বাংলাদেশ কি এখন এতটাই অস্থির এবং অরাজক অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, যে আমেরিাকার দূতাবাসও আশঙ্কায় আছে, যে দুতাবাসের নিরাপত্তা, বাংলাদেশের যে কোন স্থাপনার নিরাপত্তার থেকে অনেক বেশী। নাকি এই অস্থিরতার সূযোগ নিয়ে, গুজব ছড়িয়ে মার্কিন সেনা চাইছে যে তারা বাংলাদেশে শুধু সেন্ট মার্টিন বা চট্টোগ্রাম বন্দর নয়, পুরো বাংলাদেশে তাদের দখলদারি বাড়াতে। কারণ তারা সরকারকে ইতিমধ্যেই বলে দিয়েছে যে তারা বাংলাদেশের পুলিশ বা সেনাবাহীনির উপর ভরসা না করে নিজেদের সুরক্ষার ব্যাপারটি তারা নিজেরাই দেখবে।তারা নাকি এই অস্থির সময়ে বাংলাদেশের কোন সংস্থার উপরই ভরসা করতে পারছে না।বহু আগে এই আশঙ্কার কথা সেনাপ্রধানও বলেছিলেন যে যদি নিজেরাই নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি করি তাহলে দেশের সার্বোভৌমত্ব স্থিতিশিলতা নষ্ট হবে। এবং পুলিশ সহ বিভিন্ন সংস্থাগুলির উপর যে গুম খুনের মাললা চলছে সেগুলির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিচার হবে, কিন্তু কোন ভাবেই এই সংস্থাগুলিকে আন্ডার মাইন না করে।অর্থাৎ সেনাপ্রধান বিচারের বিরুদ্ধে ছিলেন না। তিনি চেয়েছিলেন দেশকে যারা রক্ষা করতে সদা ব্যস্ত সেই সংস্থাগুলি যেন ভেঙে না পড়ে। কিন্তু বর্তমান সরকার এবং বিচার ব্যবস্থা সেনাবাহীনিকে না জানিয়েই সেনার বহু বর্তমান এবং প্রাক্তন সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরয়ানা জারি করে মামলা শুরু করেছে। যাতে করে সেনাসদর স্বিকার করছে যে তাদের আন্ডার মাইন্ড করা হয়েছে এবং তারা অনেকেই বিভ্রান্ত। আর এই সময়ে অনেক পক্ষই নানা রকম হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই প্রস্তুতির ফল হিসাবে যদি মার্কিন দুতাবাসে হামলা করা হয়, তখন আমেরিকা যে সুযোগটি চাইছিল, যে বাংলাদেশ অস্থির হয়ে আছে তাই তারা দায়িত্ব নিতে বাধ্য হচ্ছে, বলে আরও মার্কিন সেনাকে বাংলাদেশে ডিপ্লয় করে, তাহলে এই পুতুল সরকারে কিছুই বলার থাকবে না। এবং এই আমেরিকা বা অন্য আগ্রাসন কারি দেশগুলি কখনই অন্য দেশের শান্তির কথা ভাবে না, তারা কেবল নিজেদের স্বার্থের কথাই ভাবে। সেখানে বাংলাদেশ আরও অরাজক হয়ে উঠবে এবং মার্কিনিরা তাদের স্বার্থকে বেশী করে কায়েম করবে।
যদিও দূতাবাসের অভিযোগের পর রাজধানীর বারিধারা এলাকায় দূতাবাসটিতে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) টিম, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও পুলিশের বাড়তি সদস্য সংখ্যা মোতায়ন করা হয়েছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এলাকায় ডিএমপির গুলশান বিভাগের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা নিজে উপস্থিত থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করছেন। সোমবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটায় ডিএমপির গুলশান বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডিসি) আলী আহমেদ মাসুদ গণমাধ্যমকে বলেন, এটা আমাদের রুটিন ডিউটি, মাঝেমধ্যে আমাদের মনে হলে নিরাপত্তা জোরদার করি। এখানে ডিএমপির সোয়াট ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট মোতায়েন আছে। এছাড়া আমিও দূতাবাসের সামনে আছি।
মার্কিন দূতাবাসকে কেন্দ্র করে বিশেষ কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে কিনা বা থ্রেট আছে কিনা— জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাঝেমধ্যে এ রকম মনে হয় না। আবার মনে হলে এটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।
তবে পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে হামলার পরিকল্পনা করছিল একটি গোষ্ঠী। হামলা করতে পারে— এমন তিনজনের পরিচয় ইতোমধ্যে নিজস্ব তদন্তের বরাতে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। এই তিনজনের নামপরিচয় ঠিকানা ও ছবিসহ তথ্য পেয়েছে দূতাবাস। এই তিনজনই বাংলাদেশি নাগরিক। পরে দূতাবাসের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের কাছে একটি চিঠি দেওয়া হয়। এছাড়া এই সন্দেহভাজন তিনজনের নামপরিচয় পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়।ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসে কোনো বিশেষ ধর্ম পালনকারী কর্মীকে বা বাংলাদেশি কর্মীকে অপহরণ করে হত্যা এবং দূতাবাসে হামলার পরিকল্পনার গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর ড. মুহাম্মদ ইউনুস নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নড়ে চড়ে বসেছে। আর এরপরই গ্রেপ্তার হন শামীন মাহফুজ।
আন্তঃরাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ দমনে কাজ করেন এমন অন্তত চারজন ব্যক্তি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।












Discussion about this post