“আমি আপনাদেরকে এটুকু বলতে পারি, যে আমার দিক থেকে… এবং আমার দিক থেকে.. আমার হায়ারআর্কিতে যেটুকু আছেন… সিনিয়র অ্যাডভাইজার আছেন… এটা কিন্তু কোনও কনফ্লিক্ট নেই। আমরা আসলেই ভারতের সঙ্গে একটা good working relationon the basis of responsibility and mutual interest- এটা আমরা চেয়েছিলাম সবসময়। সফল হয়েছি এটা ঠিক বলতে পারি না। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই এটাতো অনেকটাই থমকে আছে। আমি বলব না যে বিরাট কোনও ক্রাইসিস সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু সম্পর্কটা থমকে আছে। আমি… দোষারোপ করতে চাই না কাউকে। ভারত নিশ্চই তাদের স্বার্থ যেভাবে তারা চিন্তা করে সেভাবেই করেছে। আমরা আমাদের স্বার্থ যেভাবে… রক্ষিত হবে বলে ভেবেছি, সেভাবে চেষ্টা করেছি। … দুটো ঠিক অনেক ক্ষেত্রেই মেলেনি। Let us accept the reality. আমাদের দুই পক্ষের যে নিজস্ব স্বার্থের যে একটা ধারণা, সেই দুটি স্বার্থের ধারণাটার মধ্যে একটা তফাৎ রয়ে গিয়েছে যে কারণে অনেক ক্ষেত্রেই আমরা এগোতে পারিনি। আমি আশা করব যে আমার উত্তরাধিকারী যিনি আসবেন এবং আমাদের উত্তরাধিকারী যে সরকার হবে, তাদের সময়ে আবার relations smoothen হওয়া যেটাকে বলে, মসৃণ একটা সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হওয়া। Issues থাকবেই। আমি এটা সব দেশের ক্ষেত্রেই বলেছি।Issues থাকবেই। সেগুলি নিয়ে কিছু সংঘাত থাকবে.. স্বার্থে। কিন্তু তারপরেও একটা smoothrelation গুরুত্বপূর্ণ। সেটা আমি আশা করব আমাদের পরবর্তী সরকার সে ব্যাপারে অগ্রসর হতে পারবেন। ”
যা শুনলাম সেটাই কি শুনলাম?
এই বিবৃতি তদারকি সরকারের বিদায়ী উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের, “মিট দ্য প্রেস” অনুষ্ঠানে। এটাকে নিছক বয়ান বলা যায় না। এটা স্বীকারোক্তি। ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে তাঁর জবানবন্দি। বিদায়ী উপদেষ্টা স্বীকার করে নিয়েছেন, তাঁর সরকারের তরফে ব্যর্থতার কথা। তিনি নির্দিধায় জানিয়েছেন, বাস্তব স্বীকার করে নেওয়া দরকার। বিদায়ী উপদেষ্টা জানিয়েচে, দুটি স্বার্থের মধ্যে একটি তফাৎ রয়ে গিয়েছে। আর সেই পার্থক্য না মেটায় সম্পর্ক মসৃণ হয়নি।
কথা বলেছেন আওয়ামী লীগকে নিয়েও। মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে বিদায়ী উপদেষ্টা বলেন, “আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের ব্যাপারে as for as I am concern, আমার সাথে যারা দেখা করতে এসেছে, তারা জানতে চেয়েছে কেউ কেউ, সবাই না। কিন্তু কেউ কোনও ধরনের চাপ আমার ওপর সৃষ্টি করেননি যে এটা করেন বা আপনাদের উচিত এটা করা ইমিডিয়েটলি। এরকম কথা কেউ আমাকে কখনও বলেনি। ”
ভিসা নিয়েও তিনি তাঁর ব্যক্তিগত অভিমত জানিয়ে দিয়েছেন। বিদায়ী উপদেষ্টা বলেন, “এটা… এই ব্যাপারে আমি কোনও ধরনের কোনও … আমি কিন্তু যদি আসলে আমার কোনও সীমাবদ্ধতা থাকে, আমি কিন্তু করতে … খুব কষ্ট হয় না আমার। কিন্তু এর জন্য কোনও দায় আমি as advisor for foreign affairs. এটা দেশের দায়। পুরো সিস্টেমের দায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও না।… আমার ব্যক্তগতি ভাবেও না। ” তিনি বলেন, “ পৃথিবীজুডে় প্রচুর সুযোগ আছে। আমরা তা নিজেদের দোষে ব্যবহার করতে পারছি না। ভিসা দেয় না। এর জন্য সম্পূর্ণভাবে আমরা দায়ী। প্রধান উপদেষ্টা নিজেই বলেছেন, জালিয়াতিতে আমরা সেরা। আপনি যখন জালিয়াতি করবেন, তখন আপনার কাগজ কেন বিশ্বাস করবে।” তৌহিদ হোসেন বলেন, ভিসা বলুন, অ্যাডমিশন বলুন – সবকিছু কাগজের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। কাগজ দেখে বিশ্বাস করানোর দায়িত্ব আমাদের। যদি দেখা যায়, কোনো মহিলা কোনো দেশে মেইডের চাকরি করতে গেছেন, কিন্তু তার ভিসা হলো ফ্রন্ট অফিসার ম্যানেজার হিসেবে। চিন্তা করুন যে আমরা কী পরিমাণ ধাপ্পাবাজি করেছি।’ ‘আমরা যতক্ষণ ঘর না গোছাব, এই সমস্যার সমাধান হবে না। আরও দুঃসময় আসতে পারে,’ বলেন তিনি।
শেষ সময়েও অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যেসব চুক্তি সই করছে, সেগুলো পরবর্তী সরকারের জন্য বোঝা হয়ে যাবে কি না?সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি উল্টোটা মনে করি। আমি মনে করি আমরা অনেক ইস্যু এগিয়ে দিচ্ছি, যাতে পরবর্তী সরকারের জন্য কাজ করা সহজ হয়।’












Discussion about this post