এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় তপ্ত খাগড়াছাড়ি। পাকিস্তানি সেনা এবং বাংলাদেশের সেনার গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন। সংখ্যাটা কত, তা এই খবর লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে ১৪৪ জারি করা হয়েছে। ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক দুঃখপ্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গুইমারা উপজেলায় দুষ্কৃতীদের হামলায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশি সেনাবাহিনীর মেজর সহ ১৩জন সদস্য, গুইমারা থানার ওসি,তিনজন পুলিশসহ আহত হয়েছেন অনেকে।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা সদরের সিঙ্গিনালা এলাকায় এক অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই দিন রাত ১১টায় ছাত্রীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর গতকাল রাতে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শনিবার খাগড়াছাড়ি পুরসভায় দাঙ্গা সৃষ্টির অপচেষ্টা হলে সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। রবিবার সকালে গুইমারা উপজেলার রামসু বাজার এলাকায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সাধারণ মানুষকে উস্কে দিয়ে রাস্তা অবরোধ করে। সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে তাদের ওপর অস্ত্র নিয়ে হামলা চেষ্টা করলে বাহিনী আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালায়। সেনাবাহিনীর সিন্দুকছড়ি জোনের উপ অধিনায়ক মেজর জেনারেল মাজহার হোসেন রব্বানি বলেন, ‘১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে অবরোধকারীরা সড়কে বিক্ষোভ ও দোকানপাটে আগুন লাগায়। আমরা পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে তারা সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে আমাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। হামলায় ১১জন সদস্য আহত হয়েছে। ’
খাগড়াছড়ি সদরেও গতকাল অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও জানমালের নিরাপত্তায় খাগড়াছড়ি পৌর শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে মোতায়েন ছিল সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন। এ ছাড়া খাগড়াছড়িতে জেলা সদরে মোতায়েন করা হয় সাত প্লাটুন বিজিবি। তবে সকাল থেকে জেলা সদরে কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, খাগড়াছাড়িতে পাহা়ড়ি কিশোরীকে ধর্ষণ ও প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাহাড়ি শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল বের করে। রবিবার ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেল পাঁচটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক চত্বর থেকে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্যারিস রোডে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা- ‘এক দেশ দুই নীতি, মানি না মানবো না’, ‘আমার বোন ধর্ষিত কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘পাহাড়ে আগুন কেন প্রশাসন জবাব চাই’, ‘তনু থেকে কল্পনা, খুন-গুম-ধর্ষণ আর না’, ‘সারা দেশে নারী নিপীড়ন বন্ধ করা’, ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, ধর্ষকের ফাঁসি চাই’ প্রভৃতি স্লোগান ও লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ফুয়াদ রাতুল বলেন, সমতল ও পাহাড়ের সবাই মিলে আমরা শেখ হাসিনাকে উৎখাত করেছিলাম; কিন্তু পরবর্তী সময়ে আমরা দেখতে পেলাম, জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে সবার আগে পাহাড়িদের বিচ্ছিন্ন করা হলো। ঢাকায় পাহাড়িদের যৌক্তিক আন্দোলনে স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি হামলা করল, কিন্তু বর্তমান সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো পাহাড়িদের আন্দোলনে পুলিশ দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। পাহাড়িদের প্রশ্নে সব শাসকের একই মনোভাব। অশান্ত বাংলাদেশে এই ঘটনায় পরিস্থিত আরও উত্তপ্ত করবে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।











Discussion about this post