টানা চার দিন ধরে ঢাকায় সরকারি সচিবালয়ের ভিতর ও বাইরে বিক্ষোভ মিছিল করছেন বিভিন্ন দফতর এবং বিভাগের কর্মচারীরা। অন্যদিকে একই কারণে আন্দোলনে নেমেছেন সরকারি কর্মচারীরাও। জোড়া আন্দোলনে বেসামাল ইউনূস সরকার। অপরদিকে ডিসেম্বরে নির্বাচন চেয়ে চাপ বাড়াচ্ছে বিএনপি ও সেনাবাহিনী।
সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলনে নেমেছেন বাংলাদেশের সরকারি কর্মচারীরা। টানা চার দিন ধরে ঢাকায় সরকারি সচিবালয়ের ভিতর বিক্ষোভ মিছিল করছেন কর্মীরা। এই পরিস্থিতিতে সতর্ক মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার বিভিন্ন সচিবালয়ের বাইরে মোতায়েন করেছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বা বিজিবি জওয়ানদের। মঙ্গলবার সকাল থেকেই সচিবালয়ের ভিতর সেখানকার কর্মচারী ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, এমনকি সাংবাদিকদেরও নয়। কিন্তু কেন আন্দোলন? সম্প্রতি শেখ হাসিনার আমলের ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ সংশোধন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। গত বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সরকারি আইন সংক্রান্ত আইনের সংশোধিত অধ্যাদেশের খসড়াও অনুমোদিত হয়। গত রবিবার নয়া অধ্যাদেশ কার্যকর করার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নয়া অধ্যাদেশ অনুসারে, বাংলাদেশের সরকারি কর্মচারীরা যদি এমন কোনও কাজ করেন, যা সরকার বা প্রশাসনের প্রতি আনুগত্যের পরিপন্থী, তা হলে তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হতে পারে। প্রতিবাদ থেকে এখানেই। যে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচারী বলে তার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছিল আজ তাদের আনুগত্যে যে অন্তবর্তী কালীন সরকার চলছে তারাও এমন স্বৈরাচারী অধ্যাদেশ জারি করছে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে ধীরে ধীরে মুখোশ খসে পড়ছে ইউনুস সরকারের। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে রীতিমত খড়গহস্ত। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন ইউনুসকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করাতে হবে।
অন্য দিকে, বেতনবৃদ্ধির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। জানা যাচ্ছে, চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশি পরিচালকদের হাতে তুলে দেওয়া ঘোষণা করার পরই সেখানেও আন্দোলনে নেমেছেন বন্দর কর্মীরা। ফলে এই মুহূর্তে প্রবল চাপে মুহাম্মদ ইউনূস। কারণ রাষ্ট্রপুঞ্জের আলালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে যে মানবিক করিডর দেওয়ার চক্রান্ত হয়েছিল তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। করিডোর নিয়ে বাংলাদেশ সেনার “অনড় অবস্থান” বুঝতে পেরেই ঢাকা ছেড়েছেন মার্কিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি জাকবসন। ফলে এই মুহূর্তে মুহাম্মদ ইউনূসের সামনে যেমন ঘরেও চাপ, তেমনই বাইরেও চাপ। কিন্তু ক্ষমতার লোভী ইউনুস ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে কোনও রোডম্যাপ দিতে নারাজ, তিনি এখনো বলে চলেছেন ভোট হতে হতে ২০২৬ সালের জুন মাস। অর্থাৎ আরো এক বছর তিনি ক্ষমতায় থাকতে চাইছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন এই মুহূর্তে আগুন নিয়ে খেলতে চাইছেন মুহাম্মদ ইউনুস। কারণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী রাখাইন করিডর ও ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করানো নিয়ে তাদের মনোভাব স্পষ্ট করে দিয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চেয়ে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। ফলে ইউনূসের পাশে এই মুহূর্তে একমাত্র জাতীয় নাগরিক পার্টি বা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন রয়েছে। জামাযতে ইসলামী এই মুহূর্তে মুহাম্মদ ইউনূসের পাশে থাকলেও তাঁরা তলে তলে বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছে বলেই খবর। ঠিক এই অবহেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা বৈঠক করলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে। সূত্র বলছে, গত শনিবার রাতে সেনানিবাসে বৈঠকে অংশ নেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ও নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।তবে ঠিক কোন কোন বিষয়ে তাঁদের আলোচনা হয়েছে সেটা খোলসা করেনি জামাত নেতারা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আসলে এটা তো সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। আর সামগ্রিকভাবে বর্তমান পরিস্থিতির ব্যাপারে কিছুটা কথাবার্তা বলেছি। এই তো।’
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মুহূর্তে কঠিন একটা সময়ের বাঁকে দাঁড়িয়ে আছেন মুহাম্মদ ইউনূস। দেশের ভিতর মুদ্রাস্ফীতি চরমে। একের পর এক কলকারখানা বন্ধ হচ্ছে। তার ওপর ভারত বিরোধিতা করতে গিয়ে এখন ভারতই টাইট দিয়েছে ইউনূস সরকারকে। বন্ধ ট্রান্সশিপমেন্ট, বন্ধ স্থল বন্দর দিয়ে বাণিজ্য, ফলে চরম পরিস্থিতি ব্যবসায়ী মহল ও রফতানিকারকদের। কিন্তু ক্ষমতালোভী ইউনূস চাইছেন বিদেশি ঋণ, ও বিদেশি সংস্থাগুলিকে বাংলাদেশে এনে দেশকে কার্যত বিক্রি করে দিতে। এই অন্তবর্তীকালীন সরকার যেহেতু অনির্বাচিত, তাই জনগণের নিকট তাঁদের কোনও দায় নেই। যা বিএনপি, জামাতের মতো রাজনৈতিক দলগুলির জন্য ক্ষতিকারক। কারণ তাঁদের দীর্ঘকালীন রাজনীতি করতে হবে বাংলাদেশে। সেই কারণেই বিএনপি ও জামাত এবার কাছাকাছি আসছে দূরত্ব দুরে ঠেলে। সেই কারণেই সেনাবাহিনীর পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিচ্ছে জামাতের আমীর ও বিএনপির চেয়ারম্যান। যা মুহাম্মদ ইউনূসের জন্য লাল সতর্কতার সমান।












Discussion about this post