একদিকে ভোট হবে কিনা, তাই নিয়ে যখন সব মহলেই সন্দেহ দেখা দিয়েছে, তখন প্রকাশ্যে আসছে বাংলাদেশ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ। তাদের হস্তক্ষেপেই যে হাসিনার সরকারের পতন হয়েছিল, তা আর নতুন করে বলার বিষয় নয়। এবার তারা চাইছে বাংলাদেশ নিয়ে দ্রুত একটি স্থির সিদ্ধান্তে আসতে। আসলে তাদের কলকাঠি নাড়ার বিষয়টির সবই যখন জানাজানি হয়েই গেছে, তখন আর ঘোমটার তলে খেমটা নেচে লাভ কি। তাই বাংলাদেশ থেকে যেমন লন্ডনে উড়ে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি আন জ্যাকসন।তেমনই বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি থেকে শুরু করে ঐক্যমত কমিশনের আলি রিয়াজ, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি কি অবস্থায় আছে, তা জানার জন্য সবার সঙ্গেই ঘন ঘন বৈঠক সারছেন এই মার্কিন রাষ্ট্রদূত।অন্যদিকে বন্দর করিডর নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে তাদের শ্রমিক সংগঠনের যে আন্দোলোনগুলি চলছিল সেগুলি সব বন্ধ হয়ে গেছে কোন অজানা কারণে। ফলে সবজায়গাতেই যে একটা বোঝাপোড়া চলছে তা স্পষ্ট হচ্ছে মার্কিন তৎপরতা দেখে। সম্প্রতি প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন। এ সময় তাঁরা পারস্পরিক কুশলাদি বিনিময় করেন। সাক্ষাৎকালে দ্বিপক্ষীয় বিচারিক সহযোগিতা, মানবাধিকার সংরক্ষণ ও আইনের শাসন–সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এ সাক্ষাৎ হয় বলে সুপ্রিম কোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন। কোথায় সাক্ষাৎ হয়েছে, তা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। রাজধানীর হেয়ার রোডে অবস্থিত প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবনে ওই সাক্ষাৎ হয় বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। আসলে যেটি হওয়া উচিৎ প্রধান বিচারপতির কার্যালয়ে।
সাক্ষাৎ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ সময় প্রধান বিচারপতি বিগত এক বছরে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের উন্নয়নে তাঁর গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। বিশেষ করে একটি স্বাধীন, শক্তিশালী ও ন্যায়বিচারভিত্তিক বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠায় প্রধান বিচারপতি পরিকল্পনাগুলো আলোচনা করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশে মানবাধিকার সংরক্ষণে বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করেন প্রধান বিচারপতি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত প্রধান বিচারপতি হিসেবে সৈয়দ রেফাত আহমদের এক বছর পূর্তিতে তাঁকে অভিনন্দন জানান উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের বিচার বিভাগের উন্নয়নে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে প্রধান বিচারপতি কর্তৃক একটি শক্তিশালী, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিচার বিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপ ঘোষণা, বিচারসেবা দিতে স্বচ্ছতা আনয়নে ১২ দফা নির্দেশনা প্রদান, মামলায় বিবাদীপক্ষকে লিগ্যাল এইড দিতে ক্যাপাসিটি টেস্ট চালু, সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিলের মাধ্যমে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ আইন প্রণয়ন, বিচারপ্রার্থীদের জন্য সুপ্রিম কোর্ট হেল্পলাইন চালু এবং অধস্তন আদালতের সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকে কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত তার অনুভুতি ব্যক্ত করেন, আগামী দিনগুলোতে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতির বলিষ্ঠ নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় তাঁর দেশ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে বলে জানান।












Discussion about this post