এই মহুর্তে বাংলাদেশে ৩৫টি বা ৩৭টি যতগুলিই দল থাকুক না কেন।ঐ দলগুলির কোন জনভিত্তি নেই। বিএনপির যত সংখ্যক সমর্থক আছে তার ধারে কাছেও আসবে না ঐ সবদলগুলির সমর্থককে যোগ করলে। ফলে তারা আপত্তি জানাক বা না জানাক, মুক্তিযুদ্ধের অংশীদার হিসাবে বিএনপির কখনই উচিত হবে না এই জুলাই সনদকে মেনে নেওয়া। কারণ সাধারম মানুষ মনে করেন যে এই জুলাই সনদ মেনে নেওয়া মানে দেশকে পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া এবং ভবিষ্যতের জন্য আবার একটি মুক্তি যুদ্ধের মুখোমুখি হওয়া। তাই বিএনপি জুলাই সনদের কয়েকটি দফা ও মূল সূচনার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে, যার পেছনে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ। যে কারণগুলির জন্য বিএনপির আপত্তি তা হল চূড়ান্ত খসড়ার সূচনায় অসত্য তথ্য রয়েছে বলে বিএনপির দাবি। তারা বলছে, কিছু বিষয় আলোচনা না হলেও সনদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
২, ৩, ৪ নম্বর দফা নিয়ে সরাসরি আপত্তি রয়েছে। এসব দফায় তথ্য উপস্থাপন সঠিক নয় বলে মনে করছে দলটি।এছাড়া সংবিধান সংশোধনের অঙ্গীকার আগের খসড়ায় ছিল, যেখানে বলা হয়েছিল নির্বাচিত সংসদ দুই বছরের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু চূড়ান্ত খসড়ায় তা বাদ দেওয়া হয়েছে।অর্থাৎ ভোট কে বাইপাশ করা হতে পারে।
সনদকে সংবিধানের উপরে স্থান দেওয়া হয়েছে, যা বিএনপির মতে ভবিষ্যতের জন্য একটি “খারাপ নজির” তৈরি করতে পারে।এছাড়া সনদ নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না—এই বিধানকেও অগ্রহণযোগ্য বলেছে বিএনপি।
বিএনপি বলছে, তারা সব দফা পর্যালোচনা করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে মতামত জানাবে। তারা সংবিধান ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা চায়।এই অবস্থান রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ভবিষ্যতের নির্বাচন ও সংস্কার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। জুলাই সনদ না মানলে ভোট হবে কি না—এই প্রশ্ন এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকরা এ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বলেছে, জুলাই সনদ কার্যকর না হলে নির্বাচন আয়োজন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। তারা মনে করে, সনদ ছাড়া নির্বাচন হলে তা গণআকাঙ্ক্ষাকে অবদমিত করবে।আমার বাংলাদেশ পার্টি মানে (এবি পার্টি) বলেছে, “জুলাই সনদ না হলে ভোট হবে না”—এই নীতিতে তারা বিশ্বাসী নয়। তাদের মতে, বিচার ও সনদ গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এগুলো না হলেও নির্বাচন হতে পারে।অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন বলছে, তারা রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিচ্ছে এবং জুলাই সনদের ভিত্তিতে একটি রূপরেখা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।তবে বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, যদি জুলাই সনদের মূল দাবিগুলো উপেক্ষা করে নির্বাচন হয়, তাহলে তা রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে এবং জনগণের অংশগ্রহণ কমে যেতে পারে।তাহলে সংক্ষেপে বলা যায়—জুলাই সনদ না মানলে ভোট হতে পারে, কিন্তু তা কতটা গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ হবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর মূল অঙ্গীকারগুলো হলো, যা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার ভিত্তিতে খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তা হল পূর্ণ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার
হাজারো মানুষের জীবন ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণ-অভ্যুত্থানের প্রতিফলন হিসেবে এই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে।জনগণের অভিপ্রায়কে সর্বোচ্চ আইন হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।জনগণের ইচ্ছাই হবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন, এবং এই সনদের বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার কি হবে।
সনদের ব্যাখ্যা সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্নের চূড়ান্ত মীমাংসা করবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।অন্যদিকে আবার আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না সনদের বৈধতা নিয়ে।সনদের বৈধতা বা প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোনো আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না।এখানে রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার এর কথাও বলা হয়েছে।সংবিধান, বিচার, নির্বাচন, প্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে।গণ-অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি দিতে হবে।২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে। এবং সেই সঙ্গে শহীদদের মর্যাদা ও বিচার।গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের বিচার, শহীদ মর্যাদা, পরিবারকে সহায়তা এবং আহতদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হবে।এবং অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাব কার্যকর করতে হবে।যেসব প্রস্তাব অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলো কালক্ষেপণ না করে কার্যকর করা হবে।
এই অঙ্গীকারগুলো রাজনৈতিক সংস্কার, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post