কমনওয়েলথের মহাসচিব শার্লি বোচওয়ের নেতৃত্বে ছয় প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করছেন। এরমধ্যে ফেসবুক দুটি পোস্ট দিয়েছেন কমনওয়েলথের মহাসচিব । সেখানে ইনক্লুসিভ নির্বাচনের কথা বলেছেন তিনি। যদিও কমনওয়েলথ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি দেয়নি। অন্যদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সচিবালয়ে গুরুত্বপুর্ণ দুটি বক্তব্য রাখেন। একটি ভারতের কাছে দেওয়া চিঠি নিয়ে এবং অন্যটি ইনক্লুসিভ নির্বাচন নিয়ে। এর আগেও হাসিনার প্রত্যপণ নিয়ে ভারতের কাছে চিঠি গিয়েছে ঢাকার তরফে। কিন্তু নয়া দিল্লি কোনও উত্তর দেয়নি। তবে এইবার সামনে এল ভারতের ভাষ্য। একদিন আগেই তৌহিদ হোসেন, হাসিনার প্রত্যপ্ণ নিয়ে নয়া দিল্লিকে চিঠি দেওয়া প্রসঙ্গে বলেছিলেন, তারা কোনও উত্তর দেয়নি। এত তাড়াতাড়ি উত্তর দেবে, সেটা আশাও করি না। তবে তার একদিন পরই ভারতের তরফে একরকম জবাব এল। অনেকে বলছেন, ঢাকাকে যোগ্য জবাব দিয়েছে ভারত।
বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক করার বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষ থেকে কোনও চাপ নেই। তিনি জানান, কমনওয়েলথের মহাসচিব মূলত নির্বাচন উপলক্ষে এসেছেন ঢাকা সফরে এবং তারা এই নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবেন। তৌহিদ আরও বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন খুবই সুষ্ঠুভাবে অংশগ্রহণভাবে শেষ হবে। এটাই আমরা বিশ্বাস করি। সেখানে তারা এবং আরও অনেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে পর্যবেক্ষক হিসাবে আসবেন এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। অন্যদিকে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে নিয়ে চিঠির জবাব দেয়নি ভারত। এমনকি তিনি বলেন, এত তাড়াতাড়ি জবাব আশাও করি না। তবে এরমধ্যেই ভারতের ভাষ্য সামনে এল। হাসিনাকে ফেরাতে বাংলাদেশের অনুরোধ পর্যালোচনা করছে ভারত।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের মন্তব্যের একদিন পরেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের ফেরত পাঠানো নিয়ে ঢাকার চিঠি প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের কাছ থেকে অনুরোধ পেয়েছি। সেই অনুরোধ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। বিচার বিভাগীয় পদ্ধতি ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অঙ্গ হিসাবে আমরা বাংলাদেশের মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। এর মধ্যে শান্তি, গণতন্ত্র, সবাইকে নিয়ে চলা এবং স্থায়িত্বের বিষয়টি রয়েছে। আমরা গঠনমূলকভাবে সব পক্ষের সঙ্গে জড়িত থাকব।
অন্যদিকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিক মানবধিকার সংগঠনগুলি বাংলাদেশের সরকারকে চিঠি দিয়েছিল। ইনক্লুসিভ নির্বাচনের জন্য। এমনকি বলা হয়েছিল, যে সমস্ত রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে, সেগুলি গণতন্ত্র বিরোধী। অর্থাৎ শেখ হাসিনার দল বা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিশ্বব্যাপি ওয়াকিবল। এমনকি তারা বারবার সচেতন করার চেষ্টা করছে বাংলাদেশের সরকারকে। ভারত থেকেও বারবার কূটনৈতিক ভাষায় বলা হয়েছে, ভারতও ইনক্লুসিভ নির্বাচন চায় বাংলাদেশে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকার সেই মনোভাব দেখাচ্ছে না। তবে হাসিনাকে ফেরৎ দেওয়া নিয়ে ভারত যে পরীক্ষা করছে, সেটা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার, এই বিষয়ে আসলে নয়া দিল্লি কি পদক্ষেপ করে! তবে এটা নিশ্চিত, কোনও অনির্বাচিত সরকারের হাতে হাসিনাকে ফেরত দেবে না ভারত। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসলে ভারত কূটনৈতিক ভাষায় বোঝাতে চাইছে, একমাত্র বাংলাদেশে ইনক্লুসিভ নির্বাচন হলেই এটা ভেবে দেখতে পারে। তবে শেষমেশ এখন দেখার, আদতে ভারত কি পদক্ষেপ করে!
প্রকাশ্যে গুলি। একবার নয়, একাধিকবার। বলা হচ্ছে গুলি মাথার এফোঁড় ওফোঁড় করে বেরিয়ে গিয়েছে। যারা গুলি চালিয়েছে, তারা এসেছিল বাইকের...
Read more












Discussion about this post