন কতটা এগিয়ে খেলে সেটাও দেখার।












Discussion about this post