জাতীয় সংসদের নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি করেছিল ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি’। অন্যদিকে, খালেদা জিয়ার দল বিএনপি দাবি জানিয়ে আসছিল, জাতীয় সংসদের ভোটের দিনেই গণভোট হোক। যা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে চলছিল জোর চর্চা। বুধবারই জানা গিয়েছিল, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন বৃহস্পতিবার দুপুরে। এদিনই ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে শেথ হাসিনার বিরুদ্ধে এক মামলার রায়দানের তারিখ জানানোর কথা ছিল। ফলে প্রধান উপদেষ্টার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ নিয়ে কৌতুহলও সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। এদিন তিনি অনেক কথাই বললেন, তবে তার মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বাংলাদেশে আসন্ন ভোটের দিনেই গণভোট হবে বলে জানিয়ে দিলেন প্রধান উপদেষ্টা। অর্থাৎ বিএনপির দাবিই মান্যতা পেল।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস বৃহস্পতিবার ঘোষণা করলেন আগে-পরে নয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, আমরা সকল বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোটের আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের মতো গণভোটও ফেব্রুয়ারির প্রথমার্থে একইদিনে অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, প্রধান উপদেষ্টার দাবি অনুযায়ী, বাংলাদেশে গণভোটে চারটি বিষয়ের উপরে হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য অঙ্গীকারনামা অনুসারে সংবিধানে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে পদক্ষেপ করা হবে বলে জানান তিনি। মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, আগামী সংসদ দুই কক্ষ বিশিষ্ট করা হবে কিনা, সংসদে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি হবে কিনা, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা হবে কিনা। আবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি-সহ যে ৩০টি প্রস্তাব জুলাই জাতীয় সনদে রয়েছে তা পালন করার জন্য জয়ী দল বাধ্য থাকবে কি না সেই সংস্ক্রান্ত বিষয় এবং জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কারের বাস্তবায়ন সম্পর্কিত বিষয়েই ঠিক করা হবে এই প্রশ্নগুলি। ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ এই দুই জবাবের মধ্যে একটি বেছে নিয়ে ভোট দেবেন। মুহাম্মদ ইউনুসের ঘোষণা অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকার-বিএনপির দাবিতেই সিলমোহর দিল। অন্তর্বর্তী সরকারের এই সিদ্ধান্তকে জামাত-ই ইসলামি ও তাঁদের আট দলের জোট কীভাবে নেবে সেটাই এখন দেখার।
যদিও মুহাম্মদ ইউনূস এদিন দাবি করেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামা অনুসারে সংবিধানে জুলাই জাতীয় সনদ অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এটিও আজকে অনুমোদিত আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, প্রধান উপদেষ্টার এই ভাষণের পর বাংলাদেশের রাজনীতি অন্য দিকে মোড় নিতে পারে। কারণ, জামাত এটা এত সহজে মেনে নেবে না। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ইতিমধ্যেই মুখ খুলেছেন। বৃহস্পতিবারই তিনি এক সভায় বলেন, জনগণের অভিপ্রায় ও গণদাবিকে উপেক্ষা করে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রধান উপদেষ্টার এ ঘোষণায় জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি।
বোঝাই যাচ্ছে, জামাত এটা ভালো ভাবে নেয়নি। আবার বিএনপি এতে উচ্ছ্বসিত। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও স্বমহিমায় ফিরেছে। সবমিলিয়ে ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনীতির সব গতিপ্রকৃতির মোড় ঘুরিয়ে দিল এটা বলাই বাহুল্য। সামনে যে একটা কঠিন সময় আসছে, সেটাও বলা যায়।












Discussion about this post