বিগত দেড় বছরে বাংলাদেশে বেশ কয়েকজন বিদেশী অতিথি এসেছেন। যাদের নিয়ে যথেষ্টই মাতামাতি করেছে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। এবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় সফরে এসেছিলেন ভূটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভুটান সফরের পর পরই ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সফর করলেন। এটা নিয়ে বাংলাদেশের মিডিয়া খুব একটা উচ্চবাচ্য করছে না। তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা, বাণিজ্য উপদেষ্টাদের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। তেমনই সকলকে অবাক করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। আর এটাই কূটনৈতিক মহলের কাছে সবচেয়ে কৌতুহলের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেটা জানা যাচ্ছে, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলেছেন। অর্থাৎ তাঁদের আলোচনায় বাংলাদেশের নির্বাচনের বিষয়টি ছিল। সেখান থেকেই প্রশ্ন উঠছে, ভুটানের মতো ছোট্ট একটি দেশ বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে কিভাবে? এটা কি ইউনূস সাহেবের কূটনৈতিক ব্যর্থতা নয়?
হিমালয়ের কোলে অবস্থিত শান্ত এবং ছোট্ট একটি দেশ ভুটান। কূটনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে আসলে ভারতের বিশেষ বার্তা নিয়ে ঢাকায় গিয়েছিলেন। যা এই মুহূর্তে কূটনৈতিক এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিক। সে কথায় পরে আসছি, আগে কয়েকটি বিষয়ে আলোকপাত করা যাক। ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার যথেষ্টই সক্রিয় ছিল। প্রধান উপদেষ্টার দফতরের যে সামাজিক যোগাযোগ পেজগুলি রয়েছে তাতে ফলাও করে শেরিং তোবগের বিভিন্ন কর্মসূচি, বৈঠক, সৌজন্য সাক্ষাৎকারের সচিত্র বিবরণ পোস্ট করা হয়েছে। তবে দৃষ্টিকটুভাবে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সাথে শেরিং তোবগের সাক্ষাতের কোনও ছবি প্রধান উপদেষ্টার দফতর প্রকাশ করেনি। এটা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকেই অপমান করা নয়, এটা কূটনৈতিক মহলেও বাজে বার্তা গেল। যা আদতে বাংলাদেশের মাথা হেঁট করল। যেখানে বিএনপি, জামাত, এনসিপি নেতৃত্ব অথবা বিডার চেয়ারম্যান আসিক চৌধুরীর সাথে শেরিং তোবগের সাক্ষাৎকারের ছবি ও বিবরণ পোস্ট করা হয়েছে, সেখানে খোদ রাষ্ট্রপতিকে বাদ দেওয়া উচিৎ হয়নি বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। যদিও কেন এবং কি উদ্দেশ্যে এটা করা হয়েছে, সেটাও সকলে বোঝেন।
এবার আসি আসল প্রসঙ্গে। ভুটান বরাবরই ভারতের স্ট্রাটেজিক পার্টনার। ভুটানের ডোকালাম ভ্যালিতে চিনের অবকাঠামো নির্মান নিয়ে যখন ভারতের সাথে চিনের বিবাদ বেঁধেছিল, তখনও ভুটান ভারতের পাশে ছিল। তাই ডোকালাম ইস্যুতে ভারত চিনের চোখে চোখ রেখে বিষয়টি মিটমাট করতে পেরেছিল। ভুটান আজও ভারতের পাশে আছে বন্ধু প্রতিবেশী এবং সহযোগী দেশ হিসেবে। ভুটানের উন্নয়ন এবং বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মানের জন্য আজও ভারতের কেন্দ্রীয় বাজেটে সবচেয়ে বেশি টাকা বরাদ্দ করা হয়। পাশাপাশি ভুটানের নিরাপত্তা এবং সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্বও ভারতের। উল্লেখ্য, এবারও দিল্লি বিস্ফোরণের মতো গুরুতর আবহেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুদিনের ভুটান সফর বাতিল করেননি। যেটা জানা যাচ্ছে, ভারত-ভুটান সম্পর্কের গভীরতা, সে দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে ভারতের অবদান তুলে ধরতেই শেরিং তোবগেকে ঢাকা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। সহযোগী বন্ধুর পাশে ভারত কিভাবে ঢাল হয়ে দাঁড়ায় সেটাই বলার জন্য তোবগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলির সাথে বৈঠক করেন। কূটনৈতিক ভাষায় তাঁদের কাছে ভুটানের অভিজ্ঞতা ও আনুগত্য বুঝিয়ে এসেছেন তোবগে। ঢাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করে নরেন্দ্র মোদির সেই বার্তা পৌঁছে দিলেন শেরিং তোবগে। প্রসঙ্গত, এর আগেও ভুটান বহুবার ভারতের বার্তাবাহক হয়ে অনেকগুলি কূটনৈতিক দৌত করেছে। এবারও ভুটান ভারতের হয়ে ব্যাট ধরলেন। আসন্ন নির্বাচনে কোন দল বা জোট বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসবে তা ঠিক হয়নি। তবে যে বা যারাই আসুক, ভারত তাঁদের কাছে একটা বার্তা পাঠিয়ে রাখলো ভবিষ্যতের জন্য।
প্রকাশ্যে গুলি। একবার নয়, একাধিকবার। বলা হচ্ছে গুলি মাথার এফোঁড় ওফোঁড় করে বেরিয়ে গিয়েছে। যারা গুলি চালিয়েছে, তারা এসেছিল বাইকের...
Read more












Discussion about this post