২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে খলিলুর রহমান কাতারের রাজধানী দোহায় তিনবার সফর করেছেন। তবে সেই সফরগুলির কারণ, ফলাফল এবং সেখানে তিনি ঠিক কি করেছেন সেটা নিয়ে ঢাকা খুব একটা উচ্চবাচ্য করেনি। যদিও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘনিষ্ট সুত্র উদ্ধৃত করে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল, যে দোহায় অবস্থিত মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করেতেই সেখানে গিয়েছিলেন খলিলুর রহমান। গত ১৯ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সাথে বৈঠকের পর দ্রুত ঢাকা ফিরেছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। এর পাঁচদিন পর ২৫ নভেম্বর কাতারের দোহায় একটি “সরকারি” সফরে রওনা হয়েছেন তিনি। যা নিয়ে এখন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে তুমুল কৌতুহল। ভারতের নর্থইস্ট নিউজের দাবি, ২৫ থেকে ২৮ নভেম্বর তিন দিনের জন্য দোহায় থাকবেন। দোহায় তিনি কাদের সাথে দেখা করবেন তা রেকর্ডে না থাকলেও, বাংলাদেশি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে যে তিনি সম্ভবত মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করবেন। তবে তাঁর এই সফরের অনুমোদনের আনুষ্ঠানিক আদেশ ২৪ নভেম্বর জারি করা হয়েছে। অর্থাৎ একেবারে শেষ মুহূর্তে তাঁর দোহা সফর ঠিক হয়েছে, এবং তিনি চটজলদি ফ্লাইট ধরে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। যা আরও কৌতুহল বাড়িয়েছে কূটনৈতিক মহলের।
আরও আকর্ষণীয় বিষয় হল, দোহা মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। যেখানেই মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় মার্কিন বেস রয়েছে। ফলে মার্কিন নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বিভাগের উচ্চতর কর্মকর্তাদের অফিসও রয়েছে দোহায়। যারা গত আগস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। খলিলুরের ঘনঘন দোহা যাওয়া তাই বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের আগস্টে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নিযুক্ত হন। এরপর ২৬ মে তিনি কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইট ধরে দোহা যান এবং সেখানে মার্কিন সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এরপর ২৬ জুলাই প্রথমে দিন দুয়েকের জন্য দোহা এবং সেখান থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন খলিলুর রহমান। ২৮শে আগস্ট দোহায় রোহিঙ্গা-রাখাইন মধ্যস্থতা কৌশল নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মার্কিন কর্তাদের সাথে ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন খলিলুর। সেখান থেকে ঢাকায় ফিরেই তিনি বেজিং সফরে চলে যান। এবারও দিল্লিতে ডোভালের সাথে বৈঠকের পর তিনি দোহা উড়ে গেলেন। কিন্তু কেন?
দোহায় এই ঘন ঘন সফর এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে খলিলুর রহমানের গোপন বৈঠক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এবং ভারতে একাধিক প্রশ্ন উত্থাপন করছে। এবারের তাঁর দোহা যাত্রার একটা কারণ সম্পর্কে বিশ্লেষকরা কার্যত একমত। সম্প্রতি অজিত ডোভালের সাথে তাঁর বৈঠক এবং তাতে বাংলাদেশের জঙ্গি নেটওয়ার্কের উপস্থিতি এবং প্রশিক্ষণ শিবির নিয়ে প্রমানপত্র তুলে দেওয়ার পরই খলিলুর তড়িঘড়ি দোহা ছুটলেন। জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকা থেকে সক্রিয় ইসলামিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির ক্রমবর্ধমান হুমকি সহ গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন অজিত ডোভাল। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী দুই-তিনটি জেলায় কমপক্ষে ১২টি জঙ্গি শিবিরের অস্তিত্বের প্রমাণ স্বরূপ একাধিক উপগ্রহ চিত্র, জঙ্গিদের কথোপকথনের কল রেকর্ড, ডিজিটাল প্রমান, ছবি, ভিডিও সবই দেওয়া হয়েছে ভারতের পক্ষ থেকে। এই শিবিরগুলি পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং রংপুর বিভাগে অবস্থিত বলে জানা গেছে। এমনকি ওই দিনের বৈঠকের দ্বিতীয় পর্যায়ে উপস্থিত ছিলেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বা তাঁর কোনও প্রতিনিধিও। এই জঙ্গি শিবিরাগুলি নিষ্কৃয় করার জন্য আমেরিকাকে পাশে নিয়েই ঢাকাকে চাপ দিয়েছে দিল্লি। যা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে অত্যন্ত অস্বস্তিকর। তাই পরিস্থিতি হালকা করতে এবং আরও কিছুটা সময় চাইতে অথবা এই পরিস্তিতিতে তিনি কি করবেন, সেফ এক্সিট কার থেকে পাবেন এই সমস্ত বিষয়ে আলোচনা করতেই দোহা পাঠানো হয়েছে খলিলুর রহমানকে। ইউনূস বুঝে গিয়েছেন, তাঁর সময় শেষ হতে চলেছে। তাই সেফ এক্সিট প্ল্যান নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা চালাতে চাইছেন তিনি। খলিলই হল তাঁর ডানহাত। তাই তাঁকেই দোহা পাঠানো হয়েছে সবদিক সামলানোর জন্য।
প্রকাশ্যে গুলি। একবার নয়, একাধিকবার। বলা হচ্ছে গুলি মাথার এফোঁড় ওফোঁড় করে বেরিয়ে গিয়েছে। যারা গুলি চালিয়েছে, তারা এসেছিল বাইকের...
Read more












Discussion about this post