দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান।
হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হল সেনাপ্রধান ওয়াকারকে। পেলেন ‘সেনাবাহিনী পদক।’ গত শুক্রবার সেনা নিবাসে এক ভাবগম্ভীর অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর গলায় পরিয়ে দিলেন মেডেল। প্রতিবছর বাংলাদেশে ২১ নভেম্বর দিনটি সেনাদিবাস হিসেবে পালিত হয়। কিন্তু এবারের সেনাদিবসের গুরুত্ব বিগত বছরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ, ক্ষমতায় রয়েছেন শান্তিকাকু ইউনূস। হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার মূল কারিগর যে সেনাপ্রধান তা এতোদিনে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। সরকারের তরফ থেকে তার জন্য কিছু একটা না করে আর থাকতে পারছিলেন না ইউনূস। তাই, সেনাদিবসের দিন তাঁকে দেওয়া হল বাহিনীর সর্বোচ্চ সম্মান।
শুধু কি হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁকে এই সরকারি স্বীকৃতি? বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহল কিন্তু তেমনটা মনে করছে না। তাঁদের মতে, বাহিনীর সঙ্গে সরকারের নানা কারণে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তাই ভোটের আগে বাহিনীকে কাছে টানার চেষ্টা করছেন ইউনূস। প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়। তদারকি সরকারের তরফ থেকে ওয়াকারকে যে পদক দেওয়া হল, তিনি কি এর যোগ্য প্রাপক? প্রশ্ন তোলার কারণ যে কোনও দেশের সেনাবাহিনীর দায়িত্ব হল মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা? সর্বোপরি বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যের সম্মান রক্ষার দায়িত্ব বর্তায় সেনাপ্রধানের ওপর। ওয়াকার কি এই দুটোর একটাও অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে পেরেছেন ? যে সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি ইউনূসের থেকে পদক নিলেন সেখানে যে অস্থায়ী সেনানিবাস রয়েছে, সেখানে রয়েছে বাহিনীর ১৫জন, যাদের আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিটি) বিচার চলছে। এই সব জেনারেলদের হাতকড়া পরিয়ে সকলের চোখের সামনে তাদের প্রিজনভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ক্যাঙারু আদালতে। যার মাথা ছিলেন ওয়াকার।
ওয়াকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্যের সেফ এগজিটের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। বাহিনীর মধ্যেও তাঁকে নিয়ে একাংশের মধ্যে চরম অসন্তোষ রয়েছে। এই ওয়াকারকে সেনাবাহিনীর শীর্ষপদে নিয়োগ করেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। আর তাঁর বিরুদ্ধে তিনি বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। গত বছর ৩ অগাস্ট ওয়াকার হাসিনাকে সাফ জানিয়ে দেন, তাঁর (ওয়াকারের) ইউনিট আর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মানতে বাধ্য থাকবে না। হাসিনা উপলব্ধি করেন যে বাংলাদেশ তাঁর পক্ষে আর নিরাপদ নয়। তাঁকে যেদিন ওয়াকার আল্টিমেটাম দিলেন, তাঁর ঠিক দুদিন বাদে ৫ অগাস্ট বাংলাদেশ ত্যাগ করে ভারতের উদ্দেশ্য রওনা দেন হাসিনা।
বলা হচ্ছে সে দেশে গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি করে দিয়েছিলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার। সেই স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী কাজ করেছে হাসিনা বিরোধী দলগুলি। হাসিনার দেশ ছাড়ার পর ওয়াকারের প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনের কথা নিশ্চই আমাদের সকলের মনে আছে। সেদিন তিনি সরকার গঠনের জন্য জামাতকে আহ্বান জানান। ওই সম্মেলন থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায় যে জেনারেল ওয়াকার হাসিনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। সরকারের তরফে অবশেষে সেই অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হল সেনাপ্রধান ওয়াকারকে?
তাঁর এই পদকপ্রাপ্তি থেকে আরও একটা বিষয় উঠে আসছে। হাসিনাকে যেদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যদণ্ডে দণ্ডিত করে সেদিন থেকে বাংলাদেশ কিন্তু উত্তাল। দেশের নানা প্রান্তে আওয়ামী লীগ মিছিল করেছে। শাটডাউনের মতো কর্মসূচি নিয়েছে। অথচ সেনাপ্রধানকে কিন্তু এই সব নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করতে দেখা যায়নি। তবে কি সরকারের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছে আর সেই দূরত্ব মুছে ফেলতে ইউনূস তাঁর গলায় পরালেন মেডেল?
প্রকাশ্যে গুলি। একবার নয়, একাধিকবার। বলা হচ্ছে গুলি মাথার এফোঁড় ওফোঁড় করে বেরিয়ে গিয়েছে। যারা গুলি চালিয়েছে, তারা এসেছিল বাইকের...
Read more












Discussion about this post