আন্তজার্তিক মহলে এখন একটাই আলোচনা বাংলাদেশ ইস্যু। আর বাংলাদেশের এই বিষয়ে অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ একটি দেশ চিন। কারণ বাংলাদেশের উন্নয়নে চিনের অনেক বেশি প্রভাব রয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে বাংলাদেশে-চিন সম্পর্কে সমীকরণ তৈরি হয়েছে জুলাই বিপ্লব এবং ৫ই অগাস্টে অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে। অন্যদিকে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত সম্পর্কের সমীকরণ কি হবে, তারও একটি বড় ফ্যাক্টর চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক। এমনকি কতটা ইতিবাচক হবে দুই দেশের সম্পর্ক, সেটিও অনেকটাই নির্ভর করছে চিন-বাংলাদেশের সম্পর্কে।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের সবথেকে বড় ফ্যাক্টর হল অর্থনৈতিক ও সামরিক। অনেক আগে থেকেই এটি লক্ষ্য করা গিয়েছে, বাংলাদেশ সবথেকে বড় বাণিজ্য সহযোগী। শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করার পর চীন এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গাঢ় হয়। তার কারণ বাণিজ্যিক সহযোগী চীন। এছাড়াও বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, সড়ক, সেতু-সহ বেশিরভাগ বড় বড় পরিকাঠামোতে বিনিয়োগ করেছে চীন। তার একটি গুরত্বপূর্ণ উদাহরণ হল সাম্প্রতিক তৈরি হওয়া পদ্মা সেতু। বিশ্বব্যাঙ্ক থেকে সাড়া না পেয়ে শেষমেশ প্রায় চীনের সহযোগিতায় পদ্মা সেতুর কাজ করে আওয়ামী লীগ সরকার। অর্থাৎ, হাসিনা সরকারের আমল থেকেই চীনের সঙ্গে একটি সুসম্পর্ক রাখার চেষ্টা হয়েছিল।
এখন প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকার চীনের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক রাখবে? এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়, অন্তবর্তী সরকার কতদিন ক্ষমতায় থাকবে। তবে মোটামুটিভাবে যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদেশীরা ধীরে চলো নীতিই মেনে চলবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, রোহিঙ্গা ইস্যু এবং তিস্তা ইস্যুতে নতুন করে ভূমিকা রাখার সুযোগ আসে চীনের সামনে। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে সঙ্কট থাকায় আর্থিক সহায়তার মাধ্যমেও ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের সম্ভাবনা তৈরি হয় চীনের সামনে।
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সম্পর্কের ভবিষ্যৎবানী করতে গিয়ে এক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ বলেন, বাংলাদেশ এবং চীনের সম্পর্ক ইতিবাচক দিকেই এগিয়ে যাবে। অন্যদিকে ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক কিছুটা অবনতি হয়েছে। এখানে চিন খানিকটা সুবিধা করে নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। আরও একটি বিষয় উল্লেখ্য, মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে চীন প্রতিযোগী দেশ হিসাবে গণ্য হয়। সেখানে ওয়াশিংটন চাইবে দক্ষিণ এশিয়ায় যেন চীনের আধিপত্য বেশি না থাকে। যদিও বাংলাদেশের এখন অর্থ প্রয়োজন, তাতে যে চীন এগিয়ে আসবে, বিষয়টা একেবারেই এমন নয়। কারণ চীন ঋণ দেওয়া আগে সেই দেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালভবে পর্যবেক্ষণ করে। যেমন শ্রীলঙ্কার আর্থিক সংকটের সময় চীন কোনও ঋণ দেয়নি। অথচ এর আগে চীনের টাকায় অনেক বড় বড় প্রকল্প করেছে শ্রীলঙ্কা।












Discussion about this post