১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল বাংলাদেশ। তবে তার আগে ১৯৪৭ সালেই ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তানের জন্ম হয়। দ্বিজাতি তত্ত্ব মেনে বর্তমান বাংলাদেশকে পাকিস্তানের অংশে রাখা হয়। যার নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান। মজার বিষয় হল, ১৯৭১ সালের আগে যখন বাংলাদেশ পূর্ব পাকিস্তান ছিল, তখন পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে দূরত্ব ছিল প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার। এই দূরত্ব অতিক্রম করে পাকিস্তান বা পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকরা পূর্ব পাকিস্তানে শাসন করতেন। ইতিহাস সাক্ষী, সে সময় পূর্ব পাকিস্তানের যত ধনসম্পদ হরণ করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে গিয়ে বিনিয়োগ করতেন তৎকালীন পাকিস্তানের শাসকরা। যা নিয়ে প্রথম অসন্তোষ দানা বেঁধেছিল। সেই সময় পাকিস্তানের উন্নয়নের একটা বড়া লগ্নিই ছিল পূর্ব পাকিস্তানের সম্পদ। এরপরের ইতিহাস সবাই জানেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়, এরপর ধীরে ধীরে নিজের পায়ে দাঁড়ায়। নদীমাতৃক বাংলাদেশ যেমন শষ্যশ্যামলা, মাছের ভাণ্ডার। এছাড়াও আছে আরও সম্পদ। ফলে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে গত ৫৩ বছরে বাংলাদেশ অর্থনীতির নানা ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে। অর্থনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসায়িক প্রায় সব সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে পড়েছে পাকিস্তান। মাথাপিছু আয়, জিডিপি প্রবৃদ্ধি, গড় আয়ু, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রফতানি আয়, শিক্ষার হার, নারীর ক্ষমতায়ন- এমন সব সূচকেই বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়ে এখন এগিয়ে। বিগত এক বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে যে হারে শেষ করেছেন মুহাম্মদ ইউনূস, তাতেও পাকিস্তানকে পিছনে ফেলে দেওয়ার মতো যথেষ্ট রসদ রয়েছে। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস দেখুন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বর্তমান সীমান্ত অনুসারে প্রায় ৩,৩২৩ কিলোমিটার দূর থেকে ইসলামাবাদ চাইছে ফের বাংলাদেশকে লুট করতে। আর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার জেনে হোক, না জেনে হোক পাকিস্তানকে আপন করে বুকে টেনে নিচ্ছে। তাঁদের গলাগলি দেখে মনে হচ্ছে, বহু পুরোনো বন্ধুকে যেন আচমকাই খুঁজে পেয়েছে দুজন। বলা চলে মধুচন্দ্রিমা চলছে দু-দেশের সম্পর্কে। কিন্তু রিক্ত, নিঃস্ব পাকিস্তান কেন বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকতে চাইছে? এটা কি কেবল ভারত বিরোধীতা, নাকি এর পিছনে রয়েছে অর্থনীতির গূঢ় রহস্য?
আসলে পাকিস্তানের নজর বাংলাদেশের সমুদ্রের দিকে। কারণ যে দেশটা কার্যত ভিখারি, নিজেরাই আমেরিকা, চিন বা ইউরোপীয় দেশগুলির থেকে ভিক্ষা করে নিজেদের দেশ চালায়, তাঁরা বাংলাদেশের সাথে কিসের ব্যবসা, বাণিজ্য করবে? এটাই সবচেয়ে বড় কৌতহলের বিষয়। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রফতানি আয় ছিল ৪৪.৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সে সময় রেডিমে়ড পোশাক শিল্প বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি খাত ছিল এবং এই খাত থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আসে বাংলাদেশের রাজকোষে। আবার ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের রফতানি আয় ৮.৫৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলেই দাবি ইউনূস সরকারের। এ সময়ে মোট রফতানি আয় ছিল ৪৮.২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেখানে সেখানে পাকিস্তানের চিত্র ঠিক বিপরীত। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পাকিস্তানের রফতানি ছিল প্রায় ২৬.৯ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের ৩৫.৯ বিলিয়ন ডলার থেকে কমেছে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার যে দাবি করছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
১৯৭২ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ১২০ ডলার, পাকিস্তানের ১৮০ ডলার। সেখানে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশের মাথাপিছু ছিল ১ হাজার ৩১৬ ডলার, অন্যদিকে পাকিস্তানের ছিল ১ হাজার ৪৭০ ডলার। ২০২৪ সালে এই ফারাক আরও বেড়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদদের দাবি, পাকিস্তান আসলে বাংলাদেশের সমুদ্রের অধিকার নিতে চাইছে। এর মাধ্যমে তাঁরা বাংলাদেশ হয়ে ভারতের পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব প্রান্তে নিষিদ্ধ মাদক সহজে পাচার করবে। কারণ, পাকিস্তানের মাদক কারবারই সে দেশের অর্থনীতির মূল ভিত। এর আগে চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে আসা দুটি কনটেইনারে বিপুল পরিমাণ পপি সিড পাওয়া গিয়েছিল। এই পপি শিড হেরোইন উৎপাদনের মূল উপাদান। পাকিস্তান থেকে গত ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরে আসে চালানটি। বাংলাদেশ কাস্টমস থেকে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, পোল্ট্রি খাদ্য হিসেবে পাঠানো পণ্যচালানটির ঘোষিত মূল্য ছিল ৩০ লক্ষ ২ হাজার ৪৮২ টাকা। কিন্তু পরীক্ষার পর জানা গিয়েছে নিষিদ্ধ পপি শিডের বাজারমূল্য সাড়ে ৬ কোটি টাকা। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, পাকিস্তান কেন বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্যে অগ্রগতি করতে চাইছে। আসলে ইসলামাবাদের মূল লক্ষ্য, বাংলাদেশের বন্দরে পাকিস্তানের পণ্য পরীক্ষা ছাড়াই খালাস করার যে সুবিধা ইউনূস সরকার দিয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে মাদক ও অস্ত্রের চোরাচালান করা। তাতে ভারতকেও চাপে রাখা যাবে, পাকিস্তানি জেনারেলদেরও পকেট ভরবে। আর ফাঁদে পড়বে বাংলাদেশ।
প্রকাশ্যে গুলি। একবার নয়, একাধিকবার। বলা হচ্ছে গুলি মাথার এফোঁড় ওফোঁড় করে বেরিয়ে গিয়েছে। যারা গুলি চালিয়েছে, তারা এসেছিল বাইকের...
Read more












Discussion about this post