বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা করেছেন আসন্ন ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই ঘোষণায় যেমন বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর এক পক্ষ অখুশি, আবার অন্য একটি পক্ষ খুব খুশি। তবে নির্বাচন হচ্ছে ধরে নিয়ে সব পক্ষই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ভবিষ্যত এখনও ঝুলে রয়েছে। সম্পূর্ণ অবৈধ ও অসাংবিধানিক উপায়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে রেখেছে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। পাশাপাশি সে দেশের নির্বাচন কমিশনও আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল করে দিয়েছে। ফলে আসন্ন নির্বাচনে শেখ হাসিনার দল অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। দিন কয়েক আগেই এক ব্রিটিশ মন্ত্রীকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়ে দিয়েছেন, যে হেতু আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযুক্ত, তাই তাঁরা নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে পারবে না। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের মুখের কথায় তো সব হয় না। কারণ, আওয়ামী লীগ ঐতিহাসিকভাবেই এশিয়ার প্রাচীন রাজনৈতিক দলগুলির একটি। ফলে এ ভাবে তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা নিয়ে এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চেও একাধিক সংগঠন ও দেশ সরব হচ্ছে। এমনকি ঘরেও অশান্তির চোরা স্রোত।
বাংলাদেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন কি সত্যিই অংশগ্রহণমূলক হবে? এই প্রশ্ন এখন কেবলমাত্র বাংলাদেশবাসীর নয়, বরং গোটা বিশ্বের কূটনৈতিকদের কাছে কৌতুহলের বিষয়। ঠিক আবহেই বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় হাজির হলেন কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি বচওয়ে। তাঁর এই নীরব কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফরটি নতুনভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে একটি মাত্র শব্দের জন্য। সেটা হল ইনক্লুশিভ ইলেকশন বা ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন’। ভারত প্রথম থেকেই বাংলাদেশের প্রসঙ্গে, সে দেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে যাবতীয় প্রশ্নের জবাবে এই শব্দদ্বয় ব্যবহার করছে। ভারতের স্পষ্ট অথচ তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা, বাংলাদেশে নির্বাচন হতে হবে সুষ্ঠ, অবাধ এবং অংশগ্রহণমূলক। এবার কমনওয়েলথ তাঁদের বিবৃতিতে সরাসরি ইনক্লুশিভ ইলেকশন শব্দদ্বয় ব্যবহার করলো। যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে গভীর তাৎপর্য বহন করতে চলেছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বক্তব্য, বিরোধী দলের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক চাপ, জুলাই সন্ত্রাসের প্রভাব, সব মিলিয়ে একটা জট পেকে গিয়েছে। যার মুলে যে শব্দটি রয়েছে, তা হল ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন’।
বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে কোনও বিদেশী সংস্থা, বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধানের আগমন হলে আমরা দেখেছি সেটা নিয়ে মিডিয়ার প্রচার, প্রেস উইংয়ের দাপাদাপি, সরকারি আড়ম্বর এবং একটা হইচই ব্যাপার সৃষ্টি হয়। কিন্তু বাংলাদেশে বিগত কয়েকদিনে দুটি সফর হল। একটি ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সফর এবং অন্যটি কমনওয়েলথের মহাসচিব শার্লি বচওয়ের সফর। এই দুটি সফরই কেমন যেন নীরব ও আড়ম্বরহীন অবস্থায় শেষ হল। কিছু যেন লুকোনোর চেষ্টা হল। আর সেটাই রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের নীরব কূটনীতির ভিতরে আসলে এক ধরনের চাপ তৈরি হয়। সেই চাপই যে কোনও সরকারকে সংযত এবং বিমর্ষ করে তোলে। যেমনটা হয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারে। তাঁরা এখন প্রবল চাপে। আমরা প্রথমে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে দেখলাম, তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টার পাশাপাশি সে দেশের তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সাথেও বৈঠক করেছিলেন। ঠিক যেমনটা করলেন কমনওয়েলথের মহাসচিব শার্লি বচওয়ে। তিনিও বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি, আইন উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশীদারের সাথে আলাদা আলাদা বৈঠক করেছেন। যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমনওয়েলের মহাসচিবের সাথে বৈঠকের পর বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন,দুই ক্ষেত্রেই আমরা কমনওয়েলথের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি‘। কিন্তু সব কর্মসূচি সম্পন্ন করে শার্লি বচওয়ে ঢাকা ছাড়ার পূর্বে জানিয়ে যান, কমনওয়েলথ বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়। অর্থাৎ বুঝতেই পারছেন কূটনৈতিক মহলে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রহণযোগ্যতা এখন কোন পর্যায়ে রয়েছে। এই সফরের পর কমনওয়েলথের অফিসিয়াল বিবৃতিই এখন সবচেয়ে বড় ইঙ্গিত, আগামী নির্বাচনের নৈতিক বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা কোন দিকে যাবে? আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি এবং আরও অনেক দেশ এবার আওয়ামী লীগের হয়ে সরব হবে। কারণ কমনওয়েলথের মধ্যে জি৭ এবং জি২০ সদস্য-সহ ৫৬টি দেশ রয়েছে। যার সবচেয়ে বড় অংশীদার ভারত।
প্রকাশ্যে গুলি। একবার নয়, একাধিকবার। বলা হচ্ছে গুলি মাথার এফোঁড় ওফোঁড় করে বেরিয়ে গিয়েছে। যারা গুলি চালিয়েছে, তারা এসেছিল বাইকের...
Read more












Discussion about this post