আমেরিকা আর চীনের মধ্যে যে দড়ি টানাটানি চলছে, বাংলাদেশ কি সেই দড়ি হতে যাচ্ছে। দু নৌকায় পা দিতে গিয়ে এবার কি ডুববে বাংলাদেশ। এবার বাংলাদেশে চীনের আধিপত্য বৃদ্ধি পাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আমেরিকান রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন আমি যেমন বলেছিলাম, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের সামগ্রিক প্রভাব নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশে আমি সব বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ রাখব, সেটা অন্তর্বর্তী সরকার বা নতুন নির্বাচিত সরকার হোক। এখানে কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে যুক্ততায় ঝুঁকির যে বিষয়টি রয়েছে, সেটা আমি স্পষ্টভাবে তুলে ধরব।’ তার এই বক্তব্য থেকে পরিস্কার বাংলাদেশের লুকোচুরি খেলা শেষ করতে চাইছে আমেরিকা। এখন প্রশ্ন উঠছে বাংলাদেশ আর কতদিন আমেরিকা এবং চীনের সঙ্গে লুকোচুরি খেলবে। বলা ভালো এক সঙ্গে দুই দেশকে বোকা বানাবে?এতদিন বাংলাদেশে চীনের প্রভাব সেভাবে ছিল না, তার বিশেষ কারণও ছিল, কারণ সে দেশের সরকার সবসময় ভারতের অপছন্দের বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করত। তবে হাসিনার সরকার বাংলাদেশের উন্নতির জন্য চীনের সঙ্গে সব রকম সম্পর্ক বোজায় রেখে চলেছে। বাংলাদেশের পরিকাঠামোগত উন্নতির জন্যও চীনের প্রযু্ক্তি ব্যবহার করেছে, এবং চীনের সহযোগীতা নিয়েছে। আর সে ক্ষেত্রে ভারতসরকার কোনদিনই হাসিনাকে বাধা দেয়নি। ফলে ভারত যে আওয়ামীলীগের সরকার কন্ট্রোল করত বলে যে অভিযোগ করা হয়, তা সত্য নয়। বলতে গেলে হাসিনাই বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে সমান ভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক বোজায় রেখে বাংলাদেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিয়েছিল। এমনকি ট্রাম্প সরকারের সঙ্গেও তালমেল বোজায় রেখে চলছিলেন। কিন্তু দেশের মাটি এবং সম্পদ আমেরিকাকে না দেওয়ার কারনেই তার সরকার ফেলার খেলায় মাতে আমেরিকা। কিন্তু হাসিনার সরকারকে ফেলে দিলেও বর্তমান সরকারে আমেরিকার দখলদারীর থেকে চীনের দখলদারী অনেক বেশী, চীন থেকে শুধু অস্ত্র কেনায় নয়, চীনকে নিজের দেশে ড্রোন তৈরীর কারখানা গড়ার জন্যও আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। আর এখানেই চটেছে আমেরিকা। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের এই মাখামাখি কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে তা বাংলাদেশকে বোঝাতে চাইছে আমেরিকা। যে কারণে গত অক্টোবরে মার্কিন সিনেটে রাষ্ট্রদূত নিয়োগের শুনানিতে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন চীনের সঙ্গে যুক্ততায় ঝুঁকির বিষয়টি বাংলাদেশের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছিলেন। ঢাকায় নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দেওয়ার পর প্রথমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সে কথা আবার স্মরণ করিয়ে দিলেন তিনি। ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অতি ঘনিষ্ঠ হওয়াটাতে ঝুঁকির যে বিষয়টি রয়েছে, তা তিনি স্পষ্টভাবে অন্তর্বর্তী সরকার বা নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে তুলে ধরবেন তিনি।
গত বুধবার বিকেলে রাজধানীর ইএমকে সেন্টারে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন ক্রিস্টেনসেন। এরই এক পর্যায়ে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।
গত বছরের অক্টোবরে মার্কিন সিনেটের শুনানিতে ক্রিস্টেনসেন দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কথা বলেছিলেন। বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
আজকের মতবিনিময় সভায় ঢাকাকে বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝে না ফেলে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বিষয়গুলো আমার জন্য বিশেষ আগ্রহের ক্ষেত্র। এই দায়িত্ব পালনের আগে ওয়াশিংটনে আমি এ বিষয়ে একজন বরিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছি এবং বাংলাদেশেও আমার এ নিয়ে কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে শক্তিশালী সামরিক সহযোগিতা রয়েছে। ক্রমে তা আরও জোরদার হচ্ছে।’
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জানান, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সব শাখার সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারত্ব রয়েছে। নৌবাহিনীর সঙ্গে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ে, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও মহড়ার মাধ্যমে সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সঙ্গে অপারেশনাল প্রস্তুতি ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন পরিকল্পনা ও সক্ষমতা উন্নয়নে আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করছি, বিশেষ করে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে তারা কীভাবে আরও বিস্তৃত ভূমিকা রাখতে পারে, পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চাহিদা পূরণে কীভাবে আরও কার্যকর হতে পারে, সে বিষয়ে। আমরা সামরিক সরঞ্জাম কেনার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়েও সহায়তা করছি এবং কোনটি বাংলাদেশি বাহিনীর জন্য সবচেয়ে উপযোগী হতে পারে, তা খতিয়ে দেখছি।’
বাংলাদেশের বাজেট বাস্তবতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নতুন সক্ষমতা আত্মস্থ করার সক্ষমতাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।












Discussion about this post