এক সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অন্দরে চলছে কোট মার্শাল। কেউ কেউ আবার প্রশ্ন তুলছেন, সেনাবাহিনীর ভিতরে কু হওয়ার সম্ভাবনা? আসলে বাংলাদেশের ক্যান্টনমেন্টের ভিতর চলছে একাধিক রহস্যজনক ঘটনা। যেগুলো বাংলাদেশের জনগণের অগোচরে করা হচ্ছে।
বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে খবর উঠে এসেছে, আওয়ামী লীগ সক্রিয় হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। এমনকি আওয়ামীলীগ আরো সক্রিয় হয়ে ওঠার জন্য এবং নেতাকর্মীদের মনবল চাঙ্গা করার জন্য ঢাকাতে বসেই প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। আর সেটি ঘিরে পুলিশের তরফ থেকে বয়ান পাওয়া যেতে শুরু করে। ৩১ শে জুলাই পুলিশ বলে, এই প্রশিক্ষণের কারা কারা যোগ দিয়েছিল সেই বিষয়ে তথ্য পেয়েছে বলে। অন্তত ২২ জনকে গ্রেফতার করে তারা। এমনকি এই প্রশিক্ষণে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন এক মেজর জেনারেল। তাকেও গ্রেফতার করে সেনাবাহিনী। তিনি মেজর সাদেক। তাকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
কিন্তু এরপরে প্রশ্ন উঠে, আওয়ামীলীগ ঢাকার মতো একটি জায়গাতে কিভাবে সংঘটিত হয়ে উঠল? মেজর সাদেক ঢাকার মত জায়গাতে প্রকাশ্যে বসে ৪০০ জন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের কিভাবে প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন? সেটা কি অস্ত্র প্রশিক্ষণ ছিল? নাকি পুরোটাই গুজব? এমনকি এই তথ্য ছিল, তারা ঢাকা এবং শাহবাগ দখল করে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার ছক কষছিল। এমনকি থাকার বসুন্ধরা এলাকাতেই নয়, ভাটারা, পূর্বাচল এবং কাঁটাবন এলাকাতেও এই প্রশিক্ষণ নাকি চলছিল। যদি তাই হয়ে থাকে, তবে কেন কোনও খবর পেলেন না ইউনুসের বাহিনী? এমনকি দাবি করা হচ্ছে, শামীমা নাসরিন নামে এক আওয়ামী লীগ নেত্রী, যার বাড়ি গোপাল গঞ্জে। তিনি নাকি ভাড়া করেছিলেন বসুন্ধরা আবাসনের ওই কনভেনশন হলটি। এমনকি আরেক জনকে পুলিশ গ্রেফতার করে তার নাম সোহেল রানা। তিনি বরগোনার যুবলীগের এক নেতা।
খবর রয়েছে, এই মেজর সাদেক নাকি কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি হয়েছেন। এই কোর্ট মার্শালের সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে কোনও জটিলতা তৈরি হলে বা কোনও সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে এখানে বিচার প্রক্রিয়া চালানো হয়। বিচারের মাধ্যমে সেখানে কোনও সেনা সদস্যকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, এমনকি মৃত্যুদন্ড হতে পারে। প্রসঙ্গত, জিয়ার আমলে ১৯৭৭ সালে দোসরা অক্টোবর বিমান বাহিনীর যে অভ্যুত্থান ঘটে, সেই অভ্যুত্থানটিতে শুধুমাত্র বলা হয়, ১৩০০ থেকে ১৫০০ সেনা কর্মকর্তাকে ফায়ারিং স্কোয়াডে বা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি সেই সেনা কর্তাদের কোনও দেহ পরিবারের হাতে দেওয়া হয়নি। এদিকে পরিবার করে মনে করেছিল, তারা নিখোঁজ রয়েছে। তাহলে কি সেরকমই সেনাবাহিনীর ভিতরে কোট মার্শাল ফের শুরু হল?
সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, মেজর সাদেকের পোস্টিং ছিল রামু ক্যান্টনমেন্টে। তিনি নাকি গত বছরের ৫ই অগাষ্ট থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তাহলে কেন তখন তার খোঁজ চালানো হয়নি? এমন প্রশ্ন উঠছে।
তবে যে ব্যাখ্যায় এবং ঘটনার কথা সামনে আসছে, সবগুলোতেই প্রশ্ন এবং কেউ কেউ ভিত্তিহীন বলে দাবি করছে। কারণ যে সরকার বারবার দাবি করেছে, যে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে সেই সরকারের আমলেই সেনাবাহিনী বলছে আওয়ামী লীগ সংঘটিত হয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে তাও আবার রাজধানীর মত ঢাকা এলাকাতে। প্রশ্ন অনেক। কিন্তু জবাব নেই।












Discussion about this post