জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার ১৩ নভেম্বর বেলা আড়াইটে নাগাদ নোবেল ম্যান জাতীর প্রতি তাঁর বক্তব্য পেশ করেন। অসমর্থিত সূত্রের খবর, বুধবার রাতে কয়েকজন সেনা অফিসার গিয়েছিলেন বঙ্গভবনে যান। জুলাই সনদে সই করার জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। সেই চাপের কাছে নতিস্বীকার করে জুলাই সনদে সই করেন রাষ্ট্রপতি। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। জাতীয় নির্বাচন, গণভোটসহ অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন তিনি। কথা বলেছেন নির্বাচন নিয়েও।
ইউনূস তাঁর ভাষণে অনেকগুলি বিষয় নিয়ে তাঁর সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন। এই সরকার গত ১৪ মাসে কী করেছে, রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে তদারকি সরকারের অবদান কী, ইউনূস সেটা তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন। এড়িয়ে যাননি গণভোটের প্রসঙ্গ। তদারকি সরকার প্রধান বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট হবে একই দিনে। গণভোটের বিষয় হবে মোট চারটি। থাকবে ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং ‘না’ ভোট। গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে আগামী সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। সংসদ নির্বাচনে দলগুলির প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে (পিআর পদ্ধতি) ১০০ সদস্য নিয়ে তৈরি হবে সংসদের উচ্চকক্ষ।
জুলাই সনদের কথা জানিয়ে ইউনূস বলেছেন, “ সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী সংসদ নির্বাচনের দিনই হবে গণভোট। অর্থাৎ গণভোটও আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে হবে। এর ফলে সংস্কার প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হবে না। ” জামাতে ইসলামীর দাবি ছিল জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট করাতে হবে। কিন্তু বিএনপির দাবি তুলেছিল কোনও অবস্থাতেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সংস্কার প্রস্তাব সংক্রান্ত গণভোট করানো যাবে না। এই অবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন তদারকি সরকার প্রধান।
একই দিনে সকালে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় গঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জানিয়ে দেয়, ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাজা আগামী সোমবার ১৭ নভেম্বর ঘোষণা করা হবে। আওয়ামী লীগ ওই দিন দেশব্যাপী সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি নিয়েছে। তারা দাবি করেছে, বৃহস্পতিবার তাদের প্রস্তাবিত লকডাউন কর্মসূচি সফল হয়েছে। সাড়া পাওয়া গিয়েছে সাধারণ মানুষের। তথ্যভিজ্ঞ মহল মনে করছে, তদারকি সরকার প্রধান জেনেশুনেই জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণের দিনটিকে নির্বাচিত করেছেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে বলেন, ‘আমাদের একটি গুরুদায়িত্ব হচ্ছে সুষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠান। আমি ঘোষণা করেছি আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচন উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের জন্য আমরা সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। ’ ভাষণে রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের প্রস্তাব তৈরির লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন প্রায় ৯ মাস ধরে যে কাজ করেছে সে কথাও তদারকি সরকার প্রধান উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশন প্রণীত জুলাই সনদে সংবিধানবিষয়ক ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জন।’ কিছু প্রস্তাবে সামান্য যে মতবিরোধ আছে, ড. ইউনূস সেটাও স্বীকার করে নিয়েছেন।
তদারকি সরকার প্রধান বলেন, অভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব গ্রহণ করে অর্থনীতিকে গভীর গহ্বর থেকে উদ্ধার করা ছিল তাঁর কাছে বিরাট চ্যালেঞ্জ। গত ১৫ মাসে তাঁর সরকার সেই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে পেরেছেন বলে ড. ইউনূস তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন।












Discussion about this post