বাংলাদেশে চলছে সেয়ানে সেয়ানে লড়াই। একে অপরকে টেক্কা দিচ্ছে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক লড়াই। বাংলাদেশে ফিরেছে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রায় ৪১ বছর পর বিএনপিতে রদবদল হয়েছে। মায়ের জায়গায় ফিরেছেন ছেলে তারেক রহমান। খালেদা জিয়া গত বছরের প্রয়াত হয়েছেন। তারেককে নিজের দলকে জয়ী করাই এখন অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। প্রায় ১৫ বছরের বেশী সময় বাইরে ছিলেন তারেক রহমান। বিএনপির নেতা-কর্মীরা ভোট বৈতরণী পার করতে চলেছেন তারেক রহমানকে সামনে রেখে। খালেদা জিয়া থাকতে তিনি ৩ টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। এখন তারেক রহমান কটা আসনে প্রার্থী দেয় সেই বিষয়ে কিছুই বলেননি। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে গণআন্দোলনের জেরে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা। হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বর্তমান সরকার মহম্মদ ইউনূসের আমলে তেমন স্বাধীনতায় নেই। নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি সেই সময় হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় প্রকাশ্যে এলেন। দীর্ঘদিন বাদে জয় স্পষ্ট বললেন, আমার মা অর্থাৎ শেখ হাসিনা কাউকে হত্যা করেননি। আমার মা নির্দোষ। বর্তমানে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের দেখলে মনে হবে তারা অনেক মাস অনেক গুলো দিন অনেক গুলো ঘন্টা চাতক পাখির মত বসেছিল। কারণ শেখ হাসিনা কখনও সামনাসামনি না আসলেও তিনি বিভিন্ন সংবাদমাধ্য়মে একাধিক বার্তা দিয়েছেন নিজের দলের নেতা কর্মীদের চাঙ্গা করার জন্য। আবার কখনও তিনি ই-মেলেও বার্তা দিয়েছেন। দেশের রাজনৈতিকভাবেে কোণঠাসা দলটির জন্য এমন কিছুই দরকার ছিল। ভারতীয় সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈনের নেওয়া সাক্ষাৎকারটি নিজের এক্স হ্যাণ্ডেলে পোস্ট করেছিলেন। পোস্ট করার পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নতুন করে আশার আলো পেয়েছেন। জয় স্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আন্দোলনকে ভুল পথে চালিত করেছেন। তিনি বলেন, যাতে কোনও রক্ত না ঝড়ে সেই কারণে শেখ হাসিনা ২৪ সালে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। কোনও ঝামেলাতে জড়াতে চাননি। পরিস্থিতি চলে যায় হাতের বাইরে। নির্বাচন এবং দলের অবস্থান নিয়েও খোলাখুলি আলোচনা করেছেন জয়। যেখানে মিশেছিল সাফাই এবং ক্ষোভ। ২০১৮ সালে নির্বাচনে কোনও অনিয়মের কথা শিকার করলেও জয়ের দাবি সুষ্ঠু যদি ভোট হত তাহলে আওয়ামী লীগই জিতত। আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না যা অগণতান্ত্রিক। দাবি বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগের কর্মীদের হত্যা করছে সন্ত্রাসীদের মুক্তি দিচ্ছে। অন্যদিকে, নির্বাচন নিয়ে জয়ের পাশাপাশি, তারেক রহমান নির্বাচন নিয়ে বলেন, সব ধরনের ষড়যন্ত্র ও ভোট কারচুপির পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দেশের জনগণকে সজাগ ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি মন্তব্য করেন, ধানের শীষে জয় মানেই জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা। জনগণের শাসন ছাড়া দেশের মানুষের ভাগ্য বদলানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল বারবার বলে- এবার আমাদের দেখেন। কিন্তু ১৯৭১ সালে যখন লাখো মানুষের প্রাণের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে, তখন তারা কাদের পক্ষের ছিল? যারা দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাদের নতুন করে দেখার কিছু নেই। একমাত্র পথ হলো জনগণের শাসন কায়েম করা- যেখানে শাসক জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে। যতই রাজনৈতিক দলগুলি হুঙ্কার দিক, তবে মাঠের বাস্তবতা আওয়ামী লীগের জন্য প্রতিকূল। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, আওয়ামী লীগের ফিরে আসা কঠিন ময়দানে। একদিকে তারেক রহমান দেশজুড়ে বিএনপিকে সুসংগঠিত করে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, অন্য দিকে জয় বিদেশের মাটিতে থেকে আওয়ামী লীগের অস্বিত্ব রক্ষার লড়াই চালাচ্ছেন। এখন দেখার কোন দিকে এগোয় বাংলাদেশের রাজনীতি।












Discussion about this post