বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় আওয়ামী লীগের ডাকে চলছে লকডাউন। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী ঢাকা যেন ফিরে গিয়েছে ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলিতে। যারা রাস্তায় বের হয়েছেন, তাঁদের প্রতি পদে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর তল্লাশি মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রতিটি গাড়ি, মানুষকে তল্লাশি করা হচ্ছে। তাঁদের ব্যাগপত্র খুলে পরীক্ষা করা হচ্ছে। যেন রজ্জুতে সর্পভ্রম। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় বাসে আগুন, পথ অবরোধ সরকারি বেসরকারি অফিসে হামলার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। সবমিলিয়ে গোটা বাংলাদেশই এক অশান্ত পরিবেশের মধ্যে রয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল জানিয়ে দিল, আগামী ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করা হবে। কিন্তু এসবের আগেই একটা বড় ঘটনা ঘটে গিয়েছে সকলের নেপথ্যে। বুধবার রাতেই বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান দেখা করতে গিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে। যা নিয়ে রাতভর চলেছে আলোচনা। যেটা বলা হচ্ছে, তা হল বৃহস্পতিবার লকডাউন নিয়ে ঢাকা ও আশেপাশের এলাকার নিরাপত্তাজনিত বিষয়েই সেনাপ্রধান ও প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক হয়েছে। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ভিতরের খবর আলাদা এবং তা অত্যন্ত চমকপ্রদ।
যেটা জানা যাচ্ছে, ওই বৈঠকে জেনারেল ওয়াকার মুহাম্মদ ইউনূসকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, যে এবার সময় এসেছে তাঁর সরে চলে যাওয়ার। অর্থাৎ, মুহাম্মদ ইউনূসকে একটা চরমবার্তা দিয়ে এসেছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান। তিনি মুহাম্মদ ইউনূসকে জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশের যে অবস্থা এবং আন্তর্জাতিক যে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে তাতে আপনার ক্ষমতায় থেকে যাওয়া ঠিক হবে না। তাই আপনার সরে যাওয়া উচিৎ। এমনকি তিনি এটাও জানিয়ে এসেছেন, যে কোনও মুহূর্তে বাংলাদেশ সামরিক আক্রমণের শিকার হতে পারে। এমন সম্ভাবনা পুরোমাত্রায় তৈরি হয়ে রয়েছে। সম্ভবত সেনাপ্রধান ভারতের হামলার আশঙ্কা করছেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যাদের নেপথ্য উদ্যোগে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছিল গত বছরের আগস্ট মাসে। সেই মার্কিন ডিপ স্টেট এখন কার্যত অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে মার্কিন প্রশাসন তাঁদের নীতি বদলে দিয়েছে। এই খবরটাও স্পষ্ট করে সেনাপ্রধান জানিয়ে এসেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন নাকি অস্ত্রের মুখে যাবেন মুহাম্মদ ইউনূস?
উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগেই বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের সঙ্গে সে দেশের শীর্ষ জেনারেল বা সামরিক কর্তারা একটি বৈঠক করেছিলেন। তাতেই উঠে এসেছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বর্তমান অবস্থান কি হতে চলেছে। শীর্ষ জেনারেলদের একটা বড় অংশ জানিয়ে দিয়েছিলেন, আসন্ন নির্বাচন হতে হবে সুষ্ঠ, অবাধ এবং অন্তর্ভূক্তিমূলক। তাতে সব দলের অংশগ্রহন নিশ্চিত হতে হবে। তবেই সেনাবাহিনী সেই নির্বাচনে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। সূত্রের খবর, শীর্ষ জেনারেলদের এই বার্তালাপের একটি ভিডিও টেপ মুহা্ম্মদ ইউনূসের কাছে পৌঁছে যায়। আর এই খবর সামনে আসতেই জেনারেল পদমর্যাদার আধিকারিকরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন জেনারেল ওয়াকারের প্রতি। ফলে এই মুহূর্তে তাঁর হাত-পা বাঁধা। অপরদিকে মুহাম্মদ ইউনূস একজন ক্ষমতালোভী মানুষ, তিনি কোনও পদে একবার বসে গেলে আর তা ছাড়ার নাম করেন না। সেই মানুষ যে এত সহজে প্রধান উপদেষ্টার মতো লাভজনক পদ ছেড়ে চলে যাবেন সেটা কেউ বিশ্বাসও করছেন না। ফলে সমস্যাটা এখানেই।
তবে যেটা জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে এক ভয়ানক খেলা চলছে। প্রধান উপদেষ্টা তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে দ্রুত বঙ্গভবনে পাঠিয়েছিলেন বুধবার রাতেই। সেখানেও রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মধ্যে একপ্রস্ত আলোচনা হয়। জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে সেনাপ্রধানকে ম্যানেজ করানোর চেষ্টাও করেন বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু সেই চেষ্টা অসফল হয়েছে। জানা যাচ্ছে, বৈঠকে সেনাপ্রধান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন আগামী কালকের লক ডাউনে সেনাবাহিনী কোনো প্রকার পদক্ষেপ নিতে পারবে না, এবং অসাংবিধানিক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের পদত্যাগ করতে হবে। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুও সেনাপ্রধানের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বৈঠকের মাঝপথেই বঙ্গভবন ছেড়ে বেরিয়ে যান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। এখন দেখার রাষ্ট্রপতি কি সিদ্ধান্ত নেন। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন খুব শীঘ্রই বাংলাদেশ বড় কোনও ঘটনার সম্মুখিন হতে চলেছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post