বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার প্রায় বন্ধ। যা উদ্ধারের চেষ্টায় মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন মহম্মদ ইউনূস। আর তার সামনে যে ঘটনাটি ঘটলা তাতে বাংলাদেশকে যে মালয়েশিয়া ভালো চোখে দেখছে না সেটি পরিস্কার। সব থেকে বড় ব্যাপার ঘটনা ঘটেছে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান কালে। তিনি যখন মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন তখন বিভিন্ন অজুহাতে বাংলাদেশের ২০৪ জন নাগরিককে মালয়েশিয়ায় ঢুকতে না দেওয়াটা বাংলাদেশের জন্য কোন বার্তা দিল মালয়েশিয়া। যারা বিমানে করে বাংলাদেশ থেকে গেল তারা যথাযথ কাগজ ছাড়া বিমানে উঠতে পারে কি। যদি বাংলাদেশ বিমান বন্দরে তাদের যথাযথ কাগজ থেকে থাকে তাহলে মালয়েশিয়ায় তারা তা দেখাতে পারল না কেন। যার ফলে মালয়েশিয়া কর্তিপক্ষের সন্দেহ হল যে এরা আর কোনদিন বাংলাদেশে ফিরবে কিনা। আর এই বার্তাগুলো থেকেই পরিস্কার মালয়েশিয়া বাংলাদেশের নাগরিকদের ভালো চোখে দেখছে না। এর আগে ৩৫ জন বাংলাদেশী জঙ্গী আটকের ঘটনা ঘটেছে, আর তখন থেকেই বাংলাদেশী দের বিষয়ে মালয়েশিয়া অনেক বেশী সাবধান। শুধু তাই নয় বাংলাদেশী জনগনের বিষয়ে অনেক বেশী সন্দেহপ্রবন হয়ে গেছে যে বাংলাদেশীরা মালয়েশিয়ায় গিয়ে জঙ্গী কার্যকলাপ করতে পারে। আইএসের হয়ে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে,আরও অনেক কিছু করতে পারে তারা। শেখ হাসিনা পতনে যে অর্থ ব্যবহার হয়েছিল সেটি মালয়েশিয়া থেকেও সংগ্রহ হয়েছিল কিনা তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন ইতিমধ্যেই উঠেছ। যে ঘটনাটি ঘটেছে তা হল, কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কেএলআইএ-তে মালয়েশিয়ান বর্ডার কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রোটেকশন এজেন্সির সমন্বিত অভিযানে বিভিন্ন দেশের ২২৯ বিদেশি নাগরিককে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার থেকে বুধবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত অভিযানকালে কেএলআইএ টার্মিনাল ১ এবং টার্মিনাল ২-এর আন্তর্জাতিক আগমন এবং প্রস্থান হলে ৭৬৪ বিদেশি নাগরিককে স্ক্রিনিং করে তাদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রবেশে বাধা দেওয়া ২২৯ জন প্রবেশশর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
মালয়েশিয়া প্রবেশে বাধাপ্রাপ্তদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন ২০৪ জন। এছাড়া ভারত ১৪ জন, শ্রীলঙ্কার ৩ জন, পাকিস্তানের ৩ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৩ এবং কম্বোডিয়া ২ জন নাগরিক ছিল।
এমসিবিএ জানিয়েছে, মোট বাংলাদেশিদের মধ্যে বুধবার ভোরে ঢাকা থেকে তিনটি ফ্লাইটে ৬৬ জন বাংলাদেশি কেএলআইএ ১-এ পৌঁছান।
প্রবেশ প্রত্যাখ্যানের প্রধান কারণগুলির মধ্যে রয়েছে- ভুয়া হোটেল বুকিং উপস্থাপন করা, ফেরার বিমানের টিকিট না থাকা এবং পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়া।
সংস্থাটির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সবাই দেশে অবৈধভাবে থাকার এবং কাজ করার জন্য প্রবেশ সুবিধার অপব্যবহার করার চেষ্টা করছিল বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনাটি ইউনূস সাহেবের সেই দেশে অবস্থান কালে ঘটেছে ফলে, বাংলাদেশকে যে সন্দেহের চোখে দেখছে মালয়েশিয়া তা পরিস্কার। মালয়েশিয়া কর্তিপক্ষ এমসিবিএ জানিয়েছে, প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হবে এবং অবৈধভাবে বিদেশিদের পাচারের প্রচেষ্টায় জড়িত কর্মকর্তাদের সহ যে কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে আপসহীন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।












Discussion about this post