যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি যে এই ঘটনায় কতটা ক্ষিপ্ত হয়েছেন, সেটা তার পোষ্ট দেখে পরিষ্কার। তিনি তার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রতিক্রিয়া জানান।
নিউ ইয়র্কের ঘটনায় মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর ফেসবুক পোষ্টে শেখ হাসিনার দলের সমালোচনা করেন। শুধু তাই নয়, তিনি লেখেন, নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে যা ঘটেছে তা আবারও প্রমাণ করল – আওয়ামী লীগ তাদের অন্যায়ের জন্য বিন্দুমাত্র অনুশোচনা করে না। আওয়ামী লীগ আজ পর্যন্ত যা অন্যায় করেছে সবকিছুর বিচার আইনের মাধ্যমে হবে। দল ও দেশের স্বার্থে ধৈর্য ধরুন । জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গী হিসেবে আখতার হোসেন সেখানে পৌঁছন। বিমানবন্দরের ৪ নং টার্মিনাল থেকে বের হওয়ার পরই এই ঘটনা ঘটে। আখতার হোসেনের সঙ্গে হাঁটছিলেন সফরসঙ্গী হিসেবে আসা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা, কর্মী ও সমর্থকেরা এই সময় তাসনিম জারাকে লক্ষ্য করে বিভিন্নভাবে কটূক্তি করেন। পাশাপাশি তারা সেখানে বিক্ষোভ দেখান। পরপর দুটি ডিম ছোঁড়া হয়। জানা যায়, এনসিপি নেতা আখতার হোসেনের পিঠে ডিমগুলো লাগে । তবে কোনও প্রতিক্রিয়া না দেখিয়েই নাকি তিনি হেঁটে যান। এমনকি বিক্ষোভকারীরা গাড়ির সামনে শুয়ে পড়ে। প্রত্যেকে মিলে জয় বাংলা স্লোগান দিতে থাকে। এমনকি নিউ ইয়র্ক পুলিস তাদের বাধা দেয় ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জানা যায়, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান ডিম ছোড়েন। এই ঘটনায় পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, এর আগেও প্রধান উপদেষ্টা মুহম্মদ ইউনূস বিদেশ সফরে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন। এবারও তেমনটাই আশঙ্কা করা হয়েছিল। আর সেই আশঙ্কায় পদে পদে মিলে গেল। আমেরিকা সফরে আওয়ামি লীগের বিক্ষোভ সামলাতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামির দুই শীর্ষ নেতা এবং এনসিপির দুই নেতা-নেত্রীকে মানব ঢাল করে নিয়ে গিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মুদ ইউনূস। কিন্তু তাতেও রক্ষা হল না। জানা গিয়েছে, জামাতপন্থী একজন ব্লগারকে লাঞ্ছিত করেছে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। জানা যায়, আমেরিকার স্থানীয় সময় ২ সময়, বিমানবন্দরে ল্যান্ড করার কথা ছিল প্রধান উপদেষ্টার, তখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যেমন বিমানবন্দরের বাইরে বিক্ষোভ করেছেন। ঠিক একইভাবে বিএনপি এবং জামাতের বেশ কিছু সমর্থক জড়ো হয়ে স্বাগত জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টাকে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ এসে ব্লগার মাসুদ রহমানকে উদ্ধার করে। এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, যেভাবে আওয়ামী লীগ বিদেশের মাটিতে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করছে, তাতে আদেও কি মুহম্মুদ ইউনূস র্নিবিঘ্নে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে পারেবেন? তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেখ হাসিনার দল যে সক্রিয় হয়ে উঠেছে, এবং তারা বড় পরিকল্পনা করছে, সেটা পরিষ্কার।












Discussion about this post