বাংলাদেশ সরকারটির নিদৃষ্ট কোন লক্ষ্য নিয়ে এগোতে পারছেনা তা বিভিন্ন ঘটনা থেকেই পরিস্কার। এই পুতুল সরকার একবার বিএনপির কথা শুনে তো একবার জামাত এনসিপির কথা শুনে।ফলে সবেতেই তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে আমেরিকা ব্যস্ত হয়েছে দ্রুত নির্বাচনের জন্য। তারা বুঝেছে নির্বাচন না হলে তারা এই তালগোল পাকানো সরকারকে দিয়ে তাদের এজেন্ডা বাস্তাবায়িত করতে পারবে না। সেই সঙ্গে তারা যে বিএনপিতেই এক রকম ভরসা রাখছেন, তাও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। না হলে বাংলাদেশে আমেরিকান রাষ্ট্রদূত কেন লন্ডনে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করবেন। ফলে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির দূরত্ব বাড়ছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ দূরত্ব ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও আর এনসিপিকে পছন্দ করছে না। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচন নিয়ে গত ১৬ আগস্ট একটি সংবাদ সম্মেলন করেছে এনসিপি। সেখানে আগামী নির্বাচন গণপরিষদ নির্বাচন করার দাবি জানিয়েছে। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার সমালোচনা করে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, লন্ডনে সিজদা দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের ওহি এনেছেন। নির্বাচন হলে গণপরিষদ নির্বাচনই আগে দিতে হবে।
একই কথা বলেছেন দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, যাকে গণঅভ্যুত্থানের পরে সরকারপ্রধান বানানো হয়েছে উনি লন্ডনে গিয়ে সিজদা দিয়ে এসেছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোনো ঘটনা আছে কি না, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান একটি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সাথে বসে প্রেস কনফারেন্স করছেন। সেদিনই সরকারকে লন্ডনে ‘বিক্রি করে’ দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ।
গত ৫ আগস্ট রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আগামী রমজানের আগে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠানোর কথা জানান।
পরদিন ৬ আগস্ট রোজা শুরুর আগে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। এ চিঠির মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে যখন নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময় ঘোষণা দিয়ে সেই লক্ষ্যে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে, তখন জামায়াত এবং এনসিপি নেতাদের বক্তব্যে ভিন্ন অবস্থান সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। সংস্কার প্রস্তাব, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে শর্ত দিচ্ছে জামায়াত-এনসিপি। এতে শুধু সরকারের সঙ্গেই নয় বিএনপির সঙ্গেও দল দুটির মতপার্থক্য ও বিপরীত অবস্থান উঠে আসছে। ফলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দল দুটির সঙ্গে সরকারের মতপার্থক্য ও বিভক্তি বাড়ছে। জামায়াত-এনসিপি নেতাদের বক্তব্যে অভিযোগ উঠে আসছে যে, সংস্কার ও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচারের বিষয় পাশ কাটিয়ে একটি সাজানো নির্বাচনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
আগে থেকেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় নিয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াত এবং এনসিপির মতপার্থক্য চলে আসছে। শুরু থেকেই বিএনপি দ্রুত নির্বাচন দাবি করে আসছিল। বিএনপির দাবি ছিল চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন। তবে লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকের পর বিএনপি সেই অবস্থান থেকে সরে আসে। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের জন্য সরকারের ঘোষণাকে বিএনপি স্বাগত জানিয়েছে। তবে বিএনপির এই স্বাগত জানানোর বিষয়টিও ভালোভাবে নেয়নি জামায়াত। আসন্ন নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জামায়াত নেতারা তাদের বক্তব্যে প্রকাশ্যে অভিযোগ করছেন। তারা অন্তর্বর্তী সরকারকে দেশের জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে দেশকে একটা ওয়ান-ইলেভেনের দিকে নিয়ে না যাওয়ার কথাও বলছেন। তবে সাংবাদিক সম্মেলনে রিজুয়ানা হাসান পরিস্কার করে দিয়েছেন যে ভোট ঘোষিত সময়েই হবে, তাতে কোন দল ফেব্রুয়ারীতে চাইছে কি চাইছে না, তাতে কিছু এসে যায় না।নির্বাচন ফেব্রুয়ারীতেই হবে।
জামায়াত এবং এনসিপি নির্বাচনের আগেই সংস্কার প্রশ্নে জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের শর্ত দিচ্ছে এবং তাদের শর্ত বাস্তবায়নের দাবি তুলেছে। এমনকি জাতীয় সংসদের চলমান নির্বাচনের পদ্ধতি বাতিল করে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক হার বা পিআর পদ্ধতি চালু করার দাবিকেও জোরালোভাবে সামনে আনছে। এসব শর্ত বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলনে যাওয়ার কথাও বলছে জামায়াত। আর এটা হলে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে দলটির দূরত্ব আরও বাড়বে।












Discussion about this post