শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনকালে জোরপূর্বক গুম, গোপনে আটক এবং নির্যাতনের মতো অভিযোগে অভিযুক্ত ১৪ জন কর্মকর্তাকে হেফাজতে নিয়েছে সেনাবাহিনী। তাঁদের ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ভিতর কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে। যাতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার আওতায় রাখা যায় তা নিশ্চিত করতে সোমবার থেকে ঢাকা সেনানিবাসের একটি অফিসার মেসের দেওয়ালের পাশে বিশেষ কন্সার্টিনা বেড়া স্থাপন শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। কয়েকটি ছবিতে দেখা গিয়েছে ঢাকা সেনানিবাসের বাইরে শ্রমিকরা কয়েকটি ধাতব রডে ওয়াই আকৃতির পাত বসাচ্ছেন। সেখানেই এই বিশেষ কনসার্টিনা তার ব্যবহার করা হবে। যা ওই সেনানিবাসে প্রাচীরের পৃষ্ঠ থেকে ৭ মিটার উপরে স্থাপন করা হবে। এর ফলে সেনানিবাসের নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত করা যাবে এবং সম্ভাব্য অনুপ্রবেশকারীদের প্রবেশও রোধ করা যাবে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি সামনে আসছে সেটা হল, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অভিযুক্ত সেনা কর্মকতাদের পুলিশে হস্তান্তর করবে না। ঢাকা সেনানিবাস-অবস্থিত মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস ভবনকে সাব-জেল হিসেবে চিহ্নিত করে ১৪ জন কর্মরত কর্মকর্তা-সহ ২৪ জন সেনা কর্মকর্তার বিচার করা হবে। এই ভবনটি বাশার রোডের কাছে অবস্থিত। বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১২ অক্টোবর রাতেই এই মর্মে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। তাতে বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এই আদেশ জারি করা হলো। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর অর্থ হল এই “সাব-জেলে” সমস্ত তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে। এখানেই পাবলিক প্রসিকিউটর এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সমস্ত সাক্ষী এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং জেরা করবেন। বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, সেনকর্তাদের সিভিল আদালতে অন্যান্য আসামীদের সঙ্গে হাজির করানো এবং সেখানেই বিচার করা নিয়ে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল সেটা কমাতেই একটা আপসমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হল। ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরে একটি “সাব-জেল” স্থাপন করে সেখানেই তাঁদের বিচার প্রক্রিয়া চালানো আসলে মুখ রক্ষাকারী একটি কৌশল। এতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের মামলায় বিচারাধীন অবস্থায় ২৪ জন সেনা কর্মকর্তার সম্ভাব্য অপমান কমিয়ে আনবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
এই ২৪ সেনাকর্তার বিচার নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কার্যত উত্তাল। এই পরিস্থিতিতে গুরুতর কিছু ঘটতে পারে এই আশঙ্কায় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান একের পর এক বিদেশ সফর বাতিল করছেন। এর মধ্যেই খবর পাওয়া যাচ্ছে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের চার সদস্যের একটি দল ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবরের মধ্যে দুই দিনের সফরে ঢাকায় যাচ্ছেন। এই দলটির নেতৃত্ব দেবে ভারতীয় সেনার মেজর জেনারেল কুন্দন কুমার সিং। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঢাকায় দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি হবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের প্রথম বড় সফর। ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা বিভাগের এই চারজন কর্মকর্তা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সাথে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন বলেই জানা গিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এবং বিমান বাহিনী, পাশাপাশি ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স, আর্মি এভিয়েশন গ্রুপ এবং ১০ম পদাতিক ডিভিশন সদর দফতরের সেনাকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক। সূত্রের খবর, এমন একটা চরম সময়ে ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা কর্তাদের এই ঢাকা সফর সে দেশের কূটনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও রাজনৈতিক মহলে একটা অস্থিরতা ও সন্দেহের বাতাবরণ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই কৌতুহলি কেন এই সময়ে ভারতের মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স কর্তারা বাংলাদেশে আসছেন। তবে কি প্রবল চাপে থাকা জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে অক্সিজেন দিতে চাইছে নয়া দিল্লি? এই প্রশ্নও উঠছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post