আবারও আগুনের গ্রাসে চট্টগ্রাম বন্দর। তবে আগুনটা দৃশ্যমান না হলেও আগুনটা ভয়ঙ্কর। চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার ভার বিদেশি অপারেটরদের ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলসহ চারদফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ডিপি ওয়ার্ল্ড দুবাই ভিত্তিক একটি অপারেটর। আন্দোলন প্রথমদিকে সীমিত কর্মবিরতির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। পরে তা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া কর্মবিরতি শেষ হওয়ার পর বুধবার সকাল থেকে শুরু হয় অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি। বন্দরের সব ধরনের অপারেশন কার্যক্রম স্তব্ধ। জেটিগুলিতে জাহাজগুলি অলসভাবে পড়ে রয়েছে। যন্ত্রপাতির কোনও আওয়াজ নেই। কোনও কন্টেইনার উঠছে না, নামছে না। বন্দরে এক আশ্চর্য নিস্তব্ধতা। কয়েকটি জেটি খালি থাকলেও শ্রমিক আন্দোলনের কারণে নতুন কোনও জাহাজ বন্দরে ভিড়তে পারেনি। ফলে, অপেক্ষমান জাহাজের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬টিতে। গত ২৪ ঘণ্টা বন্দর বন্ধ থাকায় ভারী যানবাহন আটকে পড়েছে। বন্দরের বাইরে গাড়ির দীর্ঘ সাড়ি। যানজট এড়াতে পুলিশ এবং প্রশাসন বন্দর এলাকায় নতুন করে কোনও গাড়ির প্রবেশে অনুমতি দিচ্ছে না।
এই অচলাবস্থার পিছনে রয়েছে কয়েক ধাপের কর্মসূচি। গত শনিবার থেকে পরপর টানা তিনদিন আটঘণ্টা করে করে কর্মবিরতি পালন করে শ্রমিকরা। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে কোনও দাবি দাওয়া নিয়ে ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ার কর্মীরা মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয় ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির ডাক দেয়। আর বুধবার সেটা অনির্দিষ্টকালের আন্দোলনে কর্মসূচিতে রূপ নিয়েছে। পণ্য আমদানি এবং রফতানির জন্য হাজার হাজার ট্রাক আটকে রয়েছে। পণ্যখালাসে দেরি হওয়ায় অতিরিক্ত স্টোর রেন্ট ও মাশুল গুণতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। সময়মতো পণ্য রফতানি করতে না পারায় বাতিল হচ্ছে একের পর এক বরাত। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নেতিবাচক বার্তা যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। রমজানের আগে ভোগ্যপণ্যবাহী বহু কন্টেইনার বন্দরে আটকে পড়ায় বাজারে পণ্য সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ী, নেতা এবং অর্থনীতিবিদেরা সতর্ক করে বলেছেন, এনসিটি ইস্যুতে বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং শ্রমিক সংগঠনের অনড় মনোভাব অব্যাহত থাকলে এই নজিরবিহীন সংকট আরও ঘনীভূত হবে। দেশের অর্থনীতিতে তা চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। চট্টগ্রাম বন্দর ঐক্য পরিষদের সমন্বয়করা দাবি করেছে, শ্রমিক কর্মচারিরা স্বতস্ফূর্তভাবে এই আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। তারা তাদের দাবি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চেয়ছিল। কিন্তু সরকারের তরফে কোনও সবুজ সংকেত না পাওয়ায় প্রথমে কর্মীরা তিনদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন। তাদের আশা ছিল, এই কর্মসূচির জেরে সরকার তাদের আলোচনার টেবিলে ডাকবে। সেটা না হওয়ায় তারা মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির ডাক দেয়। এই কর্মবিরতি ছিল সরকারের জন্য আলটিমেটাম। সরকার কোনও বার্তা না দেওয়ায় বাধ্য হয়ে পরের দিন থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়।
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতা হুমায়ুন কবীর। ছিলেন সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন। এক প্রশ্নের উত্তের ইব্রাহিম খোকন বলেন, তিনি বলেন, “উপদেষ্টা (নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা এম শাখাওয়াত হোসেন) বৃহস্পতিবারের বৈঠকে আমাদের দাবি পূরণে আশ্বাস দিলেও এখনো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেননি। আর বন্দর চেয়ারম্যান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আসন্ন নির্বাচন বানচাল করতে চায়। তাকে অপসারণ করে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।”সংবাদ সম্মেলনে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা বলেন, আন্দোলন শুরুর পর থেকে এ কদিন বন্দরের বর্হিনোঙরের কাজ কর্মবিরতির আওতায় ছিল না। তবে রোববার থেকে ডাকা ধর্মঘটে বর্হিনোঙরেও ‘কাজ হবে না’ বলে জানিয়ে দিয়েছেন পরিষদের নেতারা।দেশের মোট রপ্তানির ৯১ শতাংশই হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। টানা ছয় দিন কর্মবিরতি ও ধর্মঘটের কারণে বন্দর থেকে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের খালাস বন্ধ হয়ে যায়। আন্দোলনকারীদের বাধায় বন্দরের তিনটি প্রধান টার্মিনাল- নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল, চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও জেনারেল কার্গো বার্থের (জিসিবি) কার্যক্রম মঙ্গলবার থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে।অভিযোগ উঠেছে ঢাকায় বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিডা কার্যালয়ে বন্দর কর্মকর্তাদের আটকে রেখে কার্যত চাপের মুখে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সই করানোর চেষ্টা চলছে। তারা জানায় এনসিটির দেশ বিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল না করা পর্যন্ত তারা তাদের কর্মসূচি চালিয় যাবে।
এদিকে নৌ উপদেষ্টা শাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, এভাবে বন্দর অচল করা যাবে না। যদি কোনও শ্রমিক বন্দরে কাজ করতে যেতে চান বা কাজ করতে ইচ্ছুক, তাঁকে বাধা দেওয়া যাবে না। সেটা হল সরকার কড়া পদক্ষেপ করবে। নৌ উপদেষ্টা বলেন, তিনি খবর পেয়ছে কাজ করতে ইচ্ছুক বহু কর্মীকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post