আওয়ামী লীগ অর্থাৎ শেখ হাসিনার দলকে কি বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনবেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান? এর কারণ বিগত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশে আলোচনা চলছে, আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনবে ক্যান্টনমেন্ট। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা ভ্রান্ত ধারণা। যদি তাই হত, তবে গত বছর শেখ হাসিনার পতনের যে চক্রান্ত তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যে বড় ভূমিকায় থাকত না সেনাবাহিনী। হতে পারে সেটা পরোক্ষভাবে। সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় হাসিনার পতন ঘটেছে, এটা বলছেন বহু বিশেষজ্ঞ। সেনা চাইলে, ৫ই অগাষ্ট দিনটা আসতো না। এদিকে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য সেনাবাহিনী সাহায্য করল, সেই সেনাবাহিনী এখন ক্ষিপ্ত ইউনূস সরকারের উপর। একদল সেনাকর্তা সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের উপর প্রবলভাবে ক্ষিপ্ত।
এর কারণ ২৪ জন সেনাকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তারমধ্যে ১৫ জন সেনাকিয়েটাকে সেনা হেফাজতে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ সেনাদের গ্রেফতার করছে সেনারাই। অন্যদিকে সেনা হেফাজত তৈরি করা হয়েছে সেনানিবাসেই। এই সেনানিবাসে সেনা হেফাজত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ফলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে সেনাবাহিনীর একাংশ। পাশাপাশি এই পরিস্থিতি চাইলে সেনাপ্রধান এড়াতে পারতেন। কিন্তু তিনি এই কাজ করিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে ওয়াকারপন্থীদের। ফলে সবমিলিয়ে বাংলাদেশের সেনানিবাসে জটিল পরিস্থিতি। এরমধ্যে জুলাই সনদ সাক্ষরিত হল। তবে প্রায় ৮০ শতাংশ সাধারণ মানুষের সম্মতি ছাড়াই এই জুলাই সনদ সাক্ষরিত হয়েছে।
মজার বিষয় হল, যারা নিজেদের জুলাই যোদ্ধা বলে দাবি করে, তারা ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। অর্থাৎ জাতীয় নাগরিক পার্টি স্বাক্ষরও করেনি। এমনকি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ শুরু হয়। জুলাই যোদ্ধা বলে পরিচিত প্রত্যেকের ইউনূসের বিরুদ্ধে চলে যায়। জুলাই সন দ স্বাক্ষরিত অনুষ্ঠানের ২৪ ঘন্টা আগে বাংলাদেশে প্রবল বিক্ষোভ দেখা যায়। এমনকি তথাকথিত জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে পুলিশের খন্ড যুদ্ধ বাঁধে। আহত হন প্রায় ৩৬ জন। মোটের উপর ইউনূসের আমলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি একেবারে ভালো নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে গেলে সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। এক হতে হবে প্রত্যেকে। তবেই আওয়ামী লীগ ফিরতে পারবে। তবেই একটি সুষ্ঠ গণতান্তিক দেশে পরিণত হবে। তবে সাম্প্রতিককালে দেখা গিয়েছে, শেখ হাসিনার দলের কয়েকটি ঝটিকা মিছিল সীমিত হয়ে এসেছে। এর আগে প্রায়ই দেশের নানা প্রান্তে আওয়ামী লীগের মিছিল লক্ষ্য করা যেত। কিন্তু এখন হঠাৎ সীমিত কেন হল? প্রশ্ন উঠছে। কেউ কেউ বলছেন, দেশে বিদেশে কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়েই আওয়ামী লীগকে ফিরতে হবে। প্রায় দেড় বছর হয়ে গেল, বাংলাদেশে এই অরাজক পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। কাজেই আরও তৎপরতা বাড়ানো উচিত শেখ হাসিনার দলের। যাতে তারা দ্রুত ফিরতে পারে। এখন দেখার, ভারতে বসে দীর্ঘদিন ধরে শেখ হাসিনা যে পরিকল্পনা করেছেন, শেষমেশ কবে সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন দেখা যায়।












Discussion about this post