সম্প্রতি খালিস্তানের মানচিত্র-সহ “ভারতকে ভেঙে ফেলার” আহ্বান জানিয়ে একটি বিতর্কিত পোস্ট করেছিলেন অস্ট্রিয়ান অর্থনীতিবিদ গুনথার ফেহলিঙ্গার-জান। এক্স হ্যান্ডলে তাঁর করা একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে দুনিয়াজুড়ে শুরু হয়েছে শোরগোল। এরপরই নড়েচড়ে বসে ভারত সরকার। তাঁর এক্স হ্যন্ডল তড়িঘড়ি ব্লক করে দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, গুনথার ভারতকে ধর্ম এবং জাতি ও ভাষার নিরিখে একাধিক ছোট ছোট দেশে ভেঙে দেওয়ার কথা বলেন। এ সংক্রান্ত একটি ম্যাপ তিনি পোস্ট করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রশ্ন উঠছে, এ ভাবে ভারতকে নিশানা করার নেপথ্যে কোনও বড় কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা। এই প্রশ্নেরই জবাব খুঁজছেন দুঁদে কূটনীতিক থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা। এর মধ্যেই অস্ট্রিয়ান অর্থনীতিবিদ বাংলাদেশের হয়ে ব্যাট ধরলেন। তিনি আরও একটি এক্স পোস্ট করে লিখলেন, “আমাদের ভারতের প্রয়োজন নেই। আমি ইউরিপীয় ইউনিয়নকে আহ্বান জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে। বাংলাদেশকে যদি আমরা মিত্র দেশ বানিয়ে নিতে পারি, তাহলে আর ভারতের প্রয়োজনই নেই”। সবমিলিয়ে একটা ভারতবিরোধী চক্রান্তের গন্ধ পেতে শুরু করেছেন কূটনৈতিক মহল।
কে এই গুনথার ফেহলিঙ্গার-জান? এই কূটনৈতিক কসোভো, বসনিয়া এবং অস্ট্রিয়ার ন্যাটো সদস্যপদ সংক্রান্ত অস্ট্রিয়ান কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দক্ষিণ বলকানের আঞ্চলিক অর্থনৈতিক একীকরণের জন্য অ্যাকশন গ্রুপের বোর্ডেও রয়েছেন।। যদিও ভারতের বিদেশমন্ত্রকের এক সূত্র দাবি করেছেন, “এটা এত গুরুত্ব কেন? সে একজন বোকা। তার কোনও সরকারি পদ নেই”। যদিও ২০২৪ সালের জুলাই মাসে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ৪১ বছরের মধ্যে প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অস্ট্রিয়া সফর করেছিলেন। কূটনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ মনে করছেন, গুনথার ফেহলিঙ্গার-জান আসলে একটা বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ মাত্র, তিনি খালিস্থানি আন্দোলনের খোলাখুলি সমর্থক। সেই কারণেই এক্স হ্যন্ডলে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ভারতকে ভেঙে দেওয়ার ডাক দিচ্ছি আমি। নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার লোক। আমাদের মুক্ত খালিস্তানের বন্ধু চাই’। তিনি যে মানচিত্রটি পোস্ট করেছেন, সেখানে দেখা যায়- উত্তর ভারত গোটাটাই খালিস্তান। এছাড়া মহারাষ্ট্র, অন্ধ্র, বিহার, গুজরাট, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপূর্ব ভারত, দক্ষিণ ভারতের কেরল, তামিলনাড়ু সব আলদা আলাদা পতাকার রঙে সজ্জিত। একটি পোস্টে তিনি এও লিখেছিলেন, ‘আজ আমি শিখ নেতার সঙ্গে ২ ঘণ্টা ধরে আলোচনা করেছি। কীভাবে খালিস্তান স্বাধীনতা অর্জন করতে পারে, তা নিয়ে কথা হয়েছে। ভারতকে ‘সাবেক ভারত’ বানাতে হবে। রাশিয়ারপন্থী স্বৈরশাসক নরেন্দ্র মোদির কবল থেকে ভারতের জনগণকে কীভাবে মুক্ত করা যায় তা নিয়ে কথা হয়েছে আমার। অর্থাৎ, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতোই তাঁর টার্গেট নরেন্দ্র মোদি। অনেকেই মনে করছেন, মার্কিন ডিপ স্টেটের একটি অংশ যারা এখনও বাংলাদেশকে সমর্থন করছে, তাঁদের হয়েই ব্যাট ধরেছেন অস্ট্রিয়ান এই কূটনৈতিক। তিনিও আসলে ডিপ স্টেটের অংশ। মোদিকে খোঁচা দিতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশ একটি উদীয়মান অর্থনীতি এবং ইউরোপের নতুন শিল্প ও বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে। এ সময় তিনি ভারতকে সরাসরি লক্ষ্য করে বলেন, আমাদের ভারতের আর প্রয়োজন নেই। বরং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়াই ইউরোপের ভবিষ্যৎ স্বার্থের পক্ষে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, একজন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক হওয়ার পরও কিভাবে তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলির বাণিজ্য নিয়ে সাওয়াল করেন। যাখানে বাংলাদেশের একমাত্র বলার মতো পোশাক শিল্প প্রায় ধ্বংসের পথে দাঁড়িয়ে। আসলে তিনি ভারতবিরোধী, নরেন্দ্র মোদি বিরোধী।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post